Dhaka ০৫:১৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
ফেইসবুকে ইসলাম ও নবীজিকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য বিচার চেয়ে উত্তেজিত জনতার বিক্ষোভ মিছিল পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি হয়ে উঠেছে বনভূমি দখল সচেতনতার অভাবে একটি শিশুও যেন ঝুঁকিতে না পড়ে: ডিসি ফরিদা গাউসিয়া হক ভাণ্ডারী খানকাহ শরীফের ব্যবস্থাপনায় ৫দিন ব্যাপী শোহাদা-ই কারবালা মাহফিলের ৩য় দিবস সম্পন্ন তারাগঞ্জে শিশু সানজিদা হত্যার রহস্য উন্মোচন, ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার বিস্ফোরক মামলায় ছাত্রলীগ নেতা গ্রেফতার কালশীতে ট্রাফিক পুলিশের তৎপরতায় স্বর্ণালঙ্কার ও মোবাইলসহ ছিনতাইকারী আটক তেকানীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল মনপুরায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের অপতৎপরতার প্রতিবাদে উপজেলা যুবদলের বিক্ষোভ মিছিল যত্রতত্র বর্জ্য ফেলা বন্ধে ডিএসসিসি, বিডি ক্লিন ও রেড ক্রিসেন্টের যৌথ সচেতনতামূলক কার্যক্রমের উদ্বোধন

মোংলার ৪টি ইউনিয়নে বৃক্ষরোপণ: উপকূলের সুরক্ষায় ৩২ হাজার চারা বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা

শেখ রাফসান, মোংলা প্রতিনিধিঃ

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলা, উপকূলীয় পরিবেশ সুরক্ষা এবং পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাগেরহাটের মোংলা উপজেলায় ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে নবলোক পরিষদ।

নবলোক পরিষদ কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন এবং পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর সহযোগিতায় পরিচালিত “Resilient Homesteads and Livelihood Support to the Vulnerable Coastal People of Bangladesh (RHL)” প্রকল্পের আওতায় উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর বসতভিটার চারপাশে প্রাকৃতিক সুরক্ষা বেষ্টনী গড়ে তোলা এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার লক্ষ্যে ফলজ ও ঔষধি গাছের চারা ও কলম বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

প্রকল্পের আওতায় গত ২২ জুন থেকে আগামী ২৫ জুন ২০২৬ পর্যন্ত মোংলা উপজেলার চারটি ইউনিয়নের ৫৬০ জন উপকারভোগীর মাঝে মোট ৩ হাজার ৯২০টি গাছের চারা ও কলম বিতরণ করা হচ্ছে। প্রত্যেক উপকারভোগীকে ২টি নারিকেল চারা, ২টি সুপারি চারা, ১টি সফেদা কলম, ১টি বেল কলম এবং ১টি নিম গাছের চারা প্রদান করা হচ্ছে। পাশাপাশি চারাগুলোর সুরক্ষা ও সংরক্ষণের জন্য প্রত্যেককে ১৯.৫ গজ ব্লু-নেট সরবরাহ করা হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  প্রকৌশলী শোয়েব বাশরি হাবলুকে ঢাকাস্থ বাউফল জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ফুলেল শুভেচ্ছা

চারা ও ব্লু-নেট বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ হলদিবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেব কুমার মণ্ডল, আরএইচএল প্রকল্পের ফোকাল পারসন মো. মোস্তাফিজুর রহমান, নবলোক পরিষদের এরিয়া ম্যানেজার মো. শহিদুল ইসলাম (বাগেরহাট-৩), প্রকল্প সমন্বয়কারী কাজী তোবারক হোসেনসহ প্রকল্পের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি মোকাবেলায় বসতভিটায় বৃক্ষরোপণ অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। একই সঙ্গে ফলজ ও ঔষধি গাছ মানুষের পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

আরও পড়ুনঃ  কাউনিয়ায় কৃষকদের মাঝে রোপা আমন ধানের বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ

নবলোক পরিষদের নির্বাহী পরিচালক কাজী রাজীব ইকবালের ঘোষণার আলোকে আগামী অক্টোবর ২০২৬ সালে উপকারভোগীদের মধ্যে একটি যাচাই কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এ কার্যক্রমে যেসব উপকারভোগী প্রকল্প থেকে প্রাপ্ত ৭টি চারা এবং নিজ উদ্যোগে সর্বনিম্ন ৩ টি চারা রোপণ ও জীবিত রাখতে সক্ষম হবেন, অর্থাৎ মোট কমপক্ষে ১০টি গাছ সংরক্ষণ করবেন, তাদেরকে বিশেষ পুরস্কারে ভূষিত করা হবে।

বিনামূল্যে গাছের চারা পেয়ে উপকারভোগীরা সন্তোষ ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। তারা গাছগুলোর নিয়মিত পরিচর্যা ও সংরক্ষণের মাধ্যমে পরিবেশ উন্নয়ন ও সবুজায়নে ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

