পত্নীতলা (নওগাঁ) প্রতিনিধি
ভুলে যাওয়া বা ডিমেনশিয়া রোগ হলো মস্তিষ্কের এমন একটি জটিল অবস্থা, যেখানে একজন ব্যক্তির স্মৃতিশক্তি, চিন্তাভাবনা, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা এবং দৈনন্দিন কাজ করার ক্ষমতা ধীরে ধীরে লোপ পায়। এটি সাধারণত বার্ধক্যের অংশ নয় বরং মস্তিষ্কের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ফলে সৃষ্ট একটি রোগগত জটিল অবস্থা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে প্রায় ৫ কোটি ৭০ লাখেরও বেশি মানুষ ভুলে যাওয়া রোগে আক্রান্ত এবং প্রতিবছর প্রায় ১ কোটি নতুন রুগি এ রোগের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে।বাংলাদেশে ২০১৯ সালের একটি জাতীয় গবেষণায় দেখা গেছে, বয়স্ক জনগোষ্ঠীর মধ্যে ডিমেনশিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ডিমেনশিয়া কেন হয়?
বিশেষজ্ঞের মতে, মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষ ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হলে ডিমেনশিয়া বা ভুলে যাওয়া রোগ দেখা দেয়। সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো Aizheimer's disease,যা মোট জিমেনশিয়া রোগীর ৬৯-৭০ শতাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায়। এছাড়া স্ট্রোকজনিত মস্তিষ্কের ক্ষতি, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ধূমপান, অতিরিক্ত মদ্যপান, স্থলতা , সামাজিক বিচ্ছন্নতা ডিমেনশিয়া বা ভুলে যাওয়া রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
ডিমেনশিয়া রোগ বাড়লে কি হয়?
পরবর্তী পর্যায়ে রোগী পরিবারের সদস্যেদের চিনতে পারে না, চলাফেরায় সমস্যা,খাওয়া দাওয়া অসুবিধা, আচরণত পরিবর্তন, এমনকি সম্পূর্ণভাবে অন্যের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে হয় ।
ডিমেনশিয়া কিভাবে নির্ণয় করা হয়?
ডিমেনশিয়া নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসক সাধারণত রোগীর ইতিহাস, স্মৃতিশক্তি ও মানসিক সক্ষমতা মূল্যায়ন করেন। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক করতে পারেন --
# মিনি মেন্টাল টেস্ট এক্সামিনেশন.
# কগনিটিভ ফাংশন টেস্ট.
# রক্ত পরীক্ষা.
# থাইরয়েড ও ভিটামিন বি- ১২ পরীক্ষা.
# মস্তিষ্কের সিটি স্ক্যান বা এমআরআই পরীক্ষা.
কোন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা নিবেন?
*neurology speciality *psychiatric speciality
*জরিয়াটিক বিশেষজ্ঞ
স্বাস্থ্য বিশেষকদের পরামর্শ
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও বিভিন্ন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম, ধূমপান পরিহার, স্বাস্থ্যকর খাদ্য অভ্যাস, রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ রাখা, সামাজিক যোগাযোগ বজায় রাখা এবং মস্তিষ্কে সক্রিয় রাখার মাধ্যমে ডিমানসিয়ার রোগের ঝুকি কিছুটা কমানো যায়,
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের মতে,বাংলাদেশে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডিমেনশিয়া রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা, প্রাথমিক পর্যায়ে স্ক্রিনিং ব্যবস্থার চালু, পরিবার ভিত্তিক পরিচর্যা প্রশিক্ষণ এবং বিষয় তো বিশেষায়িত চিকিৎসা সেবা সম্প্রসারণ জরুরী হয়ে উঠেছে। সব সময় মানসিক সামাজিক ভাবে নিজেকে এবং পরিবারে অন্য সদস্যের সাথে সম্পর্ক ভালো রাখ।