
মোঃ নাহিদ চৌধুরী।(কালিয়াকৈর প্রতিনিধি) চন্দ্রা, গাজীপুর:
উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় আজ সকাল থেকে যানবাহনের তীব্র চাপ লক্ষ্য করা গেছে। দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়ক পয়েন্ট দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন উত্তরবঙ্গসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় চলাচল করে। আজও তার ব্যতিক্রম হয়নি। সকাল থেকেই চন্দ্রা ত্রিমোড়, চন্দ্রা ফ্লাইওভার, নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়ক এবং চন্দ্রা থেকে টাঙ্গাইলমুখী সড়কে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। কোথাও ধীরগতিতে যান চলাচল করতে দেখা গেলেও পুরোপুরি থেমে যায়নি যানবাহন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, চন্দ্রা এলাকায় বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল ও পণ্যবাহী যানবাহনের অতিরিক্ত চাপের কারণে মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে ধীরগতি সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে অফিসগামী যানবাহন ও দূরপাল্লার বাস একসঙ্গে মহাসড়কে ওঠায় চাপ আরও বেড়ে যায়। এতে যাত্রীদের দীর্ঘ সময় গাড়ির ভেতরে বসে থাকতে হচ্ছে।
যাত্রীরা জানান, স্বাভাবিক সময়ে চন্দ্রা পার হতে যেখানে কয়েক মিনিট সময় লাগে, সেখানে আজ অনেককে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধীরগতির মধ্যে পড়ে থাকতে হয়েছে। বাসের ভেতরে গরম, দীর্ঘ অপেক্ষা এবং যানজটের কারণে নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন। কেউ কেউ গন্তব্যে পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
চালকদের অভিযোগ, চন্দ্রা ত্রিমোড় দেশের অন্যতম ব্যস্ত সড়ক জংশন হওয়ায় সামান্য চাপ বাড়লেই পুরো এলাকায় যানজট ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া বিভিন্ন শিল্পকারখানার যানবাহন, পণ্যবাহী ট্রাক ও দূরপাল্লার বাস একই সময়ে চলাচল করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। অনেক চালক জানান, ধীরগতির কারণে জ্বালানি খরচও বেড়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীরা বলছেন, চন্দ্রা এখন শুধু উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার নয়, দেশের শিল্পাঞ্চল ও রাজধানীর সঙ্গে সংযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। তাই এখানে যানজট তৈরি হলে শুধু যাত্রী নয়, ব্যবসা-বাণিজ্যেও প্রভাব পড়ে। পণ্য পরিবহনে বিলম্ব হওয়ায় অনেক ব্যবসায়ীও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
এদিকে ট্রাফিক পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠে কাজ করছে। গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও ব্যস্ত এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কোথাও যানজট তৈরি হলে দ্রুত তা নিরসনের চেষ্টা চলছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তবে যাত্রীদের অভিযোগ, যানবাহনের সংখ্যা দিন দিন বাড়লেও সে অনুযায়ী স্থায়ী সমাধান এখনো দৃশ্যমান নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চন্দ্রা ত্রিমোড় দেশের অন্যতম কৌশলগত সড়ক জংশন হওয়ায় এখানে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া যানজট সমস্যা পুরোপুরি সমাধান করা সম্ভব নয়। বিকল্প রুট, সড়ক সম্প্রসারণ এবং আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা চালু করা জরুরি।
সব মিলিয়ে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার চন্দ্রায় আজ গাড়ির চাপ, ধীরগতির যান চলাচল এবং যাত্রীদের ভোগান্তির এক ব্যস্ত চিত্র দেখা গেছে। যদিও প্রশাসনের তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চলছে, তবুও দ্রুত স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন যাত্রী ও স্থানীয়রা।
প্রতিবেদকের নাম 



















