Dhaka ০৭:১০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
দোহাজারীতে ১ কোটি ২৩ লাখ টাকার সড়ক সংস্কারে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারে ব্যপক অভিযোগ টানা ৫ দিন ধরে বন্ধ হিলি বন্দরের আমদানি-রপ্তানি পত্নীতলায় পুলিশের অভিযানে ৫ যুবক আটক ২শত টাকার জন্য হত্যা পুলিশের অভিযানে পাঁচজন আসামি গ্রেপ্তার তারেক রহমানের কারামুক্তি দিবসে শিবগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের মাঝে খাবার বিতরণ চিলমারীতে মধ্যযুগীয় বর্বরতায় নারীর গর্ভস্খলন ও ঘর-বাড়িতে অগ্নি সংযোগের প্রতিবাদে মানব বন্ধন নিরাপত্তার আশ্বাস ও ৫ ছাত্রদল নেতা বহিষ্কারের পর শজিমেকে কর্মবিরতি প্রত্যাহার ধুনটে বিস্ফোরক, ভাঙচুর ও নাশকতা মামলায় ৩ আ’লীগ নেতা গ্রেপ্তার। কাউনিয়ায় আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে টেকসই কৃষি উন্নয়নে কৃষকদের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত সম্পত্তি লিখে নিতে চাপ, ছেলের বিরুদ্ধে বৃদ্ধা মায়ের নির্যাতন ও হত্যার হুমকির অভিযোগ‌

গাছে পেরেক মেরে সাইনবোর্ড: বিপন্ন হচ্ছে আমাদের জাতীয় ফল গাছ

স্টাফ রিপোর্টার আব্দুর রহমান মোল্লা:
​গ্রীষ্মের এই সময়ে প্রকৃতিতে দেখা মিলছে রসালো ফলের সমাহার। আমাদের জাতীয় ফল কাঁঠাল গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে থোকায় থোকায় কাঁঠাল। প্রকৃতিতে ফলন্ত গাছের এমন চমৎকার রূপ একাধারে যেমন চোখ জুড়িয়ে দেয়, ঠিক তেমনি কিছু মানুষের অসচেতনতা ও নির্মমতার কারণে এই সৌন্দর্য আজ হুমকির মুখে।
​সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, ফলন্ত এবং সতেজ সুন্দর সুন্দর কাঁঠাল গাছের বুক চিরে পেরেক মেরে ঝুলিয়ে দেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনের সাইনবোর্ড। নিজের প্রচারণার স্বার্থে জীবন্ত একটি ফলবান গাছের এভাবে ক্ষতি করা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
​গাছে পেরেক মারার ক্ষতিকর দিকসমূহ:
​পরিবেশবিদ ও উদ্ভিদ বিজ্ঞানীদের মতে, গাছে পেরেক মারার বিষয়টি মোটেও হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। এর ফলে উদ্ভিদের যে ক্ষতিগুলো হয়:
​খাদ্য ও পানি চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়া: পেরেকের আঘাতে গাছের জাইলেম ও ফ্লোয়েম কলার ক্ষতি হয়, যা গাছের মূল থেকে পাতায় পানি এবং পাতা থেকে সারা শরীরে খাদ্য পৌঁছাতে বাধা দেয়।

আরও পড়ুনঃ  দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে সাবান ফ্যাক্টরি মাঠের কোনা সংলগ্ন রাস্তা বেহাল: এসিল্যান্ড অফিসে আসা হাজারো মানুষের চরম দুর্ভোগ ​

​ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ: পেরেক মারার ফলে যে ক্ষতের সৃষ্টি হয়, সেই পথ দিয়ে অতি সহজেই গাছে ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাসের সংক্রমণ ঘটে। ফলে গাছটি ধীরে ধীরে ভেতর থেকে পচে যায়।অকাল মৃত্যু: দীর্ঘদিন এভাবে পেরেকবিদ্ধ থাকার ফলে গাছের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় এবং একসময় জীবন্ত, ফলবান গাছটি অকালেই মারা পড়ে।আইনি নিষেধাজ্ঞা ও সচেতনতার অভাব:গাছে এভাবে সাইনবোর্ড বা ব্যানার ঝোলানো আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হওয়া সত্ত্বেও আইনের সঠিক প্রয়োগ ও জনসচেতনতার অভাবে প্রতিনিয়ত রাস্তাঘাটের পাশের গাছগুলো এই নির্মমতার শিকার হচ্ছে। নিজের ব্যবসার বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য প্রকৃতির এই অমূল্য সম্পদকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া কোনো সচেতন নাগরিকের কাজ হতে পারে না।

