
এস কে সাগর মির্জা, জেলা প্রতিনিধি বগুড়া: উত্তরবঙ্গের অন্যতম বৃহৎ ও গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাকেন্দ্র বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল। প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন স্থান থেকে অসংখ্য রোগী উন্নত চিকিৎসার আশায় এই হাসপাতালে আসেন। তবে হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবা, রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে আচরণ এবং সেবার গতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অভিযোগ ও ক্ষোভ রয়েছে বলে রোগী ও স্বজনদের দাবি। রোগীদের অভিযোগ, হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে অনেক সময় কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা পাওয়া যায় না। চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্টাফদের একটি অংশের আচরণ নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন রোগী ও স্বজনরা। বিশেষ করে জরুরি প্রয়োজনের সময় সেবা পেতে দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।রক্তের প্রয়োজন হলে ডোনার নিয়ে আসার পরও বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় অযথা সময়ক্ষেপণ করা হয়—এমন অভিযোগও করেছেন কয়েকজন রোগীর স্বজন। তাদের দাবি, দ্রুত সেবা পাওয়ার কথা থাকলেও নানা কারণে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। এতে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বাড়ছে।একজন রোগীর স্বজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সরকারি হাসপাতালে সাধারণ মানুষ চিকিৎসা নিতে আসে। এখানে রোগীকে রোগী হিসেবে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত ও মানবিক সেবা দেওয়া উচিত। কিন্তু অনেক সময় মনে হয়, পরিচিত কেউ না থাকলে কাজ এগোনো কঠিন।”
আরেক রোগীর স্বজন বলেন, “ডাক্তার-নার্সরা অনেক কষ্ট করে পড়াশোনা করে এই পেশায় এসেছেন। তাই শুধু পেশাগত দায়িত্ব পালন নয়, মানবিক আচরণও প্রত্যাশা করি। একজন অসুস্থ মানুষ যখন হাসপাতালে আসে, তখন তার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করাটাও চিকিৎসারই অংশ।”অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালের চিকিৎসাসেবায় কোথাও কোথাও প্রয়োজনীয় সময় ও মনোযোগের ঘাটতি রয়েছে। তবে হাসপাতালের সব চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীকে একই অভিযোগের আওতায় না এনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত নির্দিষ্ট অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া।সচেতন মহলের মতে, সরকারি হাসপাতাল জনগণের অর্থে পরিচালিত হয়। তাই এখানে চিকিৎসা নিতে আসা প্রত্যেক নাগরিকের সঙ্গে সম্মানজনক আচরণ এবং দ্রুত, স্বচ্ছ ও মানবিক সেবা নিশ্চিত করা জরুরি। রোগী ও স্বজনদের হয়রানি কিংবা অপ্রয়োজনীয় অপেক্ষার অভিযোগ থাকলে তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা দরকার।শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল উত্তরবঙ্গের মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি চিকিৎসাকেন্দ্র। তাই এর সুনাম ও মানুষের আস্থা ধরে রাখতে চিকিৎসার মান উন্নয়ন, সেবার গতি বাড়ানো, রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে মানবিক আচরণ এবং অভিযোগ নিষ্পত্তিতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
জনগণের প্রত্যাশা একটাই—সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে যেন কাউকে পরিচিতির জোরে নয়, অধিকার হিসেবে সেবা পেতে হয়। ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীরা শুধু পেশাজীবী নন, তারা মানুষের জীবন রক্ষার দায়িত্বে থাকা সেবক। তাই সময় থাকতে সেবার মান ও আচরণে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার আহ্বান জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ।
প্রতিবেদকের নাম 

















