Dhaka ০১:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
কুড়িগ্রামে ল্যাম্পি স্কিন ডিজিজ প্রতিরোধে সচেতনতামূলক সভা ও ভ্যাকসিন কার্যক্রম সাঘাটায় বজ্রপাতে মা-ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যু, ছয় মাসের শিশুকে নিয়ে দিশেহারা পুত্রবধূ বগুড়া শহর বাইপাস করে নতুন রেলপথের উদ্যোগ কেন্দুয়ায় ৫শ টাকা পাওনার বিরোধে একজনকে কুপিয়ে হত্যা! মা-ছেলে আটক পবায় গ্রাম আদালতের সেবা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে বার্ষিক ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত মাদারগঞ্জে নিজ ঘরে বিষাক্ত সাপের কামড়ে, ছোট্ট শিশুর মৃত্যু ধমকিয়ে-পিটিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকা যায় না: মির্জা ফখরুল নেপালকে হারিয়ে টানা তৃতীয়বার ফাইনালে বাংলাদেশ বিদ্যুতের দাম বাড়লো ফ্ল্যাটে মায়ের নিঃসঙ্গ মৃত্যু ছেলে সেই যুগ্মসচিবকে প্রত্যাহার

গাছে পেরেক মেরে সাইনবোর্ড: বিপন্ন হচ্ছে আমাদের জাতীয় ফল গাছ

স্টাফ রিপোর্টার আব্দুর রহমান মোল্লা:
​গ্রীষ্মের এই সময়ে প্রকৃতিতে দেখা মিলছে রসালো ফলের সমাহার। আমাদের জাতীয় ফল কাঁঠাল গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে থোকায় থোকায় কাঁঠাল। প্রকৃতিতে ফলন্ত গাছের এমন চমৎকার রূপ একাধারে যেমন চোখ জুড়িয়ে দেয়, ঠিক তেমনি কিছু মানুষের অসচেতনতা ও নির্মমতার কারণে এই সৌন্দর্য আজ হুমকির মুখে।
​সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, ফলন্ত এবং সতেজ সুন্দর সুন্দর কাঁঠাল গাছের বুক চিরে পেরেক মেরে ঝুলিয়ে দেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনের সাইনবোর্ড। নিজের প্রচারণার স্বার্থে জীবন্ত একটি ফলবান গাছের এভাবে ক্ষতি করা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
​গাছে পেরেক মারার ক্ষতিকর দিকসমূহ:
​পরিবেশবিদ ও উদ্ভিদ বিজ্ঞানীদের মতে, গাছে পেরেক মারার বিষয়টি মোটেও হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। এর ফলে উদ্ভিদের যে ক্ষতিগুলো হয়:
​খাদ্য ও পানি চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়া: পেরেকের আঘাতে গাছের জাইলেম ও ফ্লোয়েম কলার ক্ষতি হয়, যা গাছের মূল থেকে পাতায় পানি এবং পাতা থেকে সারা শরীরে খাদ্য পৌঁছাতে বাধা দেয়।

আরও পড়ুনঃ  ​১০ম বছরে ‘বিডি ক্লিন’: হাইকোর্টের সামনে ব্যতিক্রমী মানববন্ধনে স্বপ্নের বাংলাদেশের ডাক

​ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ: পেরেক মারার ফলে যে ক্ষতের সৃষ্টি হয়, সেই পথ দিয়ে অতি সহজেই গাছে ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাসের সংক্রমণ ঘটে। ফলে গাছটি ধীরে ধীরে ভেতর থেকে পচে যায়।অকাল মৃত্যু: দীর্ঘদিন এভাবে পেরেকবিদ্ধ থাকার ফলে গাছের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় এবং একসময় জীবন্ত, ফলবান গাছটি অকালেই মারা পড়ে।আইনি নিষেধাজ্ঞা ও সচেতনতার অভাব:গাছে এভাবে সাইনবোর্ড বা ব্যানার ঝোলানো আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হওয়া সত্ত্বেও আইনের সঠিক প্রয়োগ ও জনসচেতনতার অভাবে প্রতিনিয়ত রাস্তাঘাটের পাশের গাছগুলো এই নির্মমতার শিকার হচ্ছে। নিজের ব্যবসার বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য প্রকৃতির এই অমূল্য সম্পদকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া কোনো সচেতন নাগরিকের কাজ হতে পারে না।

আরও পড়ুনঃ  লালবাগ থেকে পর্নোগ্রাফি ও ধর্ষণ মামলার গ্রেফতার ১

​আমাদের করণীয়:
​জাতীয় ফল গাছসহ যেকোনো গাছের ওপর এমন অত্যাচার বন্ধ করতে এখনই প্রশাসন ও সাধারণ জনগণকে এগিয়ে আসতে হবে।সুপারিশ: প্রশাসনের উচিত অবিলম্বে গাছ থেকে এই ধরনের অবৈধ সাইনবোর্ড উচ্ছেদ করা এবং দোষীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করা। একই সাথে সাধারণ মানুষকে গাছের প্রতি সদয় হতে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।আসুন, প্রকৃতির সৌন্দর্যকে ভালোবেসে গাছ রক্ষা করি, কারণ গাছ বাঁচলেই বাঁচবে আমাদের পরিবেশ।

