
মাসুদ রানা মাসুম পার্বত্য ব্যুরো: বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম সীমান্তের ওপারে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর পুঁতে রাখা নিষিদ্ধ স্থলমাইন (ল্যান্ডমাইন) বিস্ফোরণে আবারও ৩ বাংলাদেশি নাগরিক গুরুতর আহত হয়েছেন। আজ রোববার (২৪ মে) বিকেলে ঘুমধুমের সীমান্ত সংলগ্ন জিরো লাইনের কাছাকাছি পাহাড়ি এলাকায় কাঠ ও বাঁশ কুড়াতে গেলে এই ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণে আহতদের শরীরের নিচের অংশ সম্পূর্ণ ক্ষতবিক্ষত হয়ে গেছে এবং রক্তক্ষরণের কারণে তাদের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিদের সূত্রে জানা গেছে, আজ বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে ঘুমধুম সীমান্তের জিরো লাইনের কাছাকাছি পাহাড়ি ঢালু এলাকায় লাকড়ি কুড়াতে যান স্থানীয় ৩ বাংলাদেশি যুবক। তারা সীমান্ত পিলার ঘেঁষে বনের ভেতরে প্রবেশ করতেই মিয়ানমার সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বা সেনাবাহিনীর পুঁতে রাখা একটি শক্তিশালী ল্যান্ডমাইনের ওপর পা পড়ে। বিকট শব্দে মাইনটি বিস্ফোরিত হলে ঘটনাস্থলেই তিনজনই ছিটকে পড়েন। বিস্ফোরণের শব্দ শুনে পাশেই দায়িত্বরত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর টহল দল এবং স্থানীয় গ্রামবাসীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তারা রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় তিনজনকে উদ্ধার করে পাহাড়ি পথ বেয়ে নিচে নামিয়ে আনেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের তীব্রতায় আহতদের পা এবং শরীরের নিচের অংশ মারাত্মকভাবে পুড়ে ও উড়ে গেছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তাদের জীবন সংকটাপন্ন। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের নাম-পরিচয় সম্পূর্ণ নিশ্চিত করা যায়নি।
এই ঘটনার পর ঘুমধুম ও আশপাশের সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে চরম আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে জান্তা বাহিনী ও বিদ্রোহী আরাকান আর্মির মধ্যকার চলমান সংঘাতের জেরে জিরো লাইন বরাবর ব্যাপক হারে ল্যান্ডমাইন ও বিস্ফোরক পুঁতে রাখা হয়েছে। প্রায়শই বাংলাদেশি সাধারণ মানুষ বনের ওপর জীবিকা নির্বাহ করতে গিয়ে এই মরণফাঁদের শিকার হচ্ছেন। আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ এই ল্যান্ডমাইন ব্যবহারের বিরুদ্ধে সীমান্তে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে স্থানীয় বিজিবি ক্যাম্পের এক কর্মকর্তা জানান, বিস্ফোরণের পরপরই সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং টহল বাড়ানো হয়েছে। মিয়ানমারের এই উসকানিমূলক ও ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানানোর প্রক্রিয়া চলছে। একই সাথে, বিজিবি ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে এবং লাল পতাকা টাঙিয়ে সীমান্ত সংলগ্ন জিরো লাইন কিংবা নো-ম্যানস ল্যান্ডের কাছাকাছি না যাওয়ার জন্য স্থানীয় পাহাড়ি ও সাধারণ মানুষকে কঠোরভাবে সতর্ক করা হচ্ছে।
চ:মে:ক হাসপাতাল সূত্রে রাত আটটায় জানা গেছে, আহত তিনজনকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে (ICU) রাখা হয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তাদের অবস্থা এখনও সংকটাপন্ন, তবে চিকিৎসকেরা তাদের বাঁচিয়ে রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছেন। এলাকায় বিজিবি ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত হয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নিচ্ছেন।
প্রতিবেদকের নাম 



















