Dhaka ০৩:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
“আনন্দের মাধ্যমে মানসম্মত শিক্ষা, শিক্ষার মাধ্যমে আলোকিত ভবিষ্যৎ গঠনে চট্টগ্রাম মডেল স্কুল রাউজানে যুবদল নেতা হত্যার ঘটনায় ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা ভুলে যাওয়ার রোগ (ডিমেনশিয়া) বাড়ছে, বলছেন বিশেষজ্ঞরা চন্দ্রগঞ্জ উপজেলায় পিএমকে’র উদ্যোগে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা ও ওষুধ বিতরণ জনপ্রতিনিধি কাছে অবহেলিত কালিরছড়া এলাকা : বেহাল দশায় জনজীবন বালিয়াডাঙ্গীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: পুড়লো বসতবাড়ি, সর্বস্ব হারিয়ে পথে ৩ পরিবার চন্ডিছড়ায় সড়ক-সেতু রক্ষায় জরুরি ব্যবস্থা নিতে এমপি সৈয়দ মোঃ ফয়সলের নির্দেশ চন্দ্রগঞ্জ উপজেলায় প্রশাসনের বিশেষ অভিযানে গ্রেফতার ৩ মাদক ব্যবসায়ী কোম্পানীগঞ্জ ইউনাইটেড হাসপাতালে সিজারের পর প্রসূতির মৃত্যু লোহাগাড়ায় অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান: ২৩ হাজার ঘনফুট বালু জব্দ, ড্রেজার মেশিন ধ্বংস

ভুলে যাওয়ার রোগ (ডিমেনশিয়া) বাড়ছে, বলছেন বিশেষজ্ঞরা

পত্নীতলা (নওগাঁ) প্রতিনিধি

ভুলে যাওয়া বা ডিমেনশিয়া রোগ হলো মস্তিষ্কের এমন একটি জটিল অবস্থা, যেখানে একজন ব্যক্তির স্মৃতিশক্তি, চিন্তাভাবনা, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা এবং দৈনন্দিন কাজ করার ক্ষমতা ধীরে ধীরে লোপ পায়। এটি সাধারণত বার্ধক্যের অংশ নয় বরং মস্তিষ্কের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ফলে সৃষ্ট একটি রোগগত জটিল অবস্থা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে প্রায় ৫ কোটি ৭০ লাখেরও বেশি মানুষ ভুলে যাওয়া রোগে আক্রান্ত এবং প্রতিবছর প্রায় ১ কোটি নতুন রুগি এ রোগের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে।বাংলাদেশে ২০১৯ সালের একটি জাতীয় গবেষণায় দেখা গেছে, বয়স্ক জনগোষ্ঠীর মধ্যে ডিমেনশিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  ফরিদপুরে নতুন ২৫ জন হাম রোগী শনাক্ত, মোট আক্রান্ত ২ হাজার ৬৯৭

ডিমেনশিয়া কেন হয়?

বিশেষজ্ঞের মতে, মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষ ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হলে ডিমেনশিয়া বা ভুলে যাওয়া রোগ দেখা দেয়। সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো Aizheimer’s disease,যা মোট জিমেনশিয়া রোগীর ৬৯-৭০ শতাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায়। এছাড়া স্ট্রোকজনিত মস্তিষ্কের ক্ষতি, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ধূমপান, অতিরিক্ত মদ্যপান, স্থলতা , সামাজিক বিচ্ছন্নতা ডিমেনশিয়া বা ভুলে যাওয়া রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

ডিমেনশিয়া রোগ বাড়লে কি হয়?

পরবর্তী পর্যায়ে রোগী পরিবারের সদস্যেদের চিনতে পারে না, চলাফেরায় সমস্যা,খাওয়া দাওয়া অসুবিধা, আচরণত পরিবর্তন, এমনকি সম্পূর্ণভাবে অন্যের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে হয় ।

আরও পড়ুনঃ  প্রচন্ড গরমে ত্বকের রোগ বেড়েছে, করণীয় জানালেন বিশেষজ্ঞরা

ডিমেনশিয়া কিভাবে নির্ণয় করা হয়?

ডিমেনশিয়া নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসক সাধারণত রোগীর ইতিহাস, স্মৃতিশক্তি ও মানসিক সক্ষমতা মূল্যায়ন করেন। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক করতে পারেন —
# মিনি মেন্টাল টেস্ট এক্সামিনেশন.
# কগনিটিভ ফাংশন টেস্ট.
# রক্ত পরীক্ষা.
# থাইরয়েড ও ভিটামিন বি- ১২ পরীক্ষা.
# মস্তিষ্কের সিটি স্ক্যান বা এমআরআই পরীক্ষা.

কোন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা নিবেন?

