Dhaka ০৬:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
প্রত্যন্ত পাহাড়ি অঞ্চলের কিশোরীদের স্বাস্থ্য সচেতনতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ব্যতিক্রমী উদ্যোগ জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈলে সাপের কামড়ে যুবকের মৃত্যু কুলাউড়ায় শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে বিসিএসের স্বপ্নে প্রিয়ন্তী সিনহা ভাঙ্গুড়ায় মাদক সেবনের দায়ে যুবকের ৬ মাসের কারাদণ্ড নাগরপুরে ইমাম-মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের সঙ্গে মতবিনিময় করলেন এমপি লাভলু ৪ বছরে ২ কোটি ৭০ লাখ কৃষকের হাতে কৃষক কার্ড: শিবগঞ্জে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম কক্সবাজারের চকরিয়ায় র‌্যাব-১৫ এর অভিযান সাজাপ্রাপ্ত পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার মনপুরায় আশঙ্কাজনকহারে বাড়ছে হামের প্রকোপ, সেবা দিতে হিমশিম হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ টানা ২৪ ঘণ্টার বৃষ্টিতে আটোয়ারীতে স্থবির জনজীবন: চরম দুর্ভোগে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ

প্রতিবন্ধী বাবার আইসিইউতে থাকা সেই শিশুর দায়িত্ব নিলেন ঢাকার জেলা প্রশাসক

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ১২:৪১:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
  • ২৩৪ সময় দেখুন

কাজী আন্নিল তানভীর স্টাফ রিপোর্টার: ​টাকার অভাবে সাত মাস বয়সী শিশু তাজিমের আইসিইউতে (ICU) চিকিৎসা চালিয়ে নিতে হিমশিম খাচ্ছিলেন তার প্রতিবন্ধী বাবা আসলাম। অসহায় এই বাবার কষ্টের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তা দ্রুত নজরে আসে ঢাকার নবনিযুক্ত জেলা প্রশাসক (ডিসি) মিজ ফরিদা খানম–এর। খবর পেয়েই মানবিক উদ্যোগ নিয়ে শিশু তাজিমের চিকিৎসার সম্পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন তিনি।বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকালে রাজধানীর শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা পরিস্থিতি পরিদর্শন করতে যান জেলা প্রশাসক। সেখানে গিয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিশুটির চিকিৎসার জন্য নগদ ৫০ হাজার টাকা অর্থ সহায়তা প্রদান করেন এবং আগামীতেও তাজিমের চিকিৎসার যাবতীয় ব্যয় বহনের ঘোষণা দেন।

আরও পড়ুনঃ  হাজার থেকে ২৮০০ টাকা কেজি, মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে ইলিশ

 

​একই সময়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নরসিংদী থেকে আসা তামজিদ নামে আইসিইউর আরেক শিশুর চিকিৎসায় অর্থ সহায়তা দেন এবং তারও চিকিৎসার দায়িত্ব নেন ডিসি।একটি শিশুও যেন চিকিৎসার অভাবে মারা না যায়, সেটি নিশ্চিত করতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। আমি ঢাকার জেলা প্রশাসক; তবে দিনশেষে আমি তো একজন মা-ও। প্রতিটি মায়ের আর্তনাদ আমাকে ব্যথিত করে। যেকোনো মূল্যে আমাদের সন্তানদের রক্ষা করতেই হবে।

 

— মিজ ফরিদা খানম, জেলা প্রশাসক, ঢাকা।
​জরুরি স্বাস্থ্য বার্তা ও টিকাদানে জোর
​হাসপাতালের সার্বিক চিকিৎসা সেবা, শয্যা সংখ্যা ও জরুরি ব্যবস্থাপনা পরিদর্শন শেষে ডিসি ফরিদা খানম জানান, হামের সংক্রমণ প্রতিরোধে টিকাদান কার্যক্রমকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। শতভাগ শিশুকে নির্ধারিত সময়ে এমআর/হাম টিকা (MR Vaccine) নিশ্চিত করার জন্য তিনি অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান।তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা সহ্য করা হবে না। এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। হাসপাতালে রোগীর তুলনায় চিকিৎসক সংকট থাকলেও নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা আন্তরিকভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুনঃ  খেয়াঘাট সরানো ও টোল বৃদ্ধির প্রতিবাদে কেরানীগঞ্জে ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভ

 

​অসহায় পরিবারে ফিরলো স্বস্তি
​জেলা প্রশাসনের এই তাৎক্ষণিক ও মানবিক সহায়তায় নতুন করে বাঁচার আলো দেখছে দুটি পরিবার।
​প্রতিবন্ধী বাবা আসলাম বলেন: “আমি ভ্যান চালিয়ে সংসার চালাই। দিন শেষে যা আয় হয়, তা দিয়ে ঠিকমতো সংসারই চলে না। ছেলের চিকিৎসার খরচ চালাতে গিয়ে একেবারে অসহায় হয়ে পড়েছিলাম। এমন সময়ে ডিসি স্যার আমার বাচ্চার পাশে দাঁড়িয়েছেন। আল্লাহ যেন তাকে ভালো রাখেন। তামজিদের মা শাহিনুর বেগম আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন: “টাকার অভাবে বাচ্চার চিকিৎসা করাতে না পেরে বাড়ি নিয়ে যাবো ভাবছিলাম। কিন্তু জেলা প্রশাসক যেভাবে পাশে দাঁড়ালেন, তাতে আমার বাচ্চাটা হয়তো নতুন করে আলোর মুখ দেখবে।”ঢাকা জেলা প্রশাসন সবসময় অসহায় ও দুস্থ মানুষের পাশে রয়েছে এবং দরিদ্র পরিবারগুলো যেন চিকিৎসা সেবা পেতে কোনো সমস্যায় না পড়ে, তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রশাসক।

