
জিএম মাকছুদুর রহমান, কুমিল্লা প্রতিনিধি: কুমিল্লায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে যুবদল কর্মী আবু কাউসার (৪৩) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত তৌহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শুক্রবার রাত পৌনে একটার দিকে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের নূরপুর এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে শুক্রবার বিকেলে কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার নন্দীরবাজার এলাকায় তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত তৌহিদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন। নিহত আবু কাউসার কুমিল্লা নগরের কাপ্তান বাজার এলাকার বাসিন্দা ছিলেন এবং নগর উদ্যানে একটি রাইড পরিচালনা করতেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার ছত্রখিল এলাকায় গোমতী নদীর উত্তর পাড়ে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আবু কাউসারের ওপর হামলা চালানো হয়। পূর্ববিরোধ মীমাংসার কথা বলে তাকে সেখানে ডেকে নেওয়া হয়েছিল। বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে তৌহিদুল ইসলাম ও তার ভাই তানজিলসহ বেশ কয়েকজন ধারালো অস্ত্র দিয়ে কাউসারকে উপর্যুপরি কুপিয়ে জখম করেন। এ সময় তাকে রক্ষায় এগিয়ে আসা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক মাসুমও আহত হন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কাউসার মারা যান।
নিহতের বন্ধু ও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী শামীম হোসেন জানান, ছত্রখিলের ওই জমিটি তিনি কিনেছিলেন। কিন্তু স্থানীয় তৌহিদ ও তার লোকজন জমিটি দখলে বাধা দিচ্ছিল। এই বিরোধ মেটানোর কথা বলেই তাদের সেখানে ডেকে পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়। এদিকে কাউসারের মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে শুক্রবার বিকেলে নন্দীরবাজার এলাকায় সাধারণ মানুষ ও স্বজনরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে তারা অভিযুক্ত তৌহিদের বাড়িতে চড়াও হন। উত্তেজিত জনতা বাড়িটির বিভিন্ন কক্ষে ভাঙচুর চালিয়ে অগ্নিসংযোগ করেন। এতে ঘরের আসবাবপত্রসহ মূল্যবান মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এ সময় বাড়ির সামনে থাকা একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ও পরে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রধান অভিযুক্ত তৌহিদকে ডিবি পুলিশ ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করেছে। তার ভাই তানজিলসহ অন্য সহযোগীদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের একাধিক টিম সাঁড়াশি অভিযান চালাচ্ছে।
প্রতিবেদকের নাম 




















