Dhaka ০৫:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
শীত মৌসুমে গাছের রসেই ১৫০ কোটি টাকার অর্থনীতি বরিশালে ১৮ মৃৎশিল্পীকে সম্মাননা, আজীবন সম্মাননা পেলেন নিরঞ্জন পাল ধামরাইয়ে ১০০ পুড়িয়া হোরোইনসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেফতার, ১০ মামলার আসামি স্বামী মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসনের আয়োজনে বই পড়া উৎসব ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত রামপুরায় বকেয়া বেতনের দাবিতে শিশুসহ শ্রমিকদের মানববন্ধন ভারতে সর্বোচ্চ রাজনৈতিক সংকটে মোদি নিজেদের দ্বন্দ্ব ঢাকতেই বিরোধীদল রাজপথে নতুন নাটক করছে: রিজভী শিশু হাসপাতালে চিকিৎসকের কক্ষে ধূমপান, বরখাস্তের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর সাড়ে চার ঘণ্টায় রাজধানীর ১৩ স্পট পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর কক্সবাজারের টুকটাক রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে আশুলিয়ার নাসরিন আক্তার মুক্তা নিহত

নদীতে মৃত গবাদিপশু ফেলার মহোৎসব: ধ্বংসের মুখে সিলেটের সারি নদী, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে হাজারো পরিবার ।

​আঃ খালেক, গোয়াইনঘাট উপজেলা প্রতিনিধি (সিলেট): সিলেটের বৃহত্তর জৈন্তাপুর ও গোয়াইনঘাট উপজেলার বুক চিরে বয়ে যাওয়া ঐতিহাসিক ‘সারি নদী’ আজ চরম বিপর্যয় ও ধ্বংসের মুখে পড়েছে। একশ্রেণির অসাধু ও অসচেতন মানুষের অনিয়ন্ত্রিত কাণ্ডজ্ঞানের অভাব—বিশেষ করে নদীতে মৃত জীবজন্তু ফেলা এবং ফেলা আবর্জনা বা পচা পশুর মৃতদেহের দুর্গন্ধে ভারী হয়ে উঠেছে চারপাশের পরিবেশ। ফলে নদীর পানি মারাত্মকভাবে দূষিত হয়ে পড়ে চরম ভোগান্তি ও স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন এর দুই পারের হাজার হাজার পরিবার।

আরও পড়ুনঃ  অপরাধ দমনে স্বীকৃতি স্মারক পেলেন, ধুনট থানার ওসি আতিকুল ইসলাম

​প্রতিবেদনে সরেজমিনে দেখা যায়, নদীপথে ভেসে যাওয়া মৃত পশুর দুর্গন্ধ থেকে বাঁচতে নৌকার যাত্রীদের নাকে কাপড় চাপা দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছ। ​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জৈন্তাপুর ও গোয়াইনঘাট উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকার হাজার হাজার পরিবার বহু বছর ধরে রান্নাবান্না, গোসল, পানীয় জলের জোগান এবং কৃষিকাজের জন্য এই সারি নদীর ওপর সরাসরি নির্ভরশীল। কিন্তু সম্প্রতি নদীতে প্রতিনিয়ত গবাদিপশু সহ বিভিন্ন মৃত জীবজন্তু ফেলার কারণে পানি মারাত্মক দুর্গন্ধযুক্ত ও বিষাক্ত হয়ে উঠছে। দূষিত পানির স্পর্শে আসার ফলে নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের মধ্যে চর্মরোগ, ডায়রিয়া, পেটব্যথা সহ দেখা দিচ্ছে নানা ধরনের জটিল পানিবাহিত রোগব্যাধি।

আরও পড়ুনঃ  মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসনের আয়োজনে বই পড়া উৎসব ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

​নদী পারের ভুক্তভোগী অধিবাসীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, “আমরা এই নদীর পানি দিয়েই গৃহস্থালির যাবতীয় কাজ করি। কিন্তু এখন পচা দুর্গন্ধের কারণে নদীর পাড়ে দাঁড়ানোই দায়। দূষিত পানির কারণে ঘরের শিশু ও বয়োবৃদ্ধরা নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।”
​পরিবেশবিদ ও সচেতন মহলের মতে, এভাবে উন্মুক্ত নদীতে পচা ও মৃত জীবজন্তু ফেলা কেবল নদী পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করছে না, বরং পুরো এলাকার জনস্বাস্থ্যকে এক বড় ধরনের হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। অনতিবিলম্বে নদীতে মৃত পশু ও বর্জ্য ফেলা বন্ধে স্থানীয় প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদের কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।
​এ বিষয়ে গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর উপজেলার সচেতন নাগরিকরা প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির জোরালো দাবি জানিয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ  ঘোড়াঘাটে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত, ফায়ার সার্ভিসের মহড়া
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

শীত মৌসুমে গাছের রসেই ১৫০ কোটি টাকার অর্থনীতি

নদীতে মৃত গবাদিপশু ফেলার মহোৎসব: ধ্বংসের মুখে সিলেটের সারি নদী, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে হাজারো পরিবার ।

আপডেটের সময়: ০৪:১১:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

​আঃ খালেক, গোয়াইনঘাট উপজেলা প্রতিনিধি (সিলেট): সিলেটের বৃহত্তর জৈন্তাপুর ও গোয়াইনঘাট উপজেলার বুক চিরে বয়ে যাওয়া ঐতিহাসিক ‘সারি নদী’ আজ চরম বিপর্যয় ও ধ্বংসের মুখে পড়েছে। একশ্রেণির অসাধু ও অসচেতন মানুষের অনিয়ন্ত্রিত কাণ্ডজ্ঞানের অভাব—বিশেষ করে নদীতে মৃত জীবজন্তু ফেলা এবং ফেলা আবর্জনা বা পচা পশুর মৃতদেহের দুর্গন্ধে ভারী হয়ে উঠেছে চারপাশের পরিবেশ। ফলে নদীর পানি মারাত্মকভাবে দূষিত হয়ে পড়ে চরম ভোগান্তি ও স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন এর দুই পারের হাজার হাজার পরিবার।

আরও পড়ুনঃ  কাউনিয়ায় ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম নিয়ে প্রেস কনফারেন্স

​প্রতিবেদনে সরেজমিনে দেখা যায়, নদীপথে ভেসে যাওয়া মৃত পশুর দুর্গন্ধ থেকে বাঁচতে নৌকার যাত্রীদের নাকে কাপড় চাপা দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছ। ​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জৈন্তাপুর ও গোয়াইনঘাট উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকার হাজার হাজার পরিবার বহু বছর ধরে রান্নাবান্না, গোসল, পানীয় জলের জোগান এবং কৃষিকাজের জন্য এই সারি নদীর ওপর সরাসরি নির্ভরশীল। কিন্তু সম্প্রতি নদীতে প্রতিনিয়ত গবাদিপশু সহ বিভিন্ন মৃত জীবজন্তু ফেলার কারণে পানি মারাত্মক দুর্গন্ধযুক্ত ও বিষাক্ত হয়ে উঠছে। দূষিত পানির স্পর্শে আসার ফলে নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের মধ্যে চর্মরোগ, ডায়রিয়া, পেটব্যথা সহ দেখা দিচ্ছে নানা ধরনের জটিল পানিবাহিত রোগব্যাধি।

আরও পড়ুনঃ  মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসনের আয়োজনে বই পড়া উৎসব ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

​নদী পারের ভুক্তভোগী অধিবাসীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, “আমরা এই নদীর পানি দিয়েই গৃহস্থালির যাবতীয় কাজ করি। কিন্তু এখন পচা দুর্গন্ধের কারণে নদীর পাড়ে দাঁড়ানোই দায়। দূষিত পানির কারণে ঘরের শিশু ও বয়োবৃদ্ধরা নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।”
​পরিবেশবিদ ও সচেতন মহলের মতে, এভাবে উন্মুক্ত নদীতে পচা ও মৃত জীবজন্তু ফেলা কেবল নদী পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করছে না, বরং পুরো এলাকার জনস্বাস্থ্যকে এক বড় ধরনের হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। অনতিবিলম্বে নদীতে মৃত পশু ও বর্জ্য ফেলা বন্ধে স্থানীয় প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদের কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।
​এ বিষয়ে গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর উপজেলার সচেতন নাগরিকরা প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির জোরালো দাবি জানিয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ  বারনই নদী পুনরুজ্জীবিত, দূষণমুক্ত ও দখলমুক্তকরণ প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করলেন প্রতিমন্ত্রী