Dhaka ০২:৫৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগের গুপ্ত নৈরাজ্যের প্রতিবাদে, মাদারগঞ্জে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল ১ম কমিউনিটি পুলিশিং যুব কাবাডিতে কোতোয়ালীকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন তারাগঞ্জ থানা উলিপুরে তিস্তা নদীর তীব্র ভাঙন নদী’গর্ভে স্থাপনা-ফসলী জমি, বাস্তু হারা হয়েছে দু’শতাধীক পরিবার বায়তুল মোকাররম প্রাঙ্গণে ইসলামী বইমেলা শুরু কাউনিয়ায় আন্তর্জাতিক শান্তি দিবসে র‌্যালি ও মানববন্ধন লালপুরে চুরি হওয়া মোটরসাইকেল উদ্ধার, চোরচক্রের সদস্য গ্রেপ্তার ফেনী সাংবাদিক ইউনিটির কার্যকরি কমিটির মতবিনিময় সভা বেনাপোলে ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল ইসলাম দখলদাররা গিলে খাচ্ছে গাজীপুরের শালবন সারাদেশে মামলাজটে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা প্রশাসনের কার্যক্রম

উলিপুরে তিস্তা নদীর তীব্র ভাঙন নদী’গর্ভে স্থাপনা-ফসলী জমি, বাস্তু হারা হয়েছে দু’শতাধীক পরিবার

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৮:১৯:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৪৫ সময় দেখুন

মোঃ হাসিবুর রহমান, উলিপুর উপজেলা প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের উলিপুরে তিস্তা নদীর তীব্র ভাঙনে বাস্তুহারা হয়ে পরেছে অনেক পরিবার। বর্তমানে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,একটি মসজিদ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসহ (ব্যারিবাঁধ) হুমকির মুখে পড়েছে ঐতিহ্যবাহী বসুনিয়াপাড়া প্রায় দু’শতাধীক বাড়ী-ঘর। সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার দলদলিয়া ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম তিস্তার আগ্রাসনে বাস্তুহারা হয়েছে ওই এলাকার অন্তত ২ শতাধীক মানুষ। ঝুঁকিতে রয়েছে আরও কয়েক শত পরিবার। এছাড়া,দলদলিয়া ইউনিয়নের কর্পূরা মৌজার ঐতিহ্যবাহী বসুনিয়াপাড়ার শতাধীক বাড়ী-ঘর নদীর তীব্র ভাঙনে সরিয়ে নিচ্ছেন বাসিন্দারা। হুমকির মুখে পরেছে কয়েকটি স্থাপনা, ফসলি জমি। নদী গর্ভে বিলীনের অপেক্ষায় কর্পূরা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, বসুনিয়া পাড়া জামে মসজিদ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ।পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) গত বর্ষা মৌসুমের আগে কর্পূরা বসুনিয়াপাড়া রক্ষায় কিছু জিও ব্যাগ ডাম্পিং করলেও তা খরস্রোতে নদীর গর্ভে চলে গেছে। বর্তমানে নদীর পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে ভাঙ্গনের তীব্রতা বেড়েছে। সোমবার ভাঙ্গন কবলিত বসুনিয়াপাড়া গ্রামে তিস্তার তীরে ভাঙ্গনের ভয়াবহ দৃশ্য দেখা গেছে। গত ৭২ ঘন্টার ব্যবধানে ভয়াবহ ভাঙ্গনের তান্ডবে প্রায় শতাধীক পরিবারের বসতভিটা, গাছপালা, আবাদি জমি, কবরস্থান গিলে খেলেছে তিস্তা নদী। আরো অনেকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন তাদের বাড়ি-ঘর।

আরও পড়ুনঃ  ​রংপুরের তারাগঞ্জে ৯ বছরের শিশু মারজান নিখোঁজ: সন্ধানে পরিবারের আকুতি

