Dhaka ০২:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
ঈশ্বরদীতে দিন দুপুরে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে ভীতি প্রদর্শন ফটিকছড়ি থানার ওসি রবিউলকে চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজির বিশেষ সম্মাননা ধুনটের সোনাহাটায় বাংলাদেশ এক্সটেনশন এডুকেশন সার্ভিসেস (বিজ) এনজিওর ৪১৫তম শাখা’র উদ্বোধন জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে মাদক সেবনের দায়ে, চার যুবকের কারাদণ্ড বাসন থানায় অভিযোগ লিখতে নির্দিষ্ট দোকানে পাঠানোর অভিযোগ বান্দরবানে পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে ইটভাটা মালিকদের নিয়ে মতবিনিময় সভা নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস: মনপুরার ইউএনও’র বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ কিশোরগঞ্জে প্রধানমন্ত্রীর সফরের পরই সুখবর: পাকুন্দিয়ায় ব্রহ্মপুত্র নদে জোড়া সেতু নির্মাণের নির্দেশ মাদকের বিরুদ্ধে বাবুছড়ায় পুলিশের সঙ্গে জনতার পদযাত্রা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে পোশাক বাণিজ্য ও অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ

শিবগঞ্জ–মোকামতলা সড়ক প্রশস্তকরণে ফসলি জমি থেকে মাটি কাটার অভিযোগ

এম. আজাদ খান,স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া: বগুড়ার শিবগঞ্জ থেকে মোকামতলা পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণকাজকে কেন্দ্র করে সড়কের দুই পাশের ফসলি জমি থেকে মাটি কাটার অভিযোগ উঠেছে। কৃষকদের অভিযোগ, সড়ক প্রশস্তকরণের জন্য প্রয়োজনীয় জায়গার বাইরে গিয়ে কোথাও কোথাও ব্যক্তিমালিকানাধীন ফসলি জমিতে প্রবেশ করে মাটি নেওয়া হচ্ছে। এতে জমির ফসল ও উর্বর মাটি নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন স্থানীয় কৃষকেরা। সরেজমিনে দেখা যায় আজ সোমবার (১৭ আগস্ট)স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শিবগঞ্জ–মোকামতলা সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ একটি আঞ্চলিক সড়ক। যানবাহন চলাচল ও যোগাযোগব্যবস্থা সহজ করতে সড়কটি প্রশস্তকরণের কাজ চলছে। সড়কের দুই পাশে মাটি কাটার কাজের সময় কয়েকটি এলাকায় কৃষিজমির অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ করেছেন জমির মালিকেরা। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, সড়ক প্রশস্তকরণের জন্য সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় জমি চিহ্নিত ও সীমানা নির্ধারণ করার পর কাজ করা উচিত। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, কোথাও কোথাও জমির সীমানা যথাযথভাবে নির্ধারণ না করেই মাটি কাটার কারণে কৃষকের ফসলি জমির অংশ কেটে নেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে সিগারেট ও আইফোনের বড় চালান জব্দ

 

এতে জমির কিনারা ভেঙে যাওয়ার পাশাপাশি জমির উর্বর উপরিভাগের মাটিও নষ্ট হচ্ছে কয়েকজন কৃষক বলেন, সড়ক প্রশস্তকরণ জনস্বার্থে প্রয়োজনীয় উন্নয়নকাজ। উন্নয়নকাজে তাদের আপত্তি নেই। তবে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি ব্যবহার বা ক্ষতিগ্রস্ত করার আগে জমির মালিককে বিষয়টি জানানো, প্রয়োজনীয় জায়গা সরকারি প্রক্রিয়ায় নির্ধারণ করা এবং ক্ষয়ক্ষতির যথাযথ হিসাব করা জরুরি। চলতি মৌসুমে জমিতে থাকা ফসল নষ্ট হওয়ায় তাদের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে বলেও জানান তারা। কৃষকদের ভাষ্য, ফসলি জমিতে মাটি কাটার ফলে শুধু চলতি মৌসুমের ফসলই নষ্ট হচ্ছে না, অনেক জায়গায় জমির কাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জমির কিনারা কেটে যাওয়ায় ভবিষ্যতে সেচ, চাষাবাদ ও জমি সংরক্ষণে অতিরিক্ত সমস্যার আশঙ্কা করছেন তারা। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সড়ক উন্নয়নকাজ নিয়ে যাতে কৃষকদের মধ্যে কোনো ধরনের ক্ষোভ বা বিরোধ সৃষ্টি না হয়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা। কোন অংশ সরকারি সড়কের আওতাভুক্ত এবং কোনটি ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি—তা সরেজমিনে যাচাই করে প্রয়োজনীয় সীমানা নির্ধারণেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।

আরও পড়ুনঃ  সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন পালিত

 

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা আরও বলেন, উন্নয়নকাজের প্রয়োজনে কোনো ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি অধিগ্রহণ বা ব্যবহার করতে হলে প্রচলিত আইন ও সরকারি বিধি অনুসরণ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি ফসল ও জমির ক্ষয়ক্ষতি হলে তার সঠিক হিসাব করে ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা উচিত। এ বিষয়ে স্থানীয়দের দাবি, সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ যেন নির্ধারিত নকশা ও সীমানা অনুযায়ী সম্পন্ন হয় এবং কৃষকের ফসলি জমি অযথা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে মাটি কাটার অভিযোগগুলো সরেজমিনে তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সড়ক কর্তৃপক্ষ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা সংযুক্ত করা প্রয়োজন। জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশের আগে ক্ষতিগ্রস্ত জমির সুনির্দিষ্ট স্থান, কৃষকের সংখ্যা, কতটুকু জমি ও কী পরিমাণ ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে—এসব তথ্য সরেজমিনে যাচাই করে যুক্ত করলে প্রতিবেদনটি আরও তথ্যনির্ভর ও শক্তিশালী হবে।

