Dhaka ০১:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
ঈশ্বরদীতে দিন দুপুরে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে ভীতি প্রদর্শন ফটিকছড়ি থানার ওসি রবিউলকে চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজির বিশেষ সম্মাননা ধুনটের সোনাহাটায় বাংলাদেশ এক্সটেনশন এডুকেশন সার্ভিসেস (বিজ) এনজিওর ৪১৫তম শাখা’র উদ্বোধন জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে মাদক সেবনের দায়ে, চার যুবকের কারাদণ্ড বাসন থানায় অভিযোগ লিখতে নির্দিষ্ট দোকানে পাঠানোর অভিযোগ বান্দরবানে পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে ইটভাটা মালিকদের নিয়ে মতবিনিময় সভা নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস: মনপুরার ইউএনও’র বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ কিশোরগঞ্জে প্রধানমন্ত্রীর সফরের পরই সুখবর: পাকুন্দিয়ায় ব্রহ্মপুত্র নদে জোড়া সেতু নির্মাণের নির্দেশ মাদকের বিরুদ্ধে বাবুছড়ায় পুলিশের সঙ্গে জনতার পদযাত্রা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে পোশাক বাণিজ্য ও অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে পোশাক বাণিজ্য ও অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: বরগুনা জেলার বেতাগী থানার ১৩ নং গ্রেদলক্ষীপুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের স্কুল ইউনিফর্ম তৈরিতে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, সরকারি নিয়মনীতি লঙ্ঘন করে প্রাইভেট বাণিজ্য এবং নৈতিক স্খলনসহ নানা ধরনের দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী অভিভাবকরা ও স্থানীয় জনগণ এই বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের ইউনিফর্ম বানিয়ে দেওয়ার নাম করে প্রধান শিক্ষক প্রতি ছাত্রের কাছ থেকে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং ছাত্রীদের কাছ থেকে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত হাতিয়ে নিয়েছেন। উদাহরণস্বরূপ, শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী একজনের ইউনিফর্ম তৈরিতে প্রকৃত খরচ হয়েছে ৮৭০ টাকা, অথচ প্রধান শিক্ষক অভিভাবকের কাছ থেকে জোরপূর্বক ১২৩০ টাকা আদায় করেছেন। টেইলার্সের মজুরি ৫০০ টাকার স্থলে ৬৫০ টাকা, ১০ টাকার স্কুল ব্যাচ ৩০ টাকা, ৬০ টাকার টাই ১০০ টাকা এবং কাপড়ের গজপ্রতি মূল্যে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রায় ১২০ জন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে এভাবে আনুমানিক ৩৬,০০০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। প্রমাণ হিসেবে প্রধান শিক্ষক ও দর্জির কথোপকথনের অডিও রেকর্ড রয়েছে বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুনঃ  মৌলভীবাজারে ৮ মাসে ৮৩০ কোটি টাকার চোরাচালান পণ্য জব্দ, উদ্ধার অস্ত্র-বিস্ফোরকও

 

সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ২০২৫ সালে ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ১০০০ টাকা নিয়ে বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে (সকাল ৯:০০ টা থেকে ১১:৩০ টা পর্যন্ত) প্রাইভেট পড়ানোর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এই অবৈধ কার্যক্রমকে আড়াল করতে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একে “নিরাময় ক্লাস” বলে প্রচার করতেন। নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থীর অভিভাবক সরাসরি এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন। দরিদ্র ও শ্রমজীবী অভিভাবকরা জানান, এই অতিরিক্ত অর্থ প্রদান তাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর ছিল। এছাড়া উক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারি ও নৈতিক স্খলনেরও অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসী এবং অভিভাবক মহল বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। এ সংশ্লিষ্ট সকল বক্তব্যের অডিও ফোন রেকর্ডসহ তথ্য উপাত্ত সংগৃহীত রয়েছে প্রতিবেদকের হাতে। অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান সকল বিষয় অস্বীকার করলেও এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে জানতে চেয়েছে প্রতিবেদক।

আরও পড়ুনঃ  পানছড়িতে ৩ বিজিবির অভিযানে ৪১৯ ঘনফুটের বেশি অবৈধ কাঠ আটক

 

 

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

ঈশ্বরদীতে দিন দুপুরে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে ভীতি প্রদর্শন

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে পোশাক বাণিজ্য ও অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ

আপডেটের সময়: ০৭:৩৪:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: বরগুনা জেলার বেতাগী থানার ১৩ নং গ্রেদলক্ষীপুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের স্কুল ইউনিফর্ম তৈরিতে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, সরকারি নিয়মনীতি লঙ্ঘন করে প্রাইভেট বাণিজ্য এবং নৈতিক স্খলনসহ নানা ধরনের দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী অভিভাবকরা ও স্থানীয় জনগণ এই বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের ইউনিফর্ম বানিয়ে দেওয়ার নাম করে প্রধান শিক্ষক প্রতি ছাত্রের কাছ থেকে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং ছাত্রীদের কাছ থেকে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত হাতিয়ে নিয়েছেন। উদাহরণস্বরূপ, শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী একজনের ইউনিফর্ম তৈরিতে প্রকৃত খরচ হয়েছে ৮৭০ টাকা, অথচ প্রধান শিক্ষক অভিভাবকের কাছ থেকে জোরপূর্বক ১২৩০ টাকা আদায় করেছেন। টেইলার্সের মজুরি ৫০০ টাকার স্থলে ৬৫০ টাকা, ১০ টাকার স্কুল ব্যাচ ৩০ টাকা, ৬০ টাকার টাই ১০০ টাকা এবং কাপড়ের গজপ্রতি মূল্যে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রায় ১২০ জন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে এভাবে আনুমানিক ৩৬,০০০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। প্রমাণ হিসেবে প্রধান শিক্ষক ও দর্জির কথোপকথনের অডিও রেকর্ড রয়েছে বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুনঃ  গ্যাস না পেয়ে চট্টগ্রামে সড়ক অবরোধ, যান চলাচল বন্ধ

 

সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ২০২৫ সালে ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ১০০০ টাকা নিয়ে বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে (সকাল ৯:০০ টা থেকে ১১:৩০ টা পর্যন্ত) প্রাইভেট পড়ানোর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এই অবৈধ কার্যক্রমকে আড়াল করতে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একে “নিরাময় ক্লাস” বলে প্রচার করতেন। নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থীর অভিভাবক সরাসরি এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন। দরিদ্র ও শ্রমজীবী অভিভাবকরা জানান, এই অতিরিক্ত অর্থ প্রদান তাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর ছিল। এছাড়া উক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারি ও নৈতিক স্খলনেরও অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসী এবং অভিভাবক মহল বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। এ সংশ্লিষ্ট সকল বক্তব্যের অডিও ফোন রেকর্ডসহ তথ্য উপাত্ত সংগৃহীত রয়েছে প্রতিবেদকের হাতে। অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান সকল বিষয় অস্বীকার করলেও এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে জানতে চেয়েছে প্রতিবেদক।

আরও পড়ুনঃ  উন্নয়ন না করে ১৭ বছর ধরে শিক্ষা খাতকে ধ্বংস করা হয়েছে: শামা ওবায়েদ