Dhaka ০৯:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
মৌলভীবাজারে রাস্তা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে হামলা নারীসহ আহত ৩ ​সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসল প্রশাসন, নন্দীগ্রামে খাস জমি ও রাস্তা উদ্ধার ​ছোলমাইড উচ্চ বিদ্যালয়ে ডিএমপির উইমেন সাপোর্ট ডিভিশনের বিশেষ সচেতনতামূলক প্রোগ্রাম:’নীরবতা ভেঙে পুলিশের সহায়তা নিন সাহায্য চেয়ে কেমিক্যাল প্রয়োগ; শয়তানের নিঃশ্বাস চক্রের তিন সদস্য গ্রেফতার কিশোরগঞ্জে সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে হামলার শিকার চ্যানেল ওয়ানের রিপোর্টার, মামলা দায়ের সার্বভৌমত্ব ও দেশমাতৃকার সুরক্ষায় সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারের শপথ নিলেন নবীন নৌ কর্মকর্তারা রিফাত হত্যার রায়: ৫ জনের ফাঁসি, ৫ জনের ১০ বছর কারাদণ্ড, ২ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড তরুণদের হাত ধরেই আসবে মাদকমুক্ত বাংলাদেশ হারাগাছ ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সভা সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোঃ সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার

রিফাত হত্যার রায়: ৫ জনের ফাঁসি, ৫ জনের ১০ বছর কারাদণ্ড, ২ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড

এস কে সাগর মির্জা, জেলা প্রতিনিধি বগুড়া:

স্বাধীনতা যুদ্ধের পর বগুড়ার আদালতে এই প্রথম ৫ জনের ফাঁসির রায় ঘোষণা করেছেন বিচারক। এমন চাঞ্চল্যকর রায়ে বগুড়াবাসী সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। দীর্ঘ ৮ বছর পর আদালতের শুনানি শেষে শাজাহানপুর উপজেলার চাঞ্চল্যকর শিশু রিফাত (৮) হত্যার রায়ে এই রায় ঘোষণা করা হয়।

বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলায় আট বছরের শিশু রিফাত হোসেনকে অপহরণ করে হত্যা এবং মরদেহ গুমের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে দুই লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ঘটনার সময় নাবালক থাকা আরও পাঁচ আসামিকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রবিবার (২১ জুন) দুপুরে বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মো. আনোয়ারুল হক এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় ১১ আসামির মধ্যে আটজন আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুনঃ  ​কেরানীগঞ্জে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের উদ্বোধন করলেন এমপি আমান উল্লাহ আমান

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন শাজাহানপুর উপজেলার খাদাস ভোলাগাড়ী গ্রামের আবুল কালাম আজাদ ও সাগর, খাদাস তালুকদারপাড়া গ্রামের সেলিম ইসলাম ও মেহেদী হাসান এবং খাদাস মাঠপাড়া গ্রামের রাজু ইসলাম ওরফে পাঁচফুল। তাদের মধ্যে সেলিম ইসলাম ও সাগর দীর্ঘদিন ধরে পলাতক রয়েছেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, নিহত রিফাত হোসেন শাজাহানপুর উপজেলার খাদাস হাটখোলা এলাকার প্রবাসী এনামুল হকের ছেলে। ২০১৮ সালের ১৫ জুলাই বিকেলে রিফাত নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাকে না পেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

নিখোঁজের তিন দিন পর পাশের পোয়ালগাছা গ্রামের ভদ্রাবতী সেতুর নিচ থেকে রিফাতের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় রিফাতের বাবা এনামুল হক ১১ জনকে আসামি করে শাজাহানপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।

আরও পড়ুনঃ  তারেক রহমান ও মোরশেদ মিল্টনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে শাজাহানপুরে যুবদলের আনন্দ মিছিল

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. আলী আসগর জানান, তদন্তে অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি, হত্যা ও মরদেহ গুমের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, প্রবাস থেকে দেশে ফেরার পর প্রতিবেশী আবুল কালাম আজাদ বিভিন্ন সময় এনামুল হকের কাছে টাকা দাবি করতেন। ঘটনার দিনও তিনি এক লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ওই দিনই রিফাত নিখোঁজ হয়।

মামলার বিচার চলাকালে এক আসামি মাসুদ রানা মারা যাওয়ায় তার নাম মামলা থেকে বাদ দেওয়া হয়।

রায়ে আদালত পাঁচ প্রাপ্তবয়স্ক আসামিকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৭ ধারায় যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, ৮ ধারায় মৃত্যুদণ্ড এবং দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। এছাড়া দণ্ডবিধির ২০১ ধারায় সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও পৃথক অর্থদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।

আরও পড়ুনঃ  ভেন্নাতলা বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৫ দোকান ভস্মীভূত, একজন নিহত