আরও পড়ুনঃ  গুমের পুনরাবৃত্তি চিরতরে বন্ধ করাই আমাদের দায়িত্ব: ইশরাক

​আমাদের করণীয়:
​জাতীয় ফল গাছসহ যেকোনো গাছের ওপর এমন অত্যাচার বন্ধ করতে এখনই প্রশাসন ও সাধারণ জনগণকে এগিয়ে আসতে হবে।সুপারিশ: প্রশাসনের উচিত অবিলম্বে গাছ থেকে এই ধরনের অবৈধ সাইনবোর্ড উচ্ছেদ করা এবং দোষীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করা। একই সাথে সাধারণ মানুষকে গাছের প্রতি সদয় হতে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।আসুন, প্রকৃতির সৌন্দর্যকে ভালোবেসে গাছ রক্ষা করি, কারণ গাছ বাঁচলেই বাঁচবে আমাদের পরিবেশ।

আরও পড়ুনঃ  হয়রানিমুক্ত ভূমি সেবা নিশ্চিতে কঠোর নির্দেশনা ডিসি ফরিদার
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

দোহাজারীতে ১ কোটি ২৩ লাখ টাকার সড়ক সংস্কারে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারে ব্যপক অভিযোগ

গাছে পেরেক মেরে সাইনবোর্ড: বিপন্ন হচ্ছে আমাদের জাতীয় ফল গাছ

আপডেটের সময়: ১১:০৯:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার আব্দুর রহমান মোল্লা:
​গ্রীষ্মের এই সময়ে প্রকৃতিতে দেখা মিলছে রসালো ফলের সমাহার। আমাদের জাতীয় ফল কাঁঠাল গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে থোকায় থোকায় কাঁঠাল। প্রকৃতিতে ফলন্ত গাছের এমন চমৎকার রূপ একাধারে যেমন চোখ জুড়িয়ে দেয়, ঠিক তেমনি কিছু মানুষের অসচেতনতা ও নির্মমতার কারণে এই সৌন্দর্য আজ হুমকির মুখে।
​সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, ফলন্ত এবং সতেজ সুন্দর সুন্দর কাঁঠাল গাছের বুক চিরে পেরেক মেরে ঝুলিয়ে দেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনের সাইনবোর্ড। নিজের প্রচারণার স্বার্থে জীবন্ত একটি ফলবান গাছের এভাবে ক্ষতি করা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
​গাছে পেরেক মারার ক্ষতিকর দিকসমূহ:
​পরিবেশবিদ ও উদ্ভিদ বিজ্ঞানীদের মতে, গাছে পেরেক মারার বিষয়টি মোটেও হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। এর ফলে উদ্ভিদের যে ক্ষতিগুলো হয়:
​খাদ্য ও পানি চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়া: পেরেকের আঘাতে গাছের জাইলেম ও ফ্লোয়েম কলার ক্ষতি হয়, যা গাছের মূল থেকে পাতায় পানি এবং পাতা থেকে সারা শরীরে খাদ্য পৌঁছাতে বাধা দেয়।

আরও পড়ুনঃ  আসিফ মাহমুদসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান শুরু

​ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ: পেরেক মারার ফলে যে ক্ষতের সৃষ্টি হয়, সেই পথ দিয়ে অতি সহজেই গাছে ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাসের সংক্রমণ ঘটে। ফলে গাছটি ধীরে ধীরে ভেতর থেকে পচে যায়।অকাল মৃত্যু: দীর্ঘদিন এভাবে পেরেকবিদ্ধ থাকার ফলে গাছের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় এবং একসময় জীবন্ত, ফলবান গাছটি অকালেই মারা পড়ে।আইনি নিষেধাজ্ঞা ও সচেতনতার অভাব:গাছে এভাবে সাইনবোর্ড বা ব্যানার ঝোলানো আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হওয়া সত্ত্বেও আইনের সঠিক প্রয়োগ ও জনসচেতনতার অভাবে প্রতিনিয়ত রাস্তাঘাটের পাশের গাছগুলো এই নির্মমতার শিকার হচ্ছে। নিজের ব্যবসার বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য প্রকৃতির এই অমূল্য সম্পদকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া কোনো সচেতন নাগরিকের কাজ হতে পারে না।

আরও পড়ুনঃ  কেরানীগঞ্জে নজরুলবর্ষ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

​আমাদের করণীয়:
​জাতীয় ফল গাছসহ যেকোনো গাছের ওপর এমন অত্যাচার বন্ধ করতে এখনই প্রশাসন ও সাধারণ জনগণকে এগিয়ে আসতে হবে।সুপারিশ: প্রশাসনের উচিত অবিলম্বে গাছ থেকে এই ধরনের অবৈধ সাইনবোর্ড উচ্ছেদ করা এবং দোষীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করা। একই সাথে সাধারণ মানুষকে গাছের প্রতি সদয় হতে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।আসুন, প্রকৃতির সৌন্দর্যকে ভালোবেসে গাছ রক্ষা করি, কারণ গাছ বাঁচলেই বাঁচবে আমাদের পরিবেশ।

আরও পড়ুনঃ  দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে সাবান ফ্যাক্টরি মাঠের কোনা সংলগ্ন রাস্তা বেহাল: এসিল্যান্ড অফিসে আসা হাজারো মানুষের চরম দুর্ভোগ ​