তিস্তার ভাঙনে ছয়বার ভিটে সরিয়েছেন ওই এলাকার বাসিন্দা আব্দুল বাতেন ও আশরাফুল আলী। সর্বশেষ এক সপ্তাহ আগে তারা ভিটে সরিয়ে অন্যত্র নিয়েছেন। রেজোয়ান ও সিকেদ্দার বসুনিয়া বলেন, ‘ছয়বার বাড়ি সরাই, বুকের ভিতরাটা ভাঙি যায়। এতোবার ভিটা ভাঙে, তাও কাইয়ো শোনে না-দেখে না,বা। আমরা খুব অসহায়।’ কান্নাজড়িত কণ্ঠে একই কথা বললেন, ঐ এলাকার পঞ্চাশোর্ধ্ব বয়সী আঃ মান্নান। তিস্তার ভাঙনে সর্বহারা হয়ে এখন ফকির হতে হয়েছে অনেক কে। বাড়ি-ঘর সরাতে সরাতে হাফসি গেছে আবু বক্কর ,এরশাদুল, আব্দুল মালেক, আঃ সামাদ, মজিবর, সেকেন্দার, জামাতাল্লী, আশরাফুল, ফারুকসহ ভুক্তভোগীরা। জানাগেছে, তিস্তা নদীর ভাঙনে দলদলিয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড (কর্পূরা) পুরোটাই এবং ১ নম্বর ওয়ার্ডের বেশির ভাগ অংশ ইউনিয়নের মানোচিত্র থেকে হারিয়ে গেছে। ছয় মাসে অন্তত সহস্রাধিক পরিবার বাস্তুহারা হয়েছে। আবাদি জমি বিলীন হয়েছে অন্তত ৬’শ একর।

আরও পড়ুনঃ  টাঙ্গাইলে ১৪৬টি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাকে ২৯ লক্ষাধিক টাকার অনুদানের চেক হস্তান্তর: জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে বিতরণ সম্পূর্ণ।

ওই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান পুত্র কামরুজ্জামান রানা সুন্সি বলেন, ‘গত ছয় মাসে তিস্তার ভাঙনে অন্তত ৪’শ পরিবার বাস্তুহারা হয়েছে। বর্তমানে নদীর ভাঙনে মানুষ দিশেহারা হয়ে গেছে। ভাঙন ঠেকাতে না পারলে অদূর ভবিষ্যতে এ মৌজাটি ইউনিয়নের মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে। বর্তমানে বসুনিয়া পাড়ায় যে ভাবে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে, দ্রুত প্রতিরোধের ব্যবস্থা না নিলে দু-চার দিনের মধ্যে গ্রামটির যৎ সামান্য অংশ টুকুও বিলীন হয়ে যাবে। এলাকাবাসী জানান, চলতি বর্ষা মৌসুমের আগে পাউবো’র উর্দ্ধোতন কর্তৃপক্ষ ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শন করে গেলেও এখনো কোন প্রতিরোধের ব্যবস্থা গ্রহন করেননি বলে তারা হতাশ হয়ে পড়েছে। এ ব্যাপারে ২১ সেপ্টেম্বর বিকেলে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল ইসলামের সাথে ভাঙ্গন রোধের বিষয়ে জানার জন্য মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানিয়েছেন ভাঙ্গন রোদে কাজ শুরু হয়েছে চাহিদা পাঠিয়েছি এখনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি ।

আরও পড়ুনঃ  ঢাকা–রংপুর লংমার্চ সফল করতে নবাবগঞ্জে ১১ দলীয় জোটের স্বাগত মিছিল
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগের গুপ্ত নৈরাজ্যের প্রতিবাদে, মাদারগঞ্জে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল

উলিপুরে তিস্তা নদীর তীব্র ভাঙন নদী’গর্ভে স্থাপনা-ফসলী জমি, বাস্তু হারা হয়েছে দু’শতাধীক পরিবার

আপডেটের সময়: ০৮:১৯:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মোঃ হাসিবুর রহমান, উলিপুর উপজেলা প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের উলিপুরে তিস্তা নদীর তীব্র ভাঙনে বাস্তুহারা হয়ে পরেছে অনেক পরিবার। বর্তমানে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,একটি মসজিদ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসহ (ব্যারিবাঁধ) হুমকির মুখে পড়েছে ঐতিহ্যবাহী বসুনিয়াপাড়া প্রায় দু’শতাধীক বাড়ী-ঘর। সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার দলদলিয়া ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম তিস্তার আগ্রাসনে বাস্তুহারা হয়েছে ওই এলাকার অন্তত ২ শতাধীক মানুষ। ঝুঁকিতে রয়েছে আরও কয়েক শত পরিবার। এছাড়া,দলদলিয়া ইউনিয়নের কর্পূরা মৌজার ঐতিহ্যবাহী বসুনিয়াপাড়ার শতাধীক বাড়ী-ঘর নদীর তীব্র ভাঙনে সরিয়ে নিচ্ছেন বাসিন্দারা। হুমকির মুখে পরেছে কয়েকটি স্থাপনা, ফসলি জমি। নদী গর্ভে বিলীনের অপেক্ষায় কর্পূরা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, বসুনিয়া পাড়া জামে মসজিদ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ।পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) গত বর্ষা মৌসুমের আগে কর্পূরা বসুনিয়াপাড়া রক্ষায় কিছু জিও ব্যাগ ডাম্পিং করলেও তা খরস্রোতে নদীর গর্ভে চলে গেছে। বর্তমানে নদীর পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে ভাঙ্গনের তীব্রতা বেড়েছে। সোমবার ভাঙ্গন কবলিত বসুনিয়াপাড়া গ্রামে তিস্তার তীরে ভাঙ্গনের ভয়াবহ দৃশ্য দেখা গেছে। গত ৭২ ঘন্টার ব্যবধানে ভয়াবহ ভাঙ্গনের তান্ডবে প্রায় শতাধীক পরিবারের বসতভিটা, গাছপালা, আবাদি জমি, কবরস্থান গিলে খেলেছে তিস্তা নদী। আরো অনেকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন তাদের বাড়ি-ঘর।