আরও পড়ুনঃ  ধোপাছড়িতে বিএনপির সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় ছাত্রনেতা আবদুল মান্নান রানা

 

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

ঈশ্বরদীতে দিন দুপুরে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে ভীতি প্রদর্শন

শিবগঞ্জ–মোকামতলা সড়ক প্রশস্তকরণে ফসলি জমি থেকে মাটি কাটার অভিযোগ

আপডেটের সময়: ০৬:০৮:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

এম. আজাদ খান,স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া: বগুড়ার শিবগঞ্জ থেকে মোকামতলা পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণকাজকে কেন্দ্র করে সড়কের দুই পাশের ফসলি জমি থেকে মাটি কাটার অভিযোগ উঠেছে। কৃষকদের অভিযোগ, সড়ক প্রশস্তকরণের জন্য প্রয়োজনীয় জায়গার বাইরে গিয়ে কোথাও কোথাও ব্যক্তিমালিকানাধীন ফসলি জমিতে প্রবেশ করে মাটি নেওয়া হচ্ছে। এতে জমির ফসল ও উর্বর মাটি নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন স্থানীয় কৃষকেরা। সরেজমিনে দেখা যায় আজ সোমবার (১৭ আগস্ট)স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শিবগঞ্জ–মোকামতলা সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ একটি আঞ্চলিক সড়ক। যানবাহন চলাচল ও যোগাযোগব্যবস্থা সহজ করতে সড়কটি প্রশস্তকরণের কাজ চলছে। সড়কের দুই পাশে মাটি কাটার কাজের সময় কয়েকটি এলাকায় কৃষিজমির অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ করেছেন জমির মালিকেরা। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, সড়ক প্রশস্তকরণের জন্য সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় জমি চিহ্নিত ও সীমানা নির্ধারণ করার পর কাজ করা উচিত। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, কোথাও কোথাও জমির সীমানা যথাযথভাবে নির্ধারণ না করেই মাটি কাটার কারণে কৃষকের ফসলি জমির অংশ কেটে নেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে সিগারেট ও আইফোনের বড় চালান জব্দ

 

এতে জমির কিনারা ভেঙে যাওয়ার পাশাপাশি জমির উর্বর উপরিভাগের মাটিও নষ্ট হচ্ছে কয়েকজন কৃষক বলেন, সড়ক প্রশস্তকরণ জনস্বার্থে প্রয়োজনীয় উন্নয়নকাজ। উন্নয়নকাজে তাদের আপত্তি নেই। তবে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি ব্যবহার বা ক্ষতিগ্রস্ত করার আগে জমির মালিককে বিষয়টি জানানো, প্রয়োজনীয় জায়গা সরকারি প্রক্রিয়ায় নির্ধারণ করা এবং ক্ষয়ক্ষতির যথাযথ হিসাব করা জরুরি। চলতি মৌসুমে জমিতে থাকা ফসল নষ্ট হওয়ায় তাদের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে বলেও জানান তারা। কৃষকদের ভাষ্য, ফসলি জমিতে মাটি কাটার ফলে শুধু চলতি মৌসুমের ফসলই নষ্ট হচ্ছে না, অনেক জায়গায় জমির কাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জমির কিনারা কেটে যাওয়ায় ভবিষ্যতে সেচ, চাষাবাদ ও জমি সংরক্ষণে অতিরিক্ত সমস্যার আশঙ্কা করছেন তারা। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সড়ক উন্নয়নকাজ নিয়ে যাতে কৃষকদের মধ্যে কোনো ধরনের ক্ষোভ বা বিরোধ সৃষ্টি না হয়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা। কোন অংশ সরকারি সড়কের আওতাভুক্ত এবং কোনটি ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি—তা সরেজমিনে যাচাই করে প্রয়োজনীয় সীমানা নির্ধারণেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।

আরও পড়ুনঃ  নসিমনের ধাক্কায় একজন, ক্যানেলে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু

 

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা আরও বলেন, উন্নয়নকাজের প্রয়োজনে কোনো ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি অধিগ্রহণ বা ব্যবহার করতে হলে প্রচলিত আইন ও সরকারি বিধি অনুসরণ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি ফসল ও জমির ক্ষয়ক্ষতি হলে তার সঠিক হিসাব করে ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা উচিত। এ বিষয়ে স্থানীয়দের দাবি, সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ যেন নির্ধারিত নকশা ও সীমানা অনুযায়ী সম্পন্ন হয় এবং কৃষকের ফসলি জমি অযথা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে মাটি কাটার অভিযোগগুলো সরেজমিনে তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সড়ক কর্তৃপক্ষ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা সংযুক্ত করা প্রয়োজন। জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশের আগে ক্ষতিগ্রস্ত জমির সুনির্দিষ্ট স্থান, কৃষকের সংখ্যা, কতটুকু জমি ও কী পরিমাণ ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে—এসব তথ্য সরেজমিনে যাচাই করে যুক্ত করলে প্রতিবেদনটি আরও তথ্যনির্ভর ও শক্তিশালী হবে।

আরও পড়ুনঃ  মান্দায় জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে র‌্যালি, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