
স্টাফ রিপোর্টার শফিকুল ইসলাম (জামালপুর) জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলার অন্তর্গত ৬ নং আদারভিটা ইউনিয়নের বিন্যাফৈর এলাকার বাসিন্দা দুজন ব্যক্তির প্রতি এমবিবিএস ডাক্তারের সীল-স্বাক্ষর জালিয়াতি এবং সমাজসেবা অফিসারের জালিয়াতি স্বাক্ষর ব্যবহার করে, চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়া এবং বিধবা ও বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দেওয়ার নামে, টাকা নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিম্নোল্লিখিত ব্যক্তিদ্বয়ের বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি করার আবেদন করেছেন মেলান্দহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জুনিয়র কনসালটেন্ট (কার্ডিওলজি) ও এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য) ডা. মো. খোরশেদ আলম। জামালপুর সদর থানায় দেওয়া আবেদনে ডা. মো. খোরশেদ আলম (৩৮) উল্লেখ করেন_ তার নাম ব্যবহার করে প্রতারক চক্র বিভিন্ন চাকরি ও সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার কথা বলে অনেকের নিকট থেকে প্রচুর পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। আবেদনে উল্লেখ করা দুইজন হলেন—জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলার ৬ নং আদারভিটা ইউনিয়নের বিন্যাফৈর গ্রামের বাসিন্দা মো. মারুফ (২২), পিতা_ আব্দুল্লাহ ওরফে বলাই এবং একই এলাকার বাসিন্দা মো. আব্দুস সালাম মন্ডল (৬৫), পিতা ইনতুইল্লা মন্ডল। তাদের বিরুদ্ধে প্রতারণার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে প্রশাসনের নিকট বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
তবে সাংবাদিকদের সরেজমিনে অনুসন্ধানের পর স্থানীয়দের মাধ্যমে জানা যায় যে, প্রধান অভিযুক্ত মারুফ প্রতারণার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত থাকলেও দ্বিতীয় অভিযুক্ত ব্যক্তি আব্দুস সালাম মন্ডল কোনো প্রকার প্রতারণার সাথে জড়িত নয়। স্থানীয় ব্যক্তিদের মাধ্যমে জানা যায় আব্দুস সালাম মন্ডল একজন নিরক্ষর ও সহজ-সরল মানুষ। হয়তো তাহাকে ফাঁসিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, দ্বিতীয় অভিযুক্ত ব্যক্তি আব্দুস সালাম বলেন, মারুফ আমাকে নিয়ে মাঝে মধ্যেই এদিক সেদিক চা খাওয়ার কথা বলে বেড়াতে নিয়ে যায়। কিন্তু এর আড়ালে সে মানুষের নিকট থেকে বিভিন্ন ভাতার কার্ডের কথা বলে এবং চাকুরির প্রলোভনে প্রচুর পরিমাণে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে, সে সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না। তাই আমিও চাই_ এটার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রতারক মারুফের বিচার হোক। স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, শুধু চাকরির প্রলোভন নয়, বিধবা ও বয়স্ক ভাতাসহ সরকারি বিভিন্ন সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে মারুফ নামের প্রতারক, সাধারণ মানুষের কাছ থেকে প্রচুর পরিমাণে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। পাশাপাশি চিকিৎসক ও সমাজসেবা অফিসারের স্বাক্ষর জালিয়াতি করে তাদের নাম ব্যবহার করে, সাধারণ মানুষের নিকটে বিশ্বস্ততা অর্জন করার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। উক্ত বিষয়ে জানতে চাইলে সমাজ সেবা অফিসার তৌফিকুল ইসলাম খালেক বলেন আমার নাম ও জালিয়াতি স্বাক্ষর ব্যবহার করে অনেক মানুষের নিকট থেকে নাকি বিভিন্ন ভাতার কার্ডের নাম করে, প্রচুর পরিমাণে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
আমি এই সম্পর্কে কিছুই জানিনা। তাই আমিও ইহার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রতারকদের বিচার দাবি করছি। সর্বশেষ এমবিবিএস ডাক্তার খোরশেদ আলমের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে উক্ত প্রতারণা বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন_ আমিও জানিনা যে, প্রতারক চক্র আমার সীল-স্বাক্ষর জালিয়াতি করে, সরকারি চাকুরী দেওয়ার প্রলোভনে সাধারণ মানুষের নিকট থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। যখন জানতে পারি, সাথেই সাথেই আমি জামালপুর সদর থানায় প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে ডায়েরি করার আবেদন করি। আমিও চাই, যারা আমার নামে জালিয়াতি করে প্রতারণা করে আমার সুনাম ক্ষুন্ন করেছে, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তাদের বিচার চাই।
প্রতিবেদকের নাম 


