আরও পড়ুনঃ  জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে রেললাইনে অজ্ঞাত ব্যক্তির খণ্ড-বিখণ্ড মরদেহ উদ্ধার

তিস্তার ভাঙনে ছয়বার ভিটে সরিয়েছেন ওই এলাকার বাসিন্দা আব্দুল বাতেন ও আশরাফুল আলী। সর্বশেষ এক সপ্তাহ আগে তারা ভিটে সরিয়ে অন্যত্র নিয়েছেন। রেজোয়ান ও সিকেদ্দার বসুনিয়া বলেন, ‘ছয়বার বাড়ি সরাই, বুকের ভিতরাটা ভাঙি যায়। এতোবার ভিটা ভাঙে, তাও কাইয়ো শোনে না-দেখে না,বা। আমরা খুব অসহায়।’ কান্নাজড়িত কণ্ঠে একই কথা বললেন, ঐ এলাকার পঞ্চাশোর্ধ্ব বয়সী আঃ মান্নান। তিস্তার ভাঙনে সর্বহারা হয়ে এখন ফকির হতে হয়েছে অনেক কে। বাড়ি-ঘর সরাতে সরাতে হাফসি গেছে আবু বক্কর ,এরশাদুল, আব্দুল মালেক, আঃ সামাদ, মজিবর, সেকেন্দার, জামাতাল্লী, আশরাফুল, ফারুকসহ ভুক্তভোগীরা। জানাগেছে, তিস্তা নদীর ভাঙনে দলদলিয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড (কর্পূরা) পুরোটাই এবং ১ নম্বর ওয়ার্ডের বেশির ভাগ অংশ ইউনিয়নের মানোচিত্র থেকে হারিয়ে গেছে। ছয় মাসে অন্তত সহস্রাধিক পরিবার বাস্তুহারা হয়েছে। আবাদি জমি বিলীন হয়েছে অন্তত ৬’শ একর।

আরও পড়ুনঃ  টাঙ্গাইলে ১৪৬টি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাকে ২৯ লক্ষাধিক টাকার অনুদানের চেক হস্তান্তর: জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে বিতরণ সম্পূর্ণ।

ওই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান পুত্র কামরুজ্জামান রানা সুন্সি বলেন, ‘গত ছয় মাসে তিস্তার ভাঙনে অন্তত ৪’শ পরিবার বাস্তুহারা হয়েছে। বর্তমানে নদীর ভাঙনে মানুষ দিশেহারা হয়ে গেছে। ভাঙন ঠেকাতে না পারলে অদূর ভবিষ্যতে এ মৌজাটি ইউনিয়নের মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে। বর্তমানে বসুনিয়া পাড়ায় যে ভাবে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে, দ্রুত প্রতিরোধের ব্যবস্থা না নিলে দু-চার দিনের মধ্যে গ্রামটির যৎ সামান্য অংশ টুকুও বিলীন হয়ে যাবে। এলাকাবাসী জানান, চলতি বর্ষা মৌসুমের আগে পাউবো’র উর্দ্ধোতন কর্তৃপক্ষ ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শন করে গেলেও এখনো কোন প্রতিরোধের ব্যবস্থা গ্রহন করেননি বলে তারা হতাশ হয়ে পড়েছে। এ ব্যাপারে ২১ সেপ্টেম্বর বিকেলে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল ইসলামের সাথে ভাঙ্গন রোধের বিষয়ে জানার জন্য মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানিয়েছেন ভাঙ্গন রোদে কাজ শুরু হয়েছে চাহিদা পাঠিয়েছি এখনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি ।

আরও পড়ুনঃ  লালপুরে ১০ পিস ইয়াবাসহ হ্যাকিং ও প্রতারক চক্রের ২ সদস্য গ্রেপ্তার