আরও পড়ুনঃ  ​১০ম বছরে ‘বিডি ক্লিন’: হাইকোর্টের সামনে ব্যতিক্রমী মানববন্ধনে স্বপ্নের বাংলাদেশের ডাক
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

কুড়িগ্রামে ল্যাম্পি স্কিন ডিজিজ প্রতিরোধে সচেতনতামূলক সভা ও ভ্যাকসিন কার্যক্রম

গাছে পেরেক মেরে সাইনবোর্ড: বিপন্ন হচ্ছে আমাদের জাতীয় ফল গাছ

আপডেটের সময়: ১১:০৯:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার আব্দুর রহমান মোল্লা:
​গ্রীষ্মের এই সময়ে প্রকৃতিতে দেখা মিলছে রসালো ফলের সমাহার। আমাদের জাতীয় ফল কাঁঠাল গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে থোকায় থোকায় কাঁঠাল। প্রকৃতিতে ফলন্ত গাছের এমন চমৎকার রূপ একাধারে যেমন চোখ জুড়িয়ে দেয়, ঠিক তেমনি কিছু মানুষের অসচেতনতা ও নির্মমতার কারণে এই সৌন্দর্য আজ হুমকির মুখে।
​সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, ফলন্ত এবং সতেজ সুন্দর সুন্দর কাঁঠাল গাছের বুক চিরে পেরেক মেরে ঝুলিয়ে দেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনের সাইনবোর্ড। নিজের প্রচারণার স্বার্থে জীবন্ত একটি ফলবান গাছের এভাবে ক্ষতি করা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
​গাছে পেরেক মারার ক্ষতিকর দিকসমূহ:
​পরিবেশবিদ ও উদ্ভিদ বিজ্ঞানীদের মতে, গাছে পেরেক মারার বিষয়টি মোটেও হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। এর ফলে উদ্ভিদের যে ক্ষতিগুলো হয়:
​খাদ্য ও পানি চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়া: পেরেকের আঘাতে গাছের জাইলেম ও ফ্লোয়েম কলার ক্ষতি হয়, যা গাছের মূল থেকে পাতায় পানি এবং পাতা থেকে সারা শরীরে খাদ্য পৌঁছাতে বাধা দেয়।

আরও পড়ুনঃ  লালবাগ থেকে পর্নোগ্রাফি ও ধর্ষণ মামলার গ্রেফতার ১

​ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ: পেরেক মারার ফলে যে ক্ষতের সৃষ্টি হয়, সেই পথ দিয়ে অতি সহজেই গাছে ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাসের সংক্রমণ ঘটে। ফলে গাছটি ধীরে ধীরে ভেতর থেকে পচে যায়।অকাল মৃত্যু: দীর্ঘদিন এভাবে পেরেকবিদ্ধ থাকার ফলে গাছের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় এবং একসময় জীবন্ত, ফলবান গাছটি অকালেই মারা পড়ে।আইনি নিষেধাজ্ঞা ও সচেতনতার অভাব:গাছে এভাবে সাইনবোর্ড বা ব্যানার ঝোলানো আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হওয়া সত্ত্বেও আইনের সঠিক প্রয়োগ ও জনসচেতনতার অভাবে প্রতিনিয়ত রাস্তাঘাটের পাশের গাছগুলো এই নির্মমতার শিকার হচ্ছে। নিজের ব্যবসার বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য প্রকৃতির এই অমূল্য সম্পদকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া কোনো সচেতন নাগরিকের কাজ হতে পারে না।

আরও পড়ুনঃ  ​১০ম বছরে ‘বিডি ক্লিন’: হাইকোর্টের সামনে ব্যতিক্রমী মানববন্ধনে স্বপ্নের বাংলাদেশের ডাক

​আমাদের করণীয়:
​জাতীয় ফল গাছসহ যেকোনো গাছের ওপর এমন অত্যাচার বন্ধ করতে এখনই প্রশাসন ও সাধারণ জনগণকে এগিয়ে আসতে হবে।সুপারিশ: প্রশাসনের উচিত অবিলম্বে গাছ থেকে এই ধরনের অবৈধ সাইনবোর্ড উচ্ছেদ করা এবং দোষীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করা। একই সাথে সাধারণ মানুষকে গাছের প্রতি সদয় হতে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।আসুন, প্রকৃতির সৌন্দর্যকে ভালোবেসে গাছ রক্ষা করি, কারণ গাছ বাঁচলেই বাঁচবে আমাদের পরিবেশ।

আরও পড়ুনঃ  লালবাগ থেকে পর্নোগ্রাফি ও ধর্ষণ মামলার গ্রেফতার ১