
জিহাদুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার: নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবং সমাজের সর্বস্তরে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উইমেন সাপোর্ট এন্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের উদ্যোগে আজ ২১ জুন, ২০২৬ খ্রিঃ ঢাকার ছোলমাইড উচ্চ বিদ্যালয়ে একটি বিশেষ সচেতনতামূলক প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই প্রোগ্রামের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ’। উপ-পুলিশ কমিশনার (উইমেন সাপোর্ট এন্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশন), মোছাঃ লিজা বেগম, পিএসসি মহোদয় এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও অনুষ্ঠানের উপস্থিত ছিলেন ছোলমাইড উচ্চ বিদ্যালয়ের সম্মানিত প্রধান শিক্ষক এবং অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ, শিক্ষার্থী এবং উইমেন সাপোর্ট এন্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ। উইমেন সাপোর্ট এন্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের পক্ষ থেকে উপ-পুলিশ কমিশনার মোছাঃ লিজা বেগম তাঁর বক্তব্যে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধের গুরুত্ব নিয়ে আলোকপাত করেন এবং কীভাবে কিশোরী শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ধরনের সহিংসতার স্বরূপ চিনতে পারবে এবং তা প্রতিরোধের উপায়সমূহ অবলম্বন করতে পারবে তা সুনির্দিষ্টভাবে বুঝিয়ে বলেন। অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য ছিল শিশু ও কিশোরী শিক্ষার্থীদের মাঝে এই বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা এবং সাহসিকতা গড়ে তোলা।
অনুষ্ঠানে নারী ও শিশু নির্যাতনের শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। শিক্ষার্থীদের সামনে যৌন হয়রানি, ইভটিজিং, সাইবার অপরাধ, বাল্যবিবাহ ও পারিবারিক সহিংসতার মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে উপস্থাপন করা হয়, যাতে তারা এই পরিস্থিতিগুলো চিহ্নিত করতে পারে এবং সঠিক পদক্ষেপ নিতে পারে। এছাড়াও, শিক্ষার্থীদের আইনি প্রতিকার ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা প্রাপ্তির বিভিন্ন কৌশল সম্পর্কে সচেতন করা হয়। কীভাবে অপরাধের সম্মুখীন হলে দ্রুত পুলিশের সহায়তা নেওয়া যাবে এবং কীভাবে ভুক্তভোগীরা আইনি সহায়তা পেতে পারে, তা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষার্থীদের মাঝে জরুরি যোগাযোগ ও হেল্পলাইন নম্বর সম্বলিত লিফলেট বিতরণ করা হয়। উপ-পুলিশ কমিশনার মোছাঃ লিজা বেগম শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে নীরবতা ভাঙতে হবে। কোনোভাবেই সহিংসতা সহ্য করা উচিত নয়। আপনাদের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ সর্বদা প্রস্তুত আছে, নির্ভয়ে আইনি সহায়তা নেওয়ার জন্য এগিয়ে আসুন। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ এবং সচেতনতামূলক আলোচনায় সক্রিয় ভূমিকা রাখতে দেখা গেছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দও এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন এবং এই ধরনের সচেতনতামূলক কর্মসূচির প্রয়োজনীয়তার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
প্রতিবেদকের নাম 
























