
নওগাঁ প্রতিনিধি:
নওগাঁর নিয়ামতপুরে বড় ছেলে মো. মোশারফ হোসেন বাবুর বিরুদ্ধে নির্যাতন, গালিগালাজ ও গলায় ছুরি ধরে হত্যার হুমকির অভিযোগ করেছেন ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধা ফাতেমা বেওয়া। সম্পত্তি লিখে নেওয়ার জন্য ছেলে বিভিন্নভাবে চাপ দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের আঘোর গ্রামে নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ করেন ফাতেমা বেওয়া।
সংবাদ সম্মেলনে ফাতেমা বেওয়া অভিযোগ করেন, তাঁর বড় ছেলে মোশারফ হোসেন বাবু প্রায়ই নেশাগ্রস্ত অবস্থায় তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। সম্পত্তি তাঁর নামে লিখে নেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করেন। একাধিকবার গলায় ছুরি ধরে প্রাণনাশের হুমকিও দিয়েছেন বলে অভিযোগ তাঁর।
ফাতেমা বেওয়া বলেন, গত ২৯ আগস্ট রাত আনুমানিক ১১টার দিকে মোশারফ হোসেন বাবু নেশাগ্রস্ত অবস্থায় বাড়িতে এসে কোনো কারণ ছাড়াই তাঁকে ও তাঁর ছোট ছেলে ইমরান হোসেনকে গালিগালাজ শুরু করেন। একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে তাঁকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, একপর্যায়ে মোশারফ হাতে থাকা ধারালো ছুরি তাঁর গলায় ধরে হত্যার হুমকি দেন। পরে রাত আনুমানিক ২টার দিকে তাঁকে জোরপূর্বক বাড়ির বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় তাঁর চিৎকার শুনে ছোট ছেলে ইমরান হোসেন জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে বিষয়টি বুঝতে পেরে মোশারফ তাঁকে ছেড়ে দেন। তবে ভবিষ্যতে সুযোগ পেলে হত্যা করার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন বৃদ্ধা।
এ ঘটনায় গত ৩০ আগস্ট নিয়ামতপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ফাতেমা বেওয়া। তাঁর ছোট ছেলে ইমরান হোসেন ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগ অস্বীকার অভিযুক্তের
তবে মায়ের করা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত মোশারফ হোসেন বাবু। তিনি বলেন, মাকে গালিগালাজ করা কিংবা গলায় ছুরি ধরার অভিযোগ সত্য নয়। তিনি শুধু তাঁর ন্যায্য অংশের সম্পত্তি বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি করেছেন। কিন্তু তাঁর মা ছোট ছেলের পক্ষ নিয়ে তাঁকে ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে মিথ্যা অভিযোগ করছেন বলে দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে নিয়ামতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুবুর রহমান বলেন, “অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
প্রতিবেদকের নাম 
















