Dhaka ১০:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
ধামরাইয়ে ২৩৫ টি পূজা মন্ডপে ১৪৭৮ জন আনসার সদস্য নিরলস ভাবে কাজ করছে সিলেটে বিভিন্ন পূজামন্ডপ পরিদর্শন করলেন সিলেটের ডিআইজি সদরপুরে ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে ঠাকুরডাঙ্গী যুব সংঘের জয় সিলেট-তামাবিল মহাসড়কে হাইওয়ে ও থানা পুলিশের নামে চাঁদাবাজি নৌপথে শাশীম সিন্ডিকেট দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিশ্চিতে চকরিয়া কেন্দ্রীয় হরিমন্দির পরিদর্শন কাউনিয়ায় দৈনিক কালবেলার চতুর্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন দীঘিনালায় কাটারুং ছড়া ত্রিরত্ন বৌদ্ধ বিহারে সেনা জোনের ডেউটিন প্রদান বাঁশখালীতে দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক, দিলেন আর্থিক সহায়তা পবায় উৎসাহ-উদ্দীপনায় ৩১তম হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা সম্পন্ন লালপুরে চানপুরের রাস্তায় আবারও ডাকাতি!

গাছে পেরেক মেরে সাইনবোর্ড: বিপন্ন হচ্ছে আমাদের জাতীয় ফল গাছ

স্টাফ রিপোর্টার আব্দুর রহমান মোল্লা:
​গ্রীষ্মের এই সময়ে প্রকৃতিতে দেখা মিলছে রসালো ফলের সমাহার। আমাদের জাতীয় ফল কাঁঠাল গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে থোকায় থোকায় কাঁঠাল। প্রকৃতিতে ফলন্ত গাছের এমন চমৎকার রূপ একাধারে যেমন চোখ জুড়িয়ে দেয়, ঠিক তেমনি কিছু মানুষের অসচেতনতা ও নির্মমতার কারণে এই সৌন্দর্য আজ হুমকির মুখে।
​সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, ফলন্ত এবং সতেজ সুন্দর সুন্দর কাঁঠাল গাছের বুক চিরে পেরেক মেরে ঝুলিয়ে দেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনের সাইনবোর্ড। নিজের প্রচারণার স্বার্থে জীবন্ত একটি ফলবান গাছের এভাবে ক্ষতি করা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
​গাছে পেরেক মারার ক্ষতিকর দিকসমূহ:
​পরিবেশবিদ ও উদ্ভিদ বিজ্ঞানীদের মতে, গাছে পেরেক মারার বিষয়টি মোটেও হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। এর ফলে উদ্ভিদের যে ক্ষতিগুলো হয়:
​খাদ্য ও পানি চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়া: পেরেকের আঘাতে গাছের জাইলেম ও ফ্লোয়েম কলার ক্ষতি হয়, যা গাছের মূল থেকে পাতায় পানি এবং পাতা থেকে সারা শরীরে খাদ্য পৌঁছাতে বাধা দেয়।

আরও পড়ুনঃ  কেরানীগঞ্জে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে উপহার সামগ্রী বিতরণ ​

​ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ: পেরেক মারার ফলে যে ক্ষতের সৃষ্টি হয়, সেই পথ দিয়ে অতি সহজেই গাছে ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাসের সংক্রমণ ঘটে। ফলে গাছটি ধীরে ধীরে ভেতর থেকে পচে যায়।অকাল মৃত্যু: দীর্ঘদিন এভাবে পেরেকবিদ্ধ থাকার ফলে গাছের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় এবং একসময় জীবন্ত, ফলবান গাছটি অকালেই মারা পড়ে।আইনি নিষেধাজ্ঞা ও সচেতনতার অভাব:গাছে এভাবে সাইনবোর্ড বা ব্যানার ঝোলানো আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হওয়া সত্ত্বেও আইনের সঠিক প্রয়োগ ও জনসচেতনতার অভাবে প্রতিনিয়ত রাস্তাঘাটের পাশের গাছগুলো এই নির্মমতার শিকার হচ্ছে। নিজের ব্যবসার বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য প্রকৃতির এই অমূল্য সম্পদকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া কোনো সচেতন নাগরিকের কাজ হতে পারে না।

আরও পড়ুনঃ  ঢামেকে সুস্থ হতে এসে অসুস্থতার ঝুঁকি

​আমাদের করণীয়:
​জাতীয় ফল গাছসহ যেকোনো গাছের ওপর এমন অত্যাচার বন্ধ করতে এখনই প্রশাসন ও সাধারণ জনগণকে এগিয়ে আসতে হবে।সুপারিশ: প্রশাসনের উচিত অবিলম্বে গাছ থেকে এই ধরনের অবৈধ সাইনবোর্ড উচ্ছেদ করা এবং দোষীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করা। একই সাথে সাধারণ মানুষকে গাছের প্রতি সদয় হতে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।আসুন, প্রকৃতির সৌন্দর্যকে ভালোবেসে গাছ রক্ষা করি, কারণ গাছ বাঁচলেই বাঁচবে আমাদের পরিবেশ।

