
জিহাদুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার
ফেসবুকে পরিচয়ের সূত্র ধরে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ধর্ষণ এবং পরবর্তীতে সেই ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে ১০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে অভিযুক্ত একমাত্র আসামি হাসিব চৌধুরী (২১)’কে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১০
গতকাল ০২ জুন ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ২০:০৫ ঘটিকায় রাজধানীর লালবাগ থানার পলাশীর মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত হাসিব চৌধুরী বরিশাল জেলার হিজলা থানার মোল্লারহাট এলাকার লিটন চৌধুরীর ছেলে।
ঘটনার বিবরণী
মামলার এজাহার ও র্যাব সূত্রে জানা যায়, আসামি হাসিব চৌধুরীর সাথে ফেসবুকে ভিকটিমের পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ তারিখ দুপুরে ভিকটিমকে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে ফরিদপুর জেলার কোতয়ালী থানাধীন চরকমলাপুর এলাকার একটি রেস্টুরেন্টে নিয়ে যায় হাসিব। সেখানে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে ধর্ষণ করা হয় এবং হাসিব তার মুঠোফোনে ধর্ষণের ছবি ও ভিডিও ধারণ করে রাখে।
পরবর্তীতে সেই আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ওয়েবসাইটে ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ভিকটিমের কাছে ১০,০০,০০০ (দশ লক্ষ) টাকা দাবি করে আসামি। ভিকটিম উক্ত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে, হাসিব সেই ভিডিও ও ছবি বিভিন্ন পর্নোগ্রাফিক ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে দেয়।
আইনি পদক্ষেপ ও অভিযান
এই ঘটনায় ভিকটিম বাদী হয়ে ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে গত ১১ মে ২০২৬ তারিখে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা (মামলা নং- ৪১) রুজু হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামিকে আইনের আওতায় আনার জন্য র্যাব-১০ অধিনায়কের কাছে একটি অধিযাচনপত্র প্রেরণ করেন। এর প্রেক্ষিতে র্যাব-১০-এর একটি চৌকস আভিযানিক দল গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তা বৃদ্ধি করে।
অবশেষে গতকাল রাতে র্যাব-১০, সিপিএসসি, লালবাগ ক্যাম্পের একটি দল পলাশীর মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে হাসিবকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারের সময় আসামির কাছ থেকে:
২টি স্মার্টফোন
২টি আইডি কার্ড
বিভিন্ন ব্যাংকের ৪টি এটিএম কার্ড এবং
১টি ইলেকট্রিক ভ্যাপ (Vape) উদ্ধার করা হয়।
র্যাবের বক্তব্য
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি হাসিব চৌধুরী অপরাধের কথা স্বীকার করেছে এবং জানায় যে সে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপন করে ছিল।
র্যাব-১০ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত আসামিকে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এই ধরনের জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে র্যাব সর্বদা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে তাদের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।
প্রতিবেদকের নাম 

























