Dhaka ১০:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় ৭ মাসের পরোয়ানাভুক্ত মাদক ও অসামাজিক কার্যকলাপের মূল হোতা ‘মালা ভাবি’ গ্রেপ্তার ভাঙ্গুড়ায় মেয়াদোত্তীর্ণ কীটনাশক ব্যবহারে কৃষক অসুস্থ টাঙ্গাইলের কালিহাতিতে ডিসির বিভিন্ন দপ্তর, বিদ্যালয় ও উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন ধুনট উপজেলা ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক মালিক সমিতির প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত ফরিদগঞ্জে নারিকেল গাছের ডাল কাটতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে বৃদ্ধার মৃত্যু পদ্মায় মা ইলিশ শিকারের দায়ে ৩ জেলের কারাদণ্ড, এক লাখ মিটার কারেন্ট জাল ধ্বংস ধামইরহাটে প্রশাসনকে ব্যবহার করে দলীয়করণের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কাউনিয়ায় তেজপাতা চাষে বদলাচ্ছে কৃষকের অর্থনৈতিক চিত্র সিলেটে ইয়াবাসহ মাদক কারবারী আটক সিলেটে পুকুরের মাছ ধরা নিয়ে যুবক খুন, আটক ১

বালিয়াডাঙ্গীতে সাবেক এমপি দবিরুল ইসলামের দাফন সম্পন্ন

মোঃ কাইয়ুম হাসান স্টাফ রিপোর্টার, ঠাকুরগাঁও: ​টানা সাতবারের সাবেক সংসদ সদস্য ও উত্তরবঙ্গের বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ মো. দবিরুল ইসলামের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। আজ শনিবার (৩০ মে) বিকেল চারটার দিকে ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বড়বাড়ী গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। বাবার জানাজায় অংশ নিতে দিনাজপুর কারাগার থেকে বিশেষ প্যারোলে সাত ঘণ্টার জন্য মুক্তি পান তার বড় ছেলে ও ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম সুজন। আজ ​শনিবার দুপুর ১টার দিকে কড়া নিরাপত্তায় সাবেক এমপি মাজহারুল ইসলাম সুজনকে দিনাজপুর কারাগার থেকে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার নিজ বাসভবনে নিয়ে আসা হয়। দীর্ঘদিন পর বাড়ি ফিরলেও পরিবেশ ছিল অত্যন্ত শোকার্ত। সরকারি শহীদ আকবর আলী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কলেজ মাঠে জানাজার আগে বাবার মরদেহের পাশে দাঁড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন সাবেক এমপি সুজন। এ সময় তিনি উপস্থিত সর্বস্তরের মানুষের কাছে তার বাবার আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করে দোয়া চান। এর আগে, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা থেকে সাবেক এই সংসদ সদস্যের মরদেহ এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সযোগে সমির উদ্দিন স্মৃতি ডিগ্রী কলেজ মাঠে এসে পৌঁছায়। সেখান থেকে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় তার নিজ বাসভবনে।

আরও পড়ুনঃ  পঙ্গু সিএনজি চালকের চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন বিসিবি পরিচালক আসিফ রব্বানী

​
​প্রবীণ এই নেতার জানাজার আগে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করা হয়। মুক্তিযুদ্ধে অবদান এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের প্রতি সম্মান জানিয়ে তার জানাজায় অংশ নেন স্থানীয় প্রশাসন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, বীর মুক্তিযোদ্ধা, জনপ্রতিনিধিসহ সর্বস্তরের হাজারো সাধারণ মানুষ। ​গত বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন ৭৮ বছর বয়সী এই প্রবীণ রাজনীতিবিদ। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে ও দুই মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
​উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে টানা সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার এক অনন্য রেকর্ড রয়েছে দবিরুল ইসলামের। ১৯৪৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বড়বাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করা এই নেতার রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয়েছিল বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) হাত ধরে।

আরও পড়ুনঃ  ​গোয়াইনঘাটে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) জরিপ কার্যক্রম পরিচালিত

​১৯৮৬ সিপিবি থেকে ১৫ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত। ১৯৯১ দ্বিতীয়বারের মতো জয়লাভ। ১৯৯৬ আওয়ামী লীগে যোগদান এবং দলের প্রার্থী হিসেবে তৃতীয়বার এমপি নির্বাচিত। ২০০১ ও ২০০৮ আওয়ামী লীগের টিকিটে টানা জয়। ২০১৪ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ষষ্ঠবারের মতো নির্বাচিত। ২০১৮ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীকে পরাজিত করে টানা সপ্তমবারের মতো সংসদ সদস্য হওয়ার রেকর্ড। ​২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রবীণ নেতা দবিরুল ইসলামের পরিবর্তে তার ছেলে মো. মাজহারুল ইসলাম সুজনকে মনোনয়ন দেয় আওয়ামী লীগ। সেই নির্বাচনে জয়ী হয়ে মো. মাজহারুল ইসলাম সুজন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

আরও পড়ুনঃ  বাগাতিপাড়ায় বড়াল নদীতে অবৈধ বাঁধ উচ্ছেদ: জাল ও সরঞ্জাম আগুন দিয়ে ধ্বংস

​তবে ২০২৪ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর পিতা-পুত্র উভয়ের বিরুদ্ধেই একাধিক মামলা দায়ের করা হয়। ওই বছরের ৩ অক্টোবর সাবেক এমপি দবিরুল ইসলামকে পুলিশ গ্রেফতার করে। দীর্ঘ কয়েক মাস কারাবন্দি থাকার পর সম্প্রতি তিনি জামিনে মুক্তি পান। তবে শারীরিকভাবে প্রচণ্ড অসুস্থ হয়ে পড়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়েছিল, সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। অন্যদিকে, ছেলে সুজন (সাবেক এমপি) এখনো কারাবন্দি থাকায় আজ কেবল বাবার জানাযা ও দাফন কাজে অংশগ্রহণ করার জন্যই কয়েক ঘণ্টার প্যারোলে মুক্তি পান।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় ৭ মাসের পরোয়ানাভুক্ত মাদক ও অসামাজিক কার্যকলাপের মূল হোতা ‘মালা ভাবি’ গ্রেপ্তার

বালিয়াডাঙ্গীতে সাবেক এমপি দবিরুল ইসলামের দাফন সম্পন্ন

আপডেটের সময়: ০৯:৩৬:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬

মোঃ কাইয়ুম হাসান স্টাফ রিপোর্টার, ঠাকুরগাঁও: ​টানা সাতবারের সাