
আঃ খালেক, গোয়াইনঘাট উপজেলা প্রতিনিধি (সিলেট): সিলেটের বৃহত্তর জৈন্তাপুর ও গোয়াইনঘাট উপজেলার বুক চিরে বয়ে যাওয়া ঐতিহাসিক ‘সারি নদী’ আজ চরম বিপর্যয় ও ধ্বংসের মুখে পড়েছে। একশ্রেণির অসাধু ও অসচেতন মানুষের অনিয়ন্ত্রিত কাণ্ডজ্ঞানের অভাব—বিশেষ করে নদীতে মৃত জীবজন্তু ফেলা এবং ফেলা আবর্জনা বা পচা পশুর মৃতদেহের দুর্গন্ধে ভারী হয়ে উঠেছে চারপাশের পরিবেশ। ফলে নদীর পানি মারাত্মকভাবে দূষিত হয়ে পড়ে চরম ভোগান্তি ও স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন এর দুই পারের হাজার হাজার পরিবার।
প্রতিবেদনে সরেজমিনে দেখা যায়, নদীপথে ভেসে যাওয়া মৃত পশুর দুর্গন্ধ থেকে বাঁচতে নৌকার যাত্রীদের নাকে কাপড় চাপা দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছ। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জৈন্তাপুর ও গোয়াইনঘাট উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকার হাজার হাজার পরিবার বহু বছর ধরে রান্নাবান্না, গোসল, পানীয় জলের জোগান এবং কৃষিকাজের জন্য এই সারি নদীর ওপর সরাসরি নির্ভরশীল। কিন্তু সম্প্রতি নদীতে প্রতিনিয়ত গবাদিপশু সহ বিভিন্ন মৃত জীবজন্তু ফেলার কারণে পানি মারাত্মক দুর্গন্ধযুক্ত ও বিষাক্ত হয়ে উঠছে। দূষিত পানির স্পর্শে আসার ফলে নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের মধ্যে চর্মরোগ, ডায়রিয়া, পেটব্যথা সহ দেখা দিচ্ছে নানা ধরনের জটিল পানিবাহিত রোগব্যাধি।
নদী পারের ভুক্তভোগী অধিবাসীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, “আমরা এই নদীর পানি দিয়েই গৃহস্থালির যাবতীয় কাজ করি। কিন্তু এখন পচা দুর্গন্ধের কারণে নদীর পাড়ে দাঁড়ানোই দায়। দূষিত পানির কারণে ঘরের শিশু ও বয়োবৃদ্ধরা নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।”
পরিবেশবিদ ও সচেতন মহলের মতে, এভাবে উন্মুক্ত নদীতে পচা ও মৃত জীবজন্তু ফেলা কেবল নদী পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করছে না, বরং পুরো এলাকার জনস্বাস্থ্যকে এক বড় ধরনের হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। অনতিবিলম্বে নদীতে মৃত পশু ও বর্জ্য ফেলা বন্ধে স্থানীয় প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদের কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর উপজেলার সচেতন নাগরিকরা প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির জোরালো দাবি জানিয়েছেন।
প্রতিবেদকের নাম 




















