
স্টাফ রিপোর্টার,কিশোরগঞ্জ,পারভেজ হাসান (শাওন) কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে নানার বাড়ি থেকে ‘রিয়া মনি’ নামে ১৮ বছর বয়সী এক তরুণীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১১-আগস্ট-২০২৬) মধ্যরাতে কলাকোপা উত্তরপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মৃত্যুর ঠিক কিছুক্ষণ আগে ওই তরুণী তার নানীর ইমু নম্বরে একটি ভিডিও বার্তা পাঠিয়ে জানান, তার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। প্রায় ১৫ দিন আগে স্বামী ও পরিবারের ঢাকা গাউছিয়ার বাসা থেকে কুলিয়ারচরের কলাকোপা উত্তরপাড়ায় নানার বাড়িতে বেড়াতে আসেন ১৮ বছরের তরুণী রিয়া মনি।মঙ্গলবার রাতে খাবার শেষ করে মামাতো বোন ইতির সাথে একই ঘরে ঘুমাতে যান তিনি। ঘুমানোর সময়ও মোবাইলে স্বামীর সাথে কথা বলছিলেন রিয়া। কিন্তু রাত ১২টা ৪ মিনিটের দিকে নানীর ইমু নম্বরে একটি ভিডিও বার্তা পাঠান তিনি। পরিবারের দাবি, সেই ভিডিওতে রিয়া জানান—তার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। মামাতো বোন ইতি আক্তার বলেন ”রাতের খাবার খেয়ে আমি আর রিয়া আপু ঘুমাতে যাই। আপু তখন ফোনে উনার স্বামীর সাথে কথা বলছিলেন। একপর্যায়ে আমি ঘুমিয়ে পড়ি। রাত দেড়টার দিকে বাথরুমে যাওয়ার জন্য উঠলে লাইট জ্বালিয়ে দেখি—ঘরের ধরনার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলে আছেন রিয়া আপু।
চিৎকার শুনে বাড়ির লোকজন এসে ঝুলন্ত অবস্থা থেকে রিয়াকে উদ্ধার করেন। খবর পেয়ে ঢাকা থেকে ছুটে আসেন তাঁর বাবা ও পরিবারের অন্য সদস্যরা। খবর দেওয়া হলে কুলিয়ারচর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী আরিফ বলেন, আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে মরদেহ উদ্ধার করি এবং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করি। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলেই মনে হচ্ছে। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরিবারের দেওয়া তথ্য ও ভিডিও বার্তার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভিডিও বার্তাটি কেন পাঠানো হলো এবং ঠিক কী কারণে রিয়া এমন চরম সিদ্ধান্ত নিলেন, তা এখনো অস্পষ্ট। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও পুলিশি তদন্তের পরই উন্মোচিত হবে এই মৃত্যুর আসল রহস্য।
প্রতিবেদকের নাম 


