আরও পড়ুনঃ  ভুরুঙ্গামারী হাটে যানজট নিরসনে ইউএনও অমৃত দেবনাথের বিশেষ অভিযান

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে ৪ হাজার ২০০ জন উপকারভোগী সদস্য, ৩৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২০টি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসা এবং সোনাইলতলা ইউনিয়নের রাস্তার পাশে ১ হাজার ৫০০টি গাছের চারাসহ মোট ২৮ হাজার ২৫৫টি গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে। বর্তমান পর্যায়ের ৩ হাজার ৯২০টি চারা বিতরণ সম্পন্ন হলে জুন ২০২৬ পর্যন্ত মোট ৩২ হাজার ১৭৫টি গাছের চারা বিতরণ সম্পন্ন হবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলার পাশাপাশি পরিবেশগত উন্নয়ন, সবুজায়ন এবং টেকসই জীবিকা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

ফেইসবুকে ইসলাম ও নবীজিকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য বিচার চেয়ে উত্তেজিত জনতার বিক্ষোভ মিছিল

মোংলার ৪টি ইউনিয়নে বৃক্ষরোপণ: উপকূলের সুরক্ষায় ৩২ হাজার চারা বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা

আপডেটের সময়: ০৫:৩৪:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

শেখ রাফসান, মোংলা প্রতিনিধিঃ

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলা, উপকূলীয় পরিবেশ সুরক্ষা এবং পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাগেরহাটের মোংলা উপজেলায় ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে নবলোক পরিষদ।

নবলোক পরিষদ কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন এবং পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর সহযোগিতায় পরিচালিত “Resilient Homesteads and Livelihood Support to the Vulnerable Coastal People of Bangladesh (RHL)” প্রকল্পের আওতায় উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর বসতভিটার চারপাশে প্রাকৃতিক সুরক্ষা বেষ্টনী গড়ে তোলা এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার লক্ষ্যে ফলজ ও ঔষধি গাছের চারা ও কলম বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

প্রকল্পের আওতায় গত ২২ জুন থেকে আগামী ২৫ জুন ২০২৬ পর্যন্ত মোংলা উপজেলার চারটি ইউনিয়নের ৫৬০ জন উপকারভোগীর মাঝে মোট ৩ হাজার ৯২০টি গাছের চারা ও কলম বিতরণ করা হচ্ছে। প্রত্যেক উপকারভোগীকে ২টি নারিকেল চারা, ২টি সুপারি চারা, ১টি সফেদা কলম, ১টি বেল কলম এবং ১টি নিম গাছের চারা প্রদান করা হচ্ছে। পাশাপাশি চারাগুলোর সুরক্ষা ও সংরক্ষণের জন্য প্রত্যেককে ১৯.৫ গজ ব্লু-নেট সরবরাহ করা হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  কাউনিয়ায় উপজেলা শিক্ষা উন্নয়ন কমিটির সভা

চারা ও ব্লু-নেট বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ হলদিবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেব কুমার মণ্ডল, আরএইচএল প্রকল্পের ফোকাল পারসন মো. মোস্তাফিজুর রহমান, নবলোক পরিষদের এরিয়া ম্যানেজার মো. শহিদুল ইসলাম (বাগেরহাট-৩), প্রকল্প সমন্বয়কারী কাজী তোবারক হোসেনসহ প্রকল্পের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি মোকাবেলায় বসতভিটায় বৃক্ষরোপণ অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। একই সঙ্গে ফলজ ও ঔষধি গাছ মানুষের পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

আরও পড়ুনঃ  প্রকৌশলী শোয়েব বাশরি হাবলুকে ঢাকাস্থ বাউফল জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ফুলেল শুভেচ্ছা

নবলোক পরিষদের নির্বাহী পরিচালক কাজী রাজীব ইকবালের ঘোষণার আলোকে আগামী অক্টোবর ২০২৬ সালে উপকারভোগীদের মধ্যে একটি যাচাই কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এ কার্যক্রমে যেসব উপকারভোগী প্রকল্প থেকে প্রাপ্ত ৭টি চারা এবং নিজ উদ্যোগে সর্বনিম্ন ৩ টি চারা রোপণ ও জীবিত রাখতে সক্ষম হবেন, অর্থাৎ মোট কমপক্ষে ১০টি গাছ সংরক্ষণ করবেন, তাদেরকে বিশেষ পুরস্কারে ভূষিত করা হবে।

বিনামূল্যে গাছের চারা পেয়ে উপকারভোগীরা সন্তোষ ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। তারা গাছগুলোর নিয়মিত পরিচর্যা ও সংরক্ষণের মাধ্যমে পরিবেশ উন্নয়ন ও সবুজায়নে ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

আরও পড়ুনঃ  সাহায্য চেয়ে কেমিক্যাল প্রয়োগ; শয়তানের নিঃশ্বাস চক্রের তিন সদস্য গ্রেফতার

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে ৪ হাজার ২০০ জন উপকারভোগী সদস্য, ৩৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২০টি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসা এবং সোনাইলতলা ইউনিয়নের রাস্তার পাশে ১ হাজার ৫০০টি গাছের চারাসহ মোট ২৮ হাজার ২৫৫টি গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে। বর্তমান পর্যায়ের ৩ হাজার ৯২০টি চারা বিতরণ সম্পন্ন হলে জুন ২০২৬ পর্যন্ত মোট ৩২ হাজার ১৭৫টি গাছের চারা বিতরণ সম্পন্ন হবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলার পাশাপাশি পরিবেশগত উন্নয়ন, সবুজায়ন এবং টেকসই জীবিকা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।