
বিশেষ প্রতিনিধি
ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার সূর্য্যপাশা গ্রামের এক গৃহবধূকে অপহরণ করে ধর্ষণের অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেছেন তার মেয়ে লামিয়া আক্তার (২০)।
মামলায় নলছিটি উপজেলার নান্দিকাঠি গ্রামের বাসিন্দা মোঃ মিজানুর রহমান মিজানকে একমাত্র আসামি করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘিরে এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
মামলার কপি ও আদালতে দাখিলকৃত হলফনামা সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী কোহিনুর বেগম সূর্য্যপাশা গ্রামের মোঃ মামুন মাতব্বর এর স্ত্রী। তিনি দীর্ঘ দুই বছর ধরে নলছিটির মল্লিকপুর এলাকায় একটি ভাড়া দোকানে ব্যবসা পরিচালনা করতেন। অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় থেকেই আসামি তাকে বিভিন্নভাবে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন।
বিষয়টি নিয়ে পরিবারে অশান্তি ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হলে একপর্যায়ে তিনি স্বামীর সংসার ছেড়ে পরিবারসহ বরিশালের কাউনিয়া উপজেলার বেলতলা চরআবদানী এলাকায় ভাড়া বাসায় আশ্রয় নেন।
তবে নতুন এলাকায় গিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি বলে অভিযোগ পরিবারের। মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৫ এপ্রিল ২০২৬ ভোর আনুমানিক ৬টার দিকে ভুক্তভোগী বাসা থেকে বের হলে আসামি ও তার সঙ্গে থাকা ২-৩ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি একটি অটোগাড়িতে করে তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়-স্বজনের বাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, পরে কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর মাধ্যমে জানতে পারেন, তাকে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখে ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার চরম মানসিক বিপর্যয়ের মধ্যে রয়েছে বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে গত ৪ মে সকালে কাউনিয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করতে গেলে কর্তব্যরত কর্মকর্তা আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩) এর ৯/৯(১) ধারায় ট্রাইব্যুনালে মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলায় ভুক্তভোগীসহ মোট সাতজনকে সাক্ষী করা হয়েছে। আদালতে দাখিলকৃত হলফনামায় বাদী অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করেছেন।
এদিকে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়রা ঘটনার দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
প্রতিবেদকের নাম 


















