
এসকে শুভ,স্টাফ রিপোর্টার গাজীপুর: বন বিভাগের পক্ষ থেকে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির ঘোষণা থাকলেও গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা বনবিট এলাকায় তার কোনো বাস্তব প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। স্থানীয়দের অভিযোগ, বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দালালচক্রের যোগসাজশে সংরক্ষিত বনভূমি দখল ও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ যেন প্রতিযোগিতায় পরিণত হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, বন কর্মকর্তাদের একটি অংশের সঙ্গে ভূমিদস্যুদের আঁতাতের কারণে বনভূমি দখলের প্রবণতা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। প্রকাশ্যে ঘরবাড়ি ও বহুতল ভবন নির্মাণ হলেও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, কালিয়াকৈর রেঞ্জের চন্দ্রা বনবিটের সংরক্ষিত কয়েক হাজার বিঘা জমি স্থানীয় প্রভাবশালী মহল, দালাল ও তদবিরকারীদের সহযোগিতায় দখল করা হচ্ছে। শুধু জমি দখলই নয়, দখলকৃত জমি মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে একটি চক্র বিপুল অর্থের মালিক হয়ে উঠছে। সরেজমিনে দেখা যায়, কারল সুরিচালা দারুল উলুম মাদ্রাসা ও এতিমখানার পূর্ব পাশে সংরক্ষিত বনভূমির আরএস গেজেটভুক্ত জমিতে আবু সাঈদ মন্ডল নামে এক ব্যক্তি ইটের দেয়াল তুলে ফাউন্ডেশন করে দশ রুম বিশিষ্ট বাড়ি নির্মাণ করছেন।
এছাড়াও পাশাগেটের মুন্সিটেক এলাকায় জাহাঙ্গীর আলম টিনশেড বাড়ি নির্মাণ করেছেন। বোর্ডমিল এলাকায় রেনুর বাড়ির পাশে জামাল নামে এক ব্যক্তি বহুতল ভবন নির্মাণ করেছেন। বিশ্বাসপাড়ার জিকজ্যাক মাঠের পশ্চিম পাশে নুরজাহান নামে এক নারী বহুতল ভবন নির্মাণ করেছেন। কালামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রাস্তার মুখে সাইফুল নামের এক ব্যক্তি টিনশেড ঘর তুলেছেন। এছাড়াও বনভূমির সীমানা সংলগ্ন এলাকায় ডিমারকেশন ছাড়াই ডং ব্যাং গেট সংলগ্ন মোল্লারটেক এলাকায় জসিম উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি শাল-গজারি বাগান ঘেঁষে দুইতলা ভবনের ফাউন্ডেশন করে বাড়ী নির্মাণ করেছেন। এছাড়াও জসিম উদ্দিন এর নির্মাণাধীন বাড়ীর সামনেই গজারি বনের ভেতরে আরও ১০ থেকে ১২টি নতুন টিনসেট বাড়ী নির্মাণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, গত কয়েক দিনে একের পর এক অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠলেও চন্দ্রা বিট অফিসের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বনের জমিতে বাড়ি নির্মাণের বিষয়ে আবু সাঈদ মন্ডল বলেন, “১৯৫৬ সালের দলিল থাকলেও আরএস রেকর্ড বনের নামে রয়েছে। বিট অফিসের সঙ্গে কথা বলেই কাজ করছি। চন্দ্রা বিট কর্মকর্তা ইকবাল স্যার আপনার নম্বর দিয়ে বলেছেন, আপনার সঙ্গে কথা বলে কিছু দিয়ে সমাধান করতে।
সুরিচালা এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, “বনের জমিতে ঘর করতে টাকা-পয়সা ছাড়া সম্ভব না। আবু সাঈদ মন্ডলের কাজ দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। পরে চার লাখ টাকার বিনিময়ে কাজ শুরু হয়েছে বলে শুনেছি। এর মধ্যে বন প্রহরী মিনহাজের মাধ্যমে দুই লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে, বাকি টাকা কাজ শেষ হলে দেওয়া হবে। যারা বন রক্ষা করবে, তারাই এখন বনভূমি দখলের সঙ্গে জড়িত। জবরদখলের বিষয়ে জানতে চাইলে চন্দ্রা বিট কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন প্রতিবেদককে সামনাসামনি সাক্ষাৎ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বনভূমি দখলের ঘটনাগুলো যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এদিকে, বন প্রহরী মিনহাজ হোসেনের বিরুদ্ধে জবরদখলকারীদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করে বিষয়টি এড়িয়ে যান। ঢাকা বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক ও কালিয়াকৈর রেঞ্জ কর্মকর্তা শাহিদুল ইসলাম শাকিল বলেন, “অভিযোগের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বনভূমির জমি জবরদখলের কোনো সুযোগ নেই। স্থানীয় পরিবেশবাদীদের দাবি, দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে সংরক্ষিত বনাঞ্চল অস্তিত্ব সংকটে পড়বে।
প্রতিবেদকের নাম 



