*neurology speciality *psychiatric speciality
*জরিয়াটিক বিশেষজ্ঞ

স্বাস্থ্য বিশেষকদের পরামর্শ

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও বিভিন্ন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম, ধূমপান পরিহার, স্বাস্থ্যকর খাদ্য অভ্যাস, রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ রাখা, সামাজিক যোগাযোগ বজায় রাখা এবং মস্তিষ্কে সক্রিয় রাখার মাধ্যমে ডিমানসিয়ার রোগের ঝুকি কিছুটা কমানো যায়,

আরও পড়ুনঃ  জনবল ও অ্যাম্বুলেন্স সংকটে গোদাগাড়ী ৩১ শয্যা হাসপাতাল চরম দুর্ভোগে রোগীরা

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের মতে,বাংলাদেশে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডিমেনশিয়া রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা, প্রাথমিক পর্যায়ে স্ক্রিনিং ব্যবস্থার চালু, পরিবার ভিত্তিক পরিচর্যা প্রশিক্ষণ এবং বিষয় তো বিশেষায়িত চিকিৎসা সেবা সম্প্রসারণ জরুরী হয়ে উঠেছে। সব সময় মানসিক সামাজিক ভাবে নিজেকে এবং পরিবারে অন্য সদস্যের সাথে সম্পর্ক ভালো রাখ।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

“আনন্দের মাধ্যমে মানসম্মত শিক্ষা, শিক্ষার মাধ্যমে আলোকিত ভবিষ্যৎ গঠনে চট্টগ্রাম মডেল স্কুল

ভুলে যাওয়ার রোগ (ডিমেনশিয়া) বাড়ছে, বলছেন বিশেষজ্ঞরা

আপডেটের সময়: ১২:৫০:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

পত্নীতলা (নওগাঁ) প্রতিনিধি

ভুলে যাওয়া বা ডিমেনশিয়া রোগ হলো মস্তিষ্কের এমন একটি জটিল অবস্থা, যেখানে একজন ব্যক্তির স্মৃতিশক্তি, চিন্তাভাবনা, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা এবং দৈনন্দিন কাজ করার ক্ষমতা ধীরে ধীরে লোপ পায়। এটি সাধারণত বার্ধক্যের অংশ নয় বরং মস্তিষ্কের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ফলে সৃষ্ট একটি রোগগত জটিল অবস্থা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে প্রায় ৫ কোটি ৭০ লাখেরও বেশি মানুষ ভুলে যাওয়া রোগে আক্রান্ত এবং প্রতিবছর প্রায় ১ কোটি নতুন রুগি এ রোগের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে।বাংলাদেশে ২০১৯ সালের একটি জাতীয় গবেষণায় দেখা গেছে, বয়স্ক জনগোষ্ঠীর মধ্যে ডিমেনশিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  প্রচন্ড গরমে ত্বকের রোগ বেড়েছে, করণীয় জানালেন বিশেষজ্ঞরা

ডিমেনশিয়া কেন হয়?

বিশেষজ্ঞের মতে, মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষ ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হলে ডিমেনশিয়া বা ভুলে যাওয়া রোগ দেখা দেয়। সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো Aizheimer’s disease,যা মোট জিমেনশিয়া রোগীর ৬৯-৭০ শতাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায়। এছাড়া স্ট্রোকজনিত মস্তিষ্কের ক্ষতি, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ধূমপান, অতিরিক্ত মদ্যপান, স্থলতা , সামাজিক বিচ্ছন্নতা ডিমেনশিয়া বা ভুলে যাওয়া রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

ডিমেনশিয়া রোগ বাড়লে কি হয়?

পরবর্তী পর্যায়ে রোগী পরিবারের সদস্যেদের চিনতে পারে না, চলাফেরায় সমস্যা,খাওয়া দাওয়া অসুবিধা, আচরণত পরিবর্তন, এমনকি সম্পূর্ণভাবে অন্যের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে হয় ।

আরও পড়ুনঃ  জনবল ও অ্যাম্বুলেন্স সংকটে গোদাগাড়ী ৩১ শয্যা হাসপাতাল চরম দুর্ভোগে রোগীরা

ডিমেনশিয়া কিভাবে নির্ণয় করা হয়?

ডিমেনশিয়া নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসক সাধারণত রোগীর ইতিহাস, স্মৃতিশক্তি ও মানসিক সক্ষমতা মূল্যায়ন করেন। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক করতে পারেন —
# মিনি মেন্টাল টেস্ট এক্সামিনেশন.
# কগনিটিভ ফাংশন টেস্ট.
# রক্ত পরীক্ষা.
# থাইরয়েড ও ভিটামিন বি- ১২ পরীক্ষা.
# মস্তিষ্কের সিটি স্ক্যান বা এমআরআই পরীক্ষা.

কোন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা নিবেন?

*neurology speciality *psychiatric speciality
*জরিয়াটিক বিশেষজ্ঞ

স্বাস্থ্য বিশেষকদের পরামর্শ

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও বিভিন্ন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম, ধূমপান পরিহার, স্বাস্থ্যকর খাদ্য অভ্যাস, রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ রাখা, সামাজিক যোগাযোগ বজায় রাখা এবং মস্তিষ্কে সক্রিয় রাখার মাধ্যমে ডিমানসিয়ার রোগের ঝুকি কিছুটা কমানো যায়,

আরও পড়ুনঃ  ফরিদপুরে নতুন ২৫ জন হাম রোগী শনাক্ত, মোট আক্রান্ত ২ হাজার ৬৯৭

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের মতে,বাংলাদেশে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডিমেনশিয়া রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা, প্রাথমিক পর্যায়ে স্ক্রিনিং ব্যবস্থার চালু, পরিবার ভিত্তিক পরিচর্যা প্রশিক্ষণ এবং বিষয় তো বিশেষায়িত চিকিৎসা সেবা সম্প্রসারণ জরুরী হয়ে উঠেছে। সব সময় মানসিক সামাজিক ভাবে নিজেকে এবং পরিবারে অন্য সদস্যের সাথে সম্পর্ক ভালো রাখ।