ঘটনার সময় শিশু ছিল এমন পাঁচ আসামি—সজিব হাসান, মফিজুল ইসলাম, জাহিদ হাসান, বোরহান আলী ও বায়েজিদ হোসেনকে শিশু আইন, ২০১৩ অনুযায়ী ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তাদের বয়স ১৮ বছরের বেশি হওয়ায় জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহত রিফাতের বাবা এনামুল হক ও তার পরিবারের সদস্যরা। একই সঙ্গে পলাতক দুই আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি এবং মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য মামলার নথি হাইকোর্ট বিভাগে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

মৌলভীবাজারে রাস্তা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে হামলা নারীসহ আহত ৩

রিফাত হত্যার রায়: ৫ জনের ফাঁসি, ৫ জনের ১০ বছর কারাদণ্ড, ২ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড

আপডেটের সময়: ০৬:৪২:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

এস কে সাগর মির্জা, জেলা প্রতিনিধি বগুড়া:

স্বাধীনতা যুদ্ধের পর বগুড়ার আদালতে এই প্রথম ৫ জনের ফাঁসির রায় ঘোষণা করেছেন বিচারক। এমন চাঞ্চল্যকর রায়ে বগুড়াবাসী সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। দীর্ঘ ৮ বছর পর আদালতের শুনানি শেষে শাজাহানপুর উপজেলার চাঞ্চল্যকর শিশু রিফাত (৮) হত্যার রায়ে এই রায় ঘোষণা করা হয়।

বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলায় আট বছরের শিশু রিফাত হোসেনকে অপহরণ করে হত্যা এবং মরদেহ গুমের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে দুই লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ঘটনার সময় নাবালক থাকা আরও পাঁচ আসামিকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রবিবার (২১ জুন) দুপুরে বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মো. আনোয়ারুল হক এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় ১১ আসামির মধ্যে আটজন আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুনঃ  শহীদ জিয়ার প্রথম সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করলেন সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন শাজাহানপুর উপজেলার খাদাস ভোলাগাড়ী গ্রামের আবুল কালাম আজাদ ও সাগর, খাদাস তালুকদারপাড়া গ্রামের সেলিম ইসলাম ও মেহেদী হাসান এবং খাদাস মাঠপাড়া গ্রামের রাজু ইসলাম ওরফে পাঁচফুল। তাদের মধ্যে সেলিম ইসলাম ও সাগর দীর্ঘদিন ধরে পলাতক রয়েছেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, নিহত রিফাত হোসেন শাজাহানপুর উপজেলার খাদাস হাটখোলা এলাকার প্রবাসী এনামুল হকের ছেলে। ২০১৮ সালের ১৫ জুলাই বিকেলে রিফাত নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাকে না পেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

নিখোঁজের তিন দিন পর পাশের পোয়ালগাছা গ্রামের ভদ্রাবতী সেতুর নিচ থেকে রিফাতের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় রিফাতের বাবা এনামুল হক ১১ জনকে আসামি করে শাজাহানপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।

আরও পড়ুনঃ  মুরাদনগরের কোম্পানীগঞ্জে মাংস ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়: প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. আলী আসগর জানান, তদন্তে অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি, হত্যা ও মরদেহ গুমের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, প্রবাস থেকে দেশে ফেরার পর প্রতিবেশী আবুল কালাম আজাদ বিভিন্ন সময় এনামুল হকের কাছে টাকা দাবি করতেন। ঘটনার দিনও তিনি এক লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ওই দিনই রিফাত নিখোঁজ হয়।

মামলার বিচার চলাকালে এক আসামি মাসুদ রানা মারা যাওয়ায় তার নাম মামলা থেকে বাদ দেওয়া হয়।

রায়ে আদালত পাঁচ প্রাপ্তবয়স্ক আসামিকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৭ ধারায় যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, ৮ ধারায় মৃত্যুদণ্ড এবং দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। এছাড়া দণ্ডবিধির ২০১ ধারায় সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও পৃথক অর্থদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।

আরও পড়ুনঃ  সিইপিজেডস্থ চৌধুরী মার্কেট ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির শটপিছ ক্রিকেট টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ডিসি রাইডার্স ও রানার্স আপ আজমীর বয়লার হাউজ.

ঘটনার সময় শিশু ছিল এমন পাঁচ আসামি—সজিব হাসান, মফিজুল ইসলাম, জাহিদ হাসান, বোরহান আলী ও বায়েজিদ হোসেনকে শিশু আইন, ২০১৩ অনুযায়ী ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তাদের বয়স ১৮ বছরের বেশি হওয়ায় জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহত রিফাতের বাবা এনামুল হক ও তার পরিবারের সদস্যরা। একই সঙ্গে পলাতক দুই আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি এবং মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য মামলার নথি হাইকোর্ট বিভাগে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।