Dhaka ১২:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
জুরাইন ব্রিজের নিচে বৃদ্ধাকে ফেলে গেল পরিবার: নির্মমতার চরম দৃষ্টান্ত, দোষীদের বিচারের দাবি ​ গাইবান্ধায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ চট্টগ্রাম অঞ্চলের কালচারাল লিডারশীপ প্রোগ্রাম কক্সবাজারে মণ্ডপে মণ্ডপে বিদায়ের সুর, রাজশাহীতে বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো শারদীয় দুর্গোৎসব ​ ভালুকায় ৯৫ পিস ইয়াবা সহ এক মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার ধুনটে পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন ও আর্থিক সহায়তা দিল ইউনিয়ন বিএনপি বান্দরবানে সাড়ে ৩ একর জমি জবরদখলের চেষ্টা ও ঘুষ দাবির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন উলিপুরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে বাচ্চু মিয়া হত্যার অভিযোগ অভিযুক্ত গ্রেফতার লালপুরে বসতবাড়ি থেকে ১৬ ফুট উচ্চতার গাঁজাগাছ উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১ পদ্মা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় প্রজাতির মাছ

প্রতিবন্ধী বাবার আইসিইউতে থাকা সেই শিশুর দায়িত্ব নিলেন ঢাকার জেলা প্রশাসক

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ১২:৪১:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
  • ৩৩৩ সময় দেখুন

কাজী আন্নিল তানভীর স্টাফ রিপোর্টার: ​টাকার অভাবে সাত মাস বয়সী শিশু তাজিমের আইসিইউতে (ICU) চিকিৎসা চালিয়ে নিতে হিমশিম খাচ্ছিলেন তার প্রতিবন্ধী বাবা আসলাম। অসহায় এই বাবার কষ্টের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তা দ্রুত নজরে আসে ঢাকার নবনিযুক্ত জেলা প্রশাসক (ডিসি) মিজ ফরিদা খানম–এর। খবর পেয়েই মানবিক উদ্যোগ নিয়ে শিশু তাজিমের চিকিৎসার সম্পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন তিনি।বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকালে রাজধানীর শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা পরিস্থিতি পরিদর্শন করতে যান জেলা প্রশাসক। সেখানে গিয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিশুটির চিকিৎসার জন্য নগদ ৫০ হাজার টাকা অর্থ সহায়তা প্রদান করেন এবং আগামীতেও তাজিমের চিকিৎসার যাবতীয় ব্যয় বহনের ঘোষণা দেন।

আরও পড়ুনঃ  কেরানীগঞ্জে বেড়েই চলেছে অগ্নিদুর্ঘটনা: মুহুরী পট্টি রোডে একটুর জন্য রক্ষা, এলাকাবাসীর উদ্যোগে মিলল নিস্তার

 

​একই সময়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নরসিংদী থেকে আসা তামজিদ নামে আইসিইউর আরেক শিশুর চিকিৎসায় অর্থ সহায়তা দেন এবং তারও চিকিৎসার দায়িত্ব নেন ডিসি।একটি শিশুও যেন চিকিৎসার অভাবে মারা না যায়, সেটি নিশ্চিত করতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। আমি ঢাকার জেলা প্রশাসক; তবে দিনশেষে আমি তো একজন মা-ও। প্রতিটি মায়ের আর্তনাদ আমাকে ব্যথিত করে। যেকোনো মূল্যে আমাদের সন্তানদের রক্ষা করতেই হবে।

 

— মিজ ফরিদা খানম, জেলা প্রশাসক, ঢাকা।
​জরুরি স্বাস্থ্য বার্তা ও টিকাদানে জোর
​হাসপাতালের সার্বিক চিকিৎসা সেবা, শয্যা সংখ্যা ও জরুরি ব্যবস্থাপনা পরিদর্শন শেষে ডিসি ফরিদা খানম জানান, হামের সংক্রমণ প্রতিরোধে টিকাদান কার্যক্রমকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। শতভাগ শিশুকে নির্ধারিত সময়ে এমআর/হাম টিকা (MR Vaccine) নিশ্চিত করার জন্য তিনি অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান।তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা সহ্য করা হবে না। এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। হাসপাতালে রোগীর তুলনায় চিকিৎসক সংকট থাকলেও নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা আন্তরিকভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুনঃ  গুলশানের ‘সেভেনটি এইট রেস্টহাউজে’ অবৈধ বার, ২৪৪ লিটার মদ ও বিয়ার জব্দ

 

​অসহায় পরিবারে ফিরলো স্বস্তি
​জেলা প্রশাসনের এই তাৎক্ষণিক ও মানবিক সহায়তায় নতুন করে বাঁচার আলো দেখছে দুটি পরিবার।
​প্রতিবন্ধী বাবা আসলাম বলেন: “আমি ভ্যান চালিয়ে সংসার চালাই। দিন শেষে যা আয় হয়, তা দিয়ে ঠিকমতো সংসারই চলে না। ছেলের চিকিৎসার খরচ চালাতে গিয়ে একেবারে অসহায় হয়ে পড়েছিলাম। এমন সময়ে ডিসি স্যার আমার বাচ্চার পাশে দাঁড়িয়েছেন। আল্লাহ যেন তাকে ভালো রাখেন। তামজিদের মা শাহিনুর বেগম আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন: “টাকার অভাবে বাচ্চার চিকিৎসা করাতে না পেরে বাড়ি নিয়ে যাবো ভাবছিলাম। কিন্তু জেলা প্রশাসক যেভাবে পাশে দাঁড়ালেন, তাতে আমার বাচ্চাটা হয়তো নতুন করে আলোর মুখ দেখবে।”ঢাকা জেলা প্রশাসন সবসময় অসহায় ও দুস্থ মানুষের পাশে রয়েছে এবং দরিদ্র পরিবারগুলো যেন চিকিৎসা সেবা পেতে কোনো সমস্যায় না পড়ে, তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রশাসক।