আরও পড়ুনঃ  শহীদ নাসিব হাসান রিয়ানের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করলেন অ্যাডভোকেট নিপুন রায় চৌধুরী এমপি
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

প্রত্যন্ত পাহাড়ি অঞ্চলের কিশোরীদের স্বাস্থ্য সচেতনতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

প্রতিবন্ধী বাবার আইসিইউতে থাকা সেই শিশুর দায়িত্ব নিলেন ঢাকার জেলা প্রশাসক

আপডেটের সময়: ১২:৪১:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

কাজী আন্নিল তানভীর স্টাফ রিপোর্টার: ​টাকার অভাবে সাত মাস বয়সী শিশু তাজিমের আইসিইউতে (ICU) চিকিৎসা চালিয়ে নিতে হিমশিম খাচ্ছিলেন তার প্রতিবন্ধী বাবা আসলাম। অসহায় এই বাবার কষ্টের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তা দ্রুত নজরে আসে ঢাকার নবনিযুক্ত জেলা প্রশাসক (ডিসি) মিজ ফরিদা খানম–এর। খবর পেয়েই মানবিক উদ্যোগ নিয়ে শিশু তাজিমের চিকিৎসার সম্পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন তিনি।বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকালে রাজধানীর শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা পরিস্থিতি পরিদর্শন করতে যান জেলা প্রশাসক। সেখানে গিয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিশুটির চিকিৎসার জন্য নগদ ৫০ হাজার টাকা অর্থ সহায়তা প্রদান করেন এবং আগামীতেও তাজিমের চিকিৎসার যাবতীয় ব্যয় বহনের ঘোষণা দেন।

আরও পড়ুনঃ  শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের লাশ সনাক্ত ও উদ্ধার কারির সাথে সৌজন্যমূলক সাক্ষাৎ

 

​একই সময়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নরসিংদী থেকে আসা তামজিদ নামে আইসিইউর আরেক শিশুর চিকিৎসায় অর্থ সহায়তা দেন এবং তারও চিকিৎসার দায়িত্ব নেন ডিসি।একটি শিশুও যেন চিকিৎসার অভাবে মারা না যায়, সেটি নিশ্চিত করতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। আমি ঢাকার জেলা প্রশাসক; তবে দিনশেষে আমি তো একজন মা-ও। প্রতিটি মায়ের আর্তনাদ আমাকে ব্যথিত করে। যেকোনো মূল্যে আমাদের সন্তানদের রক্ষা করতেই হবে।

 

— মিজ ফরিদা খানম, জেলা প্রশাসক, ঢাকা।
​জরুরি স্বাস্থ্য বার্তা ও টিকাদানে জোর
​হাসপাতালের সার্বিক চিকিৎসা সেবা, শয্যা সংখ্যা ও জরুরি ব্যবস্থাপনা পরিদর্শন শেষে ডিসি ফরিদা খানম জানান, হামের সংক্রমণ প্রতিরোধে টিকাদান কার্যক্রমকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। শতভাগ শিশুকে নির্ধারিত সময়ে এমআর/হাম টিকা (MR Vaccine) নিশ্চিত করার জন্য তিনি অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান।তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা সহ্য করা হবে না। এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। হাসপাতালে রোগীর তুলনায় চিকিৎসক সংকট থাকলেও নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা আন্তরিকভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুনঃ  খেয়াঘাট সরানো ও টোল বৃদ্ধির প্রতিবাদে কেরানীগঞ্জে ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভ

 

​অসহায় পরিবারে ফিরলো স্বস্তি
​জেলা প্রশাসনের এই তাৎক্ষণিক ও মানবিক সহায়তায় নতুন করে বাঁচার আলো দেখছে দুটি পরিবার।
​প্রতিবন্ধী বাবা আসলাম বলেন: “আমি ভ্যান চালিয়ে সংসার চালাই। দিন শেষে যা আয় হয়, তা দিয়ে ঠিকমতো সংসারই চলে না। ছেলের চিকিৎসার খরচ চালাতে গিয়ে একেবারে অসহায় হয়ে পড়েছিলাম। এমন সময়ে ডিসি স্যার আমার বাচ্চার পাশে দাঁড়িয়েছেন। আল্লাহ যেন তাকে ভালো রাখেন। তামজিদের মা শাহিনুর বেগম আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন: “টাকার অভাবে বাচ্চার চিকিৎসা করাতে না পেরে বাড়ি নিয়ে যাবো ভাবছিলাম। কিন্তু জেলা প্রশাসক যেভাবে পাশে দাঁড়ালেন, তাতে আমার বাচ্চাটা হয়তো নতুন করে আলোর মুখ দেখবে।”ঢাকা জেলা প্রশাসন সবসময় অসহায় ও দুস্থ মানুষের পাশে রয়েছে এবং দরিদ্র পরিবারগুলো যেন চিকিৎসা সেবা পেতে কোনো সমস্যায় না পড়ে, তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রশাসক।

আরও পড়ুনঃ  শহীদ নাসিব হাসান রিয়ানের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করলেন অ্যাডভোকেট নিপুন রায় চৌধুরী এমপি