
এস কে সাগর মির্জা, জেলা প্রতিনিধি বগুড়া: বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার ১নং বুড়ইল ইউনিয়নের সরিষাবাদ গ্রামে সরকারি খাস জমি ও স্থানীয় চারটি পরিবারের চলাচলের একমাত্র রাস্তা অবৈধভাবে দখল করে বেড়া দেওয়ার ঘটনায় বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে দখলকৃত সরকারি জমি উদ্ধার এবং জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। জানা গেছে, সরিষাবাদ গ্রামের একটি সরকারি খাস জমি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় জনগণ চলাচলের রাস্তা হিসেবে ব্যবহার করে আসছিলেন। সম্প্রতি ওই জমি ও রাস্তার অংশ অবৈধভাবে দখল করে বেড়া দেওয়া হলে চারটি পরিবারের সদস্যরা কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। এতে তাদের দৈনন্দিন চলাচল, কৃষিকাজ, শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাতায়াতসহ স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবার গুলো স্থানীয়ভাবে মিটানোর চেষ্টা করেও কোনো প্রতিকার না পাওয়ায় বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। সংবাদ প্রকাশের পর উপজেলা প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নেয়। রবিবার (২১ জুন) সকালে উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার জাহিদুর রহমান, আমিন ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সরেজমিন তদন্ত করেন। তদন্ত শেষে সরকারি রেকর্ড ও জমির পরিমাপ অনুযায়ী সেখানে সরকারি খাস জমি অবৈধভাবে দখল করে বেড়া দেওয়ার সত্যতা পাওয়া যায়।
পরে উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় সরকারি জায়গা থেকে অবৈধ বেড়া, গাছপালা ও অন্যান্য স্থাপনা অপসারণ করে দখলমুক্ত করা হয়। একই সঙ্গে স্থানীয়দের চলাচলের পথও পুনরুদ্ধার করা হয়। উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার জাহিদুর রহমান বলেন,অভিযোগ ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে আমরা ঘটনাস্থলে এসে সরকারি রেকর্ড ও নকশা অনুযায়ী জমি পরিমাপ করেছি। পরিমাপে দেখা যায় সরকারি খাস জমির একটি অংশ অবৈধভাবে দখল করে বেড়া দেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর দখলকৃত অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। সরকারি সম্পত্তি দখলের কোনো সুযোগ নেই। ভবিষ্যতেও কেউ সরকারি জমি দখলের চেষ্টা করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। দীর্ঘদিন ভোগান্তিতে থাকা এক ভুক্তভোগী বলেন,রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার কারণে আমরা অনেক কষ্টে দিন কাটাচ্ছিলাম। বাড়ি থেকে বের হতে এবং প্রয়োজনীয় কাজ করতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। সংবাদ প্রকাশ ও প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপে আমরা আমাদের চলাচলের পথ ফিরে পেয়েছি। এজন্য প্রশাসন ও গণমাধ্যমের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।
প্রতিবেদকের নাম 


















