
মোঃ রমজান আলী আটোয়ারী উপজেলা (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি: রেলপথকে সাধারণ মানুষের সবচেয়ে নিরাপদ ও আরামদায়ক মাধ্যম হিসেবে ধরা হলেও, বর্তমান চিত্র যেন সম্পূর্ণ উল্টো। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের লাইফলাইন খ্যাত পঞ্চগড় থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা আন্তঃনগর ট্রেনগুলোতে যাত্রীদের দুর্ভোগ এখন চরমে। আজ ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ইং তারিখে সম্প্রতি পঞ্চগড় থেকে ঢাকাগামী জনপ্রিয় ‘একতা এক্সপ্রেস’ ট্রেনের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) বগির অভ্যন্তরীণ যে দৃশ্য দেখা গেছে, তা দেখে সাধারণ যাত্রীদের মনে প্রশ্ন উঠেছে—এটি কি কোনো যাত্রীবাহী ট্রেন, নাকি গাদাগাদি করে গবাদিপশু বহনের কোনো গোয়ালঘর?
এসি বগিতে উপচে পড়া ভিড় ও বিশৃঙ্খলা:
রেলের নিয়ম অনুযায়ী, এসি বগির টিকিট পাওয়া অত্যন্ত কঠিন এবং এর মূল্যও সাধারণ চেয়ার কোচের তুলনায় যথেষ্ট বেশি। উদ্দেশ্য থাকে যাত্রীরা যেন একটু শান্তিতে, স্বাচ্ছন্দ্যে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে পারেন। কিন্তু একতা এক্সপ্রেসের এসি বগিগুলোর বর্তমান অবস্থা যাত্রীদের সেই স্বস্তি কেড়ে নিয়েছে। দেখা যায়, ট্রেনটি পঞ্চগড় স্টেশন ছাড়ার পর থেকেই বিভিন্ন স্টেশন থেকে টিকিটবিহীন যাত্রীদের অবৈধ প্রবেশ শুরু হয়। একটা সময় পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় যে, এসি বগির করিডোর, গেটের সামন এবং দুই সিটের মাঝের ফাঁকা জায়গায় তিল ধারণের ঠাঁই থাকে না। অবাক করা বিষয় হলো, মেঝেতে গাদাগাদি করে মানুষ বসে থাকে, যার ফলে পা ফেলারও উপায় থাকে না। অনেক সময় অবৈধ যাত্রীদের ভিড়ে প্রকৃত টিকিটধারী যাত্রীরা নিজেদের নির্দিষ্ট আসনে বসতে কিংবা শৌচাগারে যেতে পর্যন্ত চরম বিপাকে পড়েন।
অব্যবস্থাপনা ও তদারকির অভাব: দীর্ঘ ১২ ঘন্টাও একবারও ট্রেনের টিকেট টিটিই (TTE – Travelling Ticket Examiner) বা ভ্রাম্যমাণ টিকেট পরীক্ষক চেক করার জন্য প্রবেশ করেনি। প্রশ্ন উঠছে, কঠোর নিরাপত্তার কথা বলা হলেও কীভাবে টিকিটবিহীন এত মানুষ এসি বগিতে প্রবেশ করে? অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসাধু ট্রেন পরিদর্শক (টিটিই) ও রেলের কতিপয় কর্মীর সাথে সমঝোতা কিংবা আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমেই এই অনিয়ম নিয়মিত চলছে। স্টেশনের গেট ফাঁকি দিয়ে অথবা চলন্ত ট্রেন থেকে অতিরিক্ত যাত্রীরা এভাবে উঠে এসি বগির পরিবেশ নষ্ট করছে। অথচ প্রতিবাদ করলে অনেক সময় উল্টো হেনস্থার শিকার হতে হয় বৈধ যাত্রীদের।
যাত্রীদের ক্ষোভ ও আকুতি:
এসি বগির ভেতরে এমন গাদাগাদি অবস্থা দেখে এক ক্ষুব্ধ যাত্রী আক্ষেপ করে বলেন, “অতিরিক্ত টিকিটের দাম দিয়ে এসি বগির টিকিট কেটেছি শান্তিতে যাওয়ার জন্য, অথচ এখানে এসে দেখি লোকাল বাসের চেয়েও খারাপ অবস্থা। মানুষ এমনভাবে গাদাগাদি করে দাঁড়িয়ে আছে যে বগিগুলোকে গোয়ালঘর ছাড়া আর কিছু মনে হচ্ছে না।”
দ্রুত প্রতিকার প্রয়োজন:
রেলওয়ে খাতের এই অব্যবস্থাপনা দেশের সাধারণ যাত্রীদের চরম হতাশ করছে। সরকারের পক্ষ থেকে বারবার রেলকে লাভজনক ও যাত্রীসেবামূলক করার কথা বলা হলেও মাঠপর্যায়ে এর সঠিক প্রয়োগ দেখা যাচ্ছে না। পঞ্চগড়-ঢাকা রুটের ট্রেনগুলোতে এ ধরনের বিশৃঙ্খলা ও টিকিটবিহীন ভ্রমণ রোধে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর কড়া নজরদারি অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায়, সাধারণ যাত্রীদের এই পুঞ্জীভূত ক্ষোভ যেকোনো সময় বড় আন্দোলনে রূপ নিতে পারে।
প্রতিবেদকের নাম 



















