
শেখ রাফসান, মোংলা প্রতিনিধিঃ
জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলা, উপকূলীয় পরিবেশ সুরক্ষা এবং পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাগেরহাটের মোংলা উপজেলায় ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে নবলোক পরিষদ।
নবলোক পরিষদ কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন এবং পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর সহযোগিতায় পরিচালিত “Resilient Homesteads and Livelihood Support to the Vulnerable Coastal People of Bangladesh (RHL)” প্রকল্পের আওতায় উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর বসতভিটার চারপাশে প্রাকৃতিক সুরক্ষা বেষ্টনী গড়ে তোলা এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার লক্ষ্যে ফলজ ও ঔষধি গাছের চারা ও কলম বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
প্রকল্পের আওতায় গত ২২ জুন থেকে আগামী ২৫ জুন ২০২৬ পর্যন্ত মোংলা উপজেলার চারটি ইউনিয়নের ৫৬০ জন উপকারভোগীর মাঝে মোট ৩ হাজার ৯২০টি গাছের চারা ও কলম বিতরণ করা হচ্ছে। প্রত্যেক উপকারভোগীকে ২টি নারিকেল চারা, ২টি সুপারি চারা, ১টি সফেদা কলম, ১টি বেল কলম এবং ১টি নিম গাছের চারা প্রদান করা হচ্ছে। পাশাপাশি চারাগুলোর সুরক্ষা ও সংরক্ষণের জন্য প্রত্যেককে ১৯.৫ গজ ব্লু-নেট সরবরাহ করা হচ্ছে।
চারা ও ব্লু-নেট বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ হলদিবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেব কুমার মণ্ডল, আরএইচএল প্রকল্পের ফোকাল পারসন মো. মোস্তাফিজুর রহমান, নবলোক পরিষদের এরিয়া ম্যানেজার মো. শহিদুল ইসলাম (বাগেরহাট-৩), প্রকল্প সমন্বয়কারী কাজী তোবারক হোসেনসহ প্রকল্পের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি মোকাবেলায় বসতভিটায় বৃক্ষরোপণ অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। একই সঙ্গে ফলজ ও ঔষধি গাছ মানুষের পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
নবলোক পরিষদের নির্বাহী পরিচালক কাজী রাজীব ইকবালের ঘোষণার আলোকে আগামী অক্টোবর ২০২৬ সালে উপকারভোগীদের মধ্যে একটি যাচাই কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এ কার্যক্রমে যেসব উপকারভোগী প্রকল্প থেকে প্রাপ্ত ৭টি চারা এবং নিজ উদ্যোগে সর্বনিম্ন ৩ টি চারা রোপণ ও জীবিত রাখতে সক্ষম হবেন, অর্থাৎ মোট কমপক্ষে ১০টি গাছ সংরক্ষণ করবেন, তাদেরকে বিশেষ পুরস্কারে ভূষিত করা হবে।
বিনামূল্যে গাছের চারা পেয়ে উপকারভোগীরা সন্তোষ ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। তারা গাছগুলোর নিয়মিত পরিচর্যা ও সংরক্ষণের মাধ্যমে পরিবেশ উন্নয়ন ও সবুজায়নে ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে ৪ হাজার ২০০ জন উপকারভোগী সদস্য, ৩৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২০টি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসা এবং সোনাইলতলা ইউনিয়নের রাস্তার পাশে ১ হাজার ৫০০টি গাছের চারাসহ মোট ২৮ হাজার ২৫৫টি গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে। বর্তমান পর্যায়ের ৩ হাজার ৯২০টি চারা বিতরণ সম্পন্ন হলে জুন ২০২৬ পর্যন্ত মোট ৩২ হাজার ১৭৫টি গাছের চারা বিতরণ সম্পন্ন হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলার পাশাপাশি পরিবেশগত উন্নয়ন, সবুজায়ন এবং টেকসই জীবিকা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রতিবেদকের নাম 



















