
মোঃ মনিরুজ্জামান ব্যুরো চিফ,রংপুর বিভাগ
আসন্ন ঈদুল আজহায় নাড়ির টানে ঘরে ফেরা মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে বড় প্রস্তুতি নিয়েছে রেলওয়ে। ঈদযাত্রায় যাত্রীদের বাড়তি চাপ সামলাতে রেলবহরে যুক্ত হচ্ছে অতিরিক্ত ১২৭টি কোচ। নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার শ্রমিক-কর্মচারীদের নিরলস পরিশ্রমে তৈরি হচ্ছে এই বাড়তি সক্ষমতা।
সংকটকে জয় করে বিশাল লক্ষ্য:
কারখানা সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে এখানে প্রয়োজনের তুলনায় মাত্র ২৩ শতাংশ জনবল রয়েছে। এর সাথে যোগ হয়েছে বাজেট স্বল্পতা ও প্রয়োজনীয় উপকরণের অভাব। তবে কোনো বাধাই দমাতে পারেনি শ্রমিকদের। প্রতিদিন নির্ধারিত কর্মঘণ্টার বাইরেও অতিরিক্ত সময় কাজ করে তারা কোচগুলো চলাচলের উপযোগী করছেন। লক্ষ্য একটাই—ঈদযাত্রায় যেন কোনো মানুষ ভোগান্তিতে না পড়ে।
কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) শাহ সুফী নুর মোহাম্মদ জানান, ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন রুটে যাত্রী পরিবহন সক্ষমতা বাড়াতে এবার ১২৭টি কোচ সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ১০৩টি কোচ রেলওয়ের পাকশী ও লালমনিরহাট বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি ২৪টি কোচ আগামী কয়েক কর্মদিবসের মধ্যেই রেলবহরে যুক্ত হবে।
সৈয়দপুর কারখানার বিভিন্ন শপ ঘুরে দেখা যায় কর্মযজ্ঞের ব্যস্ত চিত্র। শ্রমিকরা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত হাতুড়ি-বাটালের শব্দে মুখর রাখছেন চারপাশ। এমনকি শুক্রবার ছুটির দিনেও চলছে মেরামতের কাজ।
কারখানার শ্রমিক শিরীন সুলতানা তার অনুভূতি জানিয়ে বলেন, “ঈদের আগে আমাদের কাজের চাপ অনেক বেড়ে যায়। ছুটির দিনেও কাজ করতে হচ্ছে। কিন্তু যখন ভাবি আমাদের শ্রমে দূরের মানুষগুলো তাদের পরিবারের সঙ্গে ঈদ কাটাতে পারবে, তখন সব কষ্ট ভুলে আমরা আনন্দ পাই।”
কারখানার শিডিউল শপের প্রকৌশলী রুহুল আমীন বলেন, “যাত্রীচাপ মোকাবিলা এবং ঈদযাত্রাকে আরামদায়ক করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। ১২৭টি কোচ সচল করার মাধ্যমে রেলওয়ের পরিবহন ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।”
রেলওয়ে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সময়মতো এই বাড়তি কোচগুলো যুক্ত হওয়ায় এবারের ঈদযাত্রায় ট্রেনের টিকিটের হাহাকার ও ভোগান্তি অনেকটাই লাঘব হবে। সংকট মোকাবিলা করে রেল শ্রমিকদের এই একাগ্রতা ঈদ আনন্দকে পৌঁছে দেবে হাজারো ঘরমুখো মানুষের দ্বারে।
প্রতিবেদকের নাম 



















