
বিশেষ প্রতিনিধি (চট্টগ্রাম দক্ষিণ): চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারীতে ১ কোটি ২৩ লাখ টাকা ব্যয়ে দোহাজারী-চাগাচর-ভোর বাজার সড়ক সংস্কারকাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। কাজ শুরুর কয়েকদিনের মধ্যেই সড়কের সাইড ওয়াল নির্মাণে ব্যবহৃত বালি ও ঢালাইয়ের পুরুত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। গত ২৫ আগস্ট বিকেলে চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য জসিম উদ্দিন আহমেদ ১ কোটি ২৩ লাখ টাকা ব্যয়ে দোহাজারী-চাগাচর-ভোর বাজার সড়ক সংস্কারকাজের উদ্বোধন করেন। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতায় প্রকল্পটির কাজ বাস্তবায়ন করছে মরিয়ম ট্রেডিং নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রকল্পটির প্রাথমিক কাজের মেয়াদ ধরা হয়েছে ১৫০ দিন। প্রায় ১২শ মিটার সড়কটি কার্পেটিং ও আরসিসি ঢালাইয়ের মাধ্যমে সংস্কার করা হচ্ছে। বর্তমানে সড়কের পাশে সাইড ওয়াল নির্মাণের কাজ চলছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সাইড ওয়াল নির্মাণের কাজে ব্যবহৃত ভরাট বালিতে কাদা-মাটির মিশ্রণ রয়েছে। এছাড়া ১০ ইঞ্চি সাইড ওয়ালের নিচে ঢালাইয়ের পুরুত্ব নিয়েও প্রশ্ন দেখা যায়। স্থানীয়দের দাবি, সেখানে ৩ ইঞ্চি ঢালাই দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে প্রায় দেড় ইঞ্চি ঢালাই দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় লোকমান হোসেন মিন্টু, আনন্দ শুশীল ও রাজেন্দ্র নাথ জানান, সড়কের পাশে সাইড ওয়াল নির্মাণে কাদা-মাটি মিশ্রিত ভরাট বালি ব্যবহার করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে ঠিকাদারের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিকে অভিযোগ করা হলে তিনি জানান, নিচের কাজে এ বালি ব্যবহার করা হচ্ছে এবং উপরের কাজে ফ্রেশ বালি ব্যবহার করা হবে।
তারা আরও বলেন, ১০ ইঞ্চি সাইড ওয়ালের নিচে ৩ ইঞ্চি ঢালাই দেওয়ার কথা থাকলেও সেখানে প্রায় দেড় ইঞ্চি ঢালাই দেওয়া হচ্ছে। এভাবে কাজ করা হলে সাইড ওয়াল ও সড়ক কতটা টেকসই হবে, তা নিয়ে তাদের শঙ্কা রয়েছে। স্থানীয়রা বলেন, “এই সড়ক আমাদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির কারণ। এখন সংস্কারকাজ শুরু হওয়ায় আমরা খুশি। আমাদের এলাকায় কেউ কাজে বাধা দিচ্ছে না, ঠিকাদারের কাছ থেকে কেউ চাঁদাও দাবি করছে না। আমরা চাই, ওয়ার্ক অর্ডার অনুযায়ী উন্নতমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে কাজটি সঠিকভাবে ও টেকসইভাবে সম্পন্ন করা হোক।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে চন্দনাইশ উপজেলা প্রকৌশলী সৈয়দ আসিফ মোহাম্মদ বলেন, “কাজ যেহেতু চলমান, কাজের অনিয়ম হলে সেগুলো ঠিকাদারকে পুনরায় করতে হবে। তাছাড়া আমরাতো এখনো বিল দেয়নি।”প্রকল্পটির কাজের মেয়াদ ১৫০ দিন ধরা হয়েছে। কাজ শুরু হয়েছে সপ্তাহ হচ্ছে। মরিয়ম ট্রেডিং স্বত্বাধিকারী ঠিকাদারের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি তার নাম ও প্রতিষ্ঠানের নাম বলেতে রাজি না হয়ে তিনি বলেন আমার প্রতিষ্ঠান এবং আমার নাম দিয়ে আপনি কি করবেন। আপনি সরাসরি আমার সাথে যোগাযোগ করেন চা খেয়ে যান। তিনি বলেন ভরাট বালি আনা হয়েছে ১০ ইঞ্চি ওয়ালের নিচে দেওয়ার জন্য। ওয়াল গাথুনি এবং ঢালাইয়ের কাজ করতেছি ভালো বালি দিয়ে। এবং কাজের মেয়াদ দেয়া হয়েছে ৬ মাস।
প্রতিবেদকের নাম 
