আরও পড়ুনঃ  রামপুরায় বকেয়া বেতনের দাবিতে শিশুসহ শ্রমিকদের মানববন্ধন
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

জুরাইন ব্রিজের নিচে বৃদ্ধাকে ফেলে গেল পরিবার: নির্মমতার চরম দৃষ্টান্ত, দোষীদের বিচারের দাবি ​

প্রতিবন্ধী বাবার আইসিইউতে থাকা সেই শিশুর দায়িত্ব নিলেন ঢাকার জেলা প্রশাসক

আপডেটের সময়: ১২:৪১:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

কাজী আন্নিল তানভীর স্টাফ রিপোর্টার: ​টাকার অভাবে সাত মাস বয়সী শিশু তাজিমের আইসিইউতে (ICU) চিকিৎসা চালিয়ে নিতে হিমশিম খাচ্ছিলেন তার প্রতিবন্ধী বাবা আসলাম। অসহায় এই বাবার কষ্টের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তা দ্রুত নজরে আসে ঢাকার নবনিযুক্ত জেলা প্রশাসক (ডিসি) মিজ ফরিদা খানম–এর। খবর পেয়েই মানবিক উদ্যোগ নিয়ে শিশু তাজিমের চিকিৎসার সম্পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন তিনি।বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকালে রাজধানীর শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা পরিস্থিতি পরিদর্শন করতে যান জেলা প্রশাসক। সেখানে গিয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিশুটির চিকিৎসার জন্য নগদ ৫০ হাজার টাকা অর্থ সহায়তা প্রদান করেন এবং আগামীতেও তাজিমের চিকিৎসার যাবতীয় ব্যয় বহনের ঘোষণা দেন।

আরও পড়ুনঃ  কেরানীগঞ্জে বেড়েই চলেছে অগ্নিদুর্ঘটনা: মুহুরী পট্টি রোডে একটুর জন্য রক্ষা, এলাকাবাসীর উদ্যোগে মিলল নিস্তার

 

​একই সময়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নরসিংদী থেকে আসা তামজিদ নামে আইসিইউর আরেক শিশুর চিকিৎসায় অর্থ সহায়তা দেন এবং তারও চিকিৎসার দায়িত্ব নেন ডিসি।একটি শিশুও যেন চিকিৎসার অভাবে মারা না যায়, সেটি নিশ্চিত করতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। আমি ঢাকার জেলা প্রশাসক; তবে দিনশেষে আমি তো একজন মা-ও। প্রতিটি মায়ের আর্তনাদ আমাকে ব্যথিত করে। যেকোনো মূল্যে আমাদের সন্তানদের রক্ষা করতেই হবে।

 

— মিজ ফরিদা খানম, জেলা প্রশাসক, ঢাকা।
​জরুরি স্বাস্থ্য বার্তা ও টিকাদানে জোর
​হাসপাতালের সার্বিক চিকিৎসা সেবা, শয্যা সংখ্যা ও জরুরি ব্যবস্থাপনা পরিদর্শন শেষে ডিসি ফরিদা খানম জানান, হামের সংক্রমণ প্রতিরোধে টিকাদান কার্যক্রমকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। শতভাগ শিশুকে নির্ধারিত সময়ে এমআর/হাম টিকা (MR Vaccine) নিশ্চিত করার জন্য তিনি অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান।তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা সহ্য করা হবে না। এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। হাসপাতালে রোগীর তুলনায় চিকিৎসক সংকট থাকলেও নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা আন্তরিকভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুনঃ  দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিশ্চিতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে: ডিএমপি কমিশনার

 

​অসহায় পরিবারে ফিরলো স্বস্তি
​জেলা প্রশাসনের এই তাৎক্ষণিক ও মানবিক সহায়তায় নতুন করে বাঁচার আলো দেখছে দুটি পরিবার।
​প্রতিবন্ধী বাবা আসলাম বলেন: “আমি ভ্যান চালিয়ে সংসার চালাই। দিন শেষে যা আয় হয়, তা দিয়ে ঠিকমতো সংসারই চলে না। ছেলের চিকিৎসার খরচ চালাতে গিয়ে একেবারে অসহায় হয়ে পড়েছিলাম। এমন সময়ে ডিসি স্যার আমার বাচ্চার পাশে দাঁড়িয়েছেন। আল্লাহ যেন তাকে ভালো রাখেন। তামজিদের মা শাহিনুর বেগম আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন: “টাকার অভাবে বাচ্চার চিকিৎসা করাতে না পেরে বাড়ি নিয়ে যাবো ভাবছিলাম। কিন্তু জেলা প্রশাসক যেভাবে পাশে দাঁড়ালেন, তাতে আমার বাচ্চাটা হয়তো নতুন করে আলোর মুখ দেখবে।”ঢাকা জেলা প্রশাসন সবসময় অসহায় ও দুস্থ মানুষের পাশে রয়েছে এবং দরিদ্র পরিবারগুলো যেন চিকিৎসা সেবা পেতে কোনো সমস্যায় না পড়ে, তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রশাসক।

আরও পড়ুনঃ  আশুলিয়ায় সাড়ে ৫ লাখ টাকার জাল নোট সহ গ্রেপ্তার ২