
মাসুদ রানা মাসুম পার্বত্য ব্যুরো: পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের সাম্প্রতিক বান্দরবান সফরকে কেন্দ্র করে জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক স্থবিরতা কাটিয়ে বান্দরবান জেলা বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। বিশেষ করে রোয়াংছড়ি উপজেলায় প্রতিমন্ত্রীর উপস্থিতিকে ঘিরে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে স্থানীয় রাজনৈতিক মহল— সর্বত্রই তাঁর সফর এবং বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সফরের অংশ হিসেবে প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন রোয়াংছড়ি উপজেলার বিভিন্ন দুর্গম ও বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে ত্রাণসামগ্রী তুলে দেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন। ত্রাণ কার্যক্রমে তাঁর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অংশ নেন জেলা বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী। স্থানীয়দের মতে, দুর্যোগের সময়ে দলীয় নেতাকর্মীদের এমন সমন্বিত উপস্থিতি সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিয়েছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে বান্দরবান জেলা বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রমে কিছুটা স্থবিরতা ছিল। তবে প্রতিমন্ত্রীর সরাসরি মাঠপর্যায়ে উপস্থিতি এবং নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ সেই পরিস্থিতিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীরা নতুন উদ্যমে সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়ন, দলীয় ঐক্য এবং জনগণের পাশে থেকে কাজ করার আহ্বান জানান।
তাঁর বক্তব্যের সময় নেতাকর্মীদের উৎসাহ ও অংশগ্রহণ ছিল লক্ষণীয়। রোয়াংছড়ি উপজেলা বিএনপির এক শীর্ষস্থানীয় নেতা বলেন, নেতাকর্মীদের মধ্যে এক ধরনের সুপ্ত হতাশা ছিল। কিন্তু প্রতিমন্ত্রীর সরাসরি রোয়াংছড়ির মাঠে এসে আমাদের সঙ্গে বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় করার ফলে দীর্ঘদিনের জড়তা কেটে গেছে। এখন কর্মীরা অনেক বেশি ঐক্যবদ্ধ ও সক্রিয়।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর শুধু দলীয় কর্মসূচির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিক দায়িত্ব পালনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্তও স্থাপন করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনের আশ্বাস এবং মাঠপর্যায়ে সক্রিয় উপস্থিতি সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া সৃষ্টি করেছে বলেও তারা মনে করেন। অনেকের ভাষ্যমতে একদিকে বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং অন্যদিকে দলীয় শৃঙ্খলা ও সাংগঠনিক ঐক্য পুনরুজ্জীবিত করার মাধ্যমে বান্দরবান জেলা বিএনপিতে নতুন গতি সঞ্চার হয়েছে। তবে এই উদ্দীপনা দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখতে সাংগঠনিক সমন্বয়, নিয়মিত মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম এবং অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য দূর করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। সব মিলিয়ে, ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের বান্দরবান ও রোয়াংছড়ি সফর কেবল একটি সরকারি কর্মসূচি নয়; বরং বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানো, তৃণমূল নেতাকর্মীদের সক্রিয় করা এবং বান্দরবান জেলা বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রমে নতুন গতি সৃষ্টির একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রতিবেদকের নাম 



















