
আব্দুর রহমান মোল্লা, স্টাফ রিপোর্টার, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ, ঢাকা:
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক ও অর্গানিক উপায়ে গবাদি পশু লালন-পালন করে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্য পশ্চিম পাড়ার ‘মক্কা এগ্রো ফার্ম’। ক্ষতিকর স্টেরয়েড বা রাসায়নিক মুক্ত খাবার খাইয়ে সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজাকরণ করায় এলাকার সাধারণ ক্রেতা ও খামারিদের মাঝে খামারটি বেশ নজর কেড়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ মে) খামার সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় অত্যন্ত বিনয়ী ও অভিজ্ঞ খামারি মোহাম্মদ ইয়াসিন শেখ শুভাঢ্য পশ্চিম পাড়া এলাকায় সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী ও স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে এই ‘মক্কা এগ্রো ফার্ম’ গড়ে তুলেছেন। তার এই খামারে খৈল, ভুষি, কাঁচা ঘাস এবং সম্পূর্ণ অর্গানিক ও প্রাকৃতিক উপাদানের মাধ্যমে পশুর পুষ্টি নিশ্চিত করা হচ্ছে। কোনো ধরনের কৃত্রিম উপায়ে মোটাতাজাকরণ না করায় এই ফার্মের গরুর চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।
সরেজমিনে শুভাঢ্য পশ্চিম পাড়ার মক্কা এগ্রো ফার্মে গিয়ে দেখা যায়, অত্যন্ত চমৎকার ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশে সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়েছে বিভিন্ন জাতের সুস্থ-সবল গরু। খামারের ওপর সুদৃশ্য আলোকসজ্জা এবং উন্নত শেড ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পশুর আরামদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে। খামারে কর্মরত কর্মীরা নিয়মিত গরুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং যত্নে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
খামারের উদ্যোক্তা মোহাম্মদ ইয়াসিন শেখ অত্যন্ত সাদা মনের ও সহজ-সরল একজন মানুষ। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই গবাদি পশু লালন-পালনের সাথে যুক্ত আছেন। ব্যবসার চেয়ে মানুষের স্বাস্থ্য ও ক্রেতাদের আস্থাকে তিনি সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেন। তার এই সততা ও ন্যাচারাল মনোভাবের কারণে স্থানীয় ক্রেতারাও তাকে এবং তার খামারের গরুকে বেশ পছন্দ করেন।
মোহাম্মদ ইয়াসিন শেখ জানান, “আমরা ব্যবসার চেয়ে ক্রেতাদের স্বাস্থ্য ও আস্থার জায়গাকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছি। ক্ষতিকর ইনজেকশন বা হরমোন ছাড়া, শুধু প্রাকৃতিক খাদ্য দিয়েই আমরা প্রতিটি গরুকে বড় করে তুলছি। ক্রেতারা সরাসরি আমাদের ফার্মে এসে দেখে, যাচাই-বাছাই করে পছন্দের গরু কিনতে পারবেন।”
উপজেলা প্রশাসনের প্রতি বিশেষ আহ্বান:
অভিজ্ঞ ও সৎ এই খামারি জানান, অতীতে সফলভাবে খামার পরিচালনা করলেও বর্তমানে পুঁজি ও প্রয়োজনীয় আর্থিক সংকটের কারণে খামারটি বড় পরিসরে এগিয়ে নিতে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসন এবং উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর থেকে যদি একটু হাত বাড়িয়ে দেওয়া হয় এবং খামারিদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও সহযোগিতা ওনার কাছে পৌঁছানো যায়, তবে এই খামারি আগামীতে আরও অনেক বড় হতে পারবেন।
উপজেলা থেকে যদি উন্নত কারিগরি পরামর্শ, ভ্যাকসিনের সুবিধা এবং সহজ শর্তে সরকারি ঋণের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়, তবে মোহাম্মদ ইয়াসিন শেখ আগামী বছরগুলোতে এই গবাদি পশুর খামারটিকে আরও ব্যাপক আকারে বড় করতে পারবেন। এতে এলাকার বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের যেমন বড় সুযোগ সৃষ্টি হবে, তেমনি উপজেলা পর্যায়ে একটি আদর্শ মডেল খামার গড়ে উঠবে।
নিরাপদ মাংসের চাহিদা পূরণ এবং সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে পশু ক্রয়ের জন্য খামারটি ইতোমধ্যে এলাকায় একটি প্রশংসনীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। স্থানীয় ক্রেতারাও কৃত্রিম উপায়ে মোটাতাজাকরণ করা গরুর চেয়ে এই ফার্মের অর্গানিক গরুর প্রতি বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
প্রতিবেদকের নাম 



