আরও পড়ুনঃ  কেরানীগঞ্জে বেড়েই চলেছে অগ্নিদুর্ঘটনা: মুহুরী পট্টি রোডে একটুর জন্য রক্ষা, এলাকাবাসীর উদ্যোগে মিলল নিস্তার
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

ধামরাইয়ে ২৩৫ টি পূজা মন্ডপে ১৪৭৮ জন আনসার সদস্য নিরলস ভাবে কাজ করছে

গাছে পেরেক মেরে সাইনবোর্ড: বিপন্ন হচ্ছে আমাদের জাতীয় ফল গাছ

আপডেটের সময়: ১১:০৯:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার আব্দুর রহমান মোল্লা:
​গ্রীষ্মের এই সময়ে প্রকৃতিতে দেখা মিলছে রসালো ফলের সমাহার। আমাদের জাতীয় ফল কাঁঠাল গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে থোকায় থোকায় কাঁঠাল। প্রকৃতিতে ফলন্ত গাছের এমন চমৎকার রূপ একাধারে যেমন চোখ জুড়িয়ে দেয়, ঠিক তেমনি কিছু মানুষের অসচেতনতা ও নির্মমতার কারণে এই সৌন্দর্য আজ হুমকির মুখে।
​সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, ফলন্ত এবং সতেজ সুন্দর সুন্দর কাঁঠাল গাছের বুক চিরে পেরেক মেরে ঝুলিয়ে দেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনের সাইনবোর্ড। নিজের প্রচারণার স্বার্থে জীবন্ত একটি ফলবান গাছের এভাবে ক্ষতি করা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
​গাছে পেরেক মারার ক্ষতিকর দিকসমূহ:
​পরিবেশবিদ ও উদ্ভিদ বিজ্ঞানীদের মতে, গাছে পেরেক মারার বিষয়টি মোটেও হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। এর ফলে উদ্ভিদের যে ক্ষতিগুলো হয়:
​খাদ্য ও পানি চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়া: পেরেকের আঘাতে গাছের জাইলেম ও ফ্লোয়েম কলার ক্ষতি হয়, যা গাছের মূল থেকে পাতায় পানি এবং পাতা থেকে সারা শরীরে খাদ্য পৌঁছাতে বাধা দেয়।

আরও পড়ুনঃ  রাজধানী ছাড়ছেন নগরবাসী পূজার দীর্ঘ ছুটিতে 

​ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ: পেরেক মারার ফলে যে ক্ষতের সৃষ্টি হয়, সেই পথ দিয়ে অতি সহজেই গাছে ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাসের সংক্রমণ ঘটে। ফলে গাছটি ধীরে ধীরে ভেতর থেকে পচে যায়।অকাল মৃত্যু: দীর্ঘদিন এভাবে পেরেকবিদ্ধ থাকার ফলে গাছের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় এবং একসময় জীবন্ত, ফলবান গাছটি অকালেই মারা পড়ে।আইনি নিষেধাজ্ঞা ও সচেতনতার অভাব:গাছে এভাবে সাইনবোর্ড বা ব্যানার ঝোলানো আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হওয়া সত্ত্বেও আইনের সঠিক প্রয়োগ ও জনসচেতনতার অভাবে প্রতিনিয়ত রাস্তাঘাটের পাশের গাছগুলো এই নির্মমতার শিকার হচ্ছে। নিজের ব্যবসার বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য প্রকৃতির এই অমূল্য সম্পদকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া কোনো সচেতন নাগরিকের কাজ হতে পারে না।

আরও পড়ুনঃ  কেরানীগঞ্জে বেড়েই চলেছে অগ্নিদুর্ঘটনা: মুহুরী পট্টি রোডে একটুর জন্য রক্ষা, এলাকাবাসীর উদ্যোগে মিলল নিস্তার

​আমাদের করণীয়:
​জাতীয় ফল গাছসহ যেকোনো গাছের ওপর এমন অত্যাচার বন্ধ করতে এখনই প্রশাসন ও সাধারণ জনগণকে এগিয়ে আসতে হবে।সুপারিশ: প্রশাসনের উচিত অবিলম্বে গাছ থেকে এই ধরনের অবৈধ সাইনবোর্ড উচ্ছেদ করা এবং দোষীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করা। একই সাথে সাধারণ মানুষকে গাছের প্রতি সদয় হতে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।আসুন, প্রকৃতির সৌন্দর্যকে ভালোবেসে গাছ রক্ষা করি, কারণ গাছ বাঁচলেই বাঁচবে আমাদের পরিবেশ।

আরও পড়ুনঃ  কেরানীগঞ্জে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে উপহার সামগ্রী বিতরণ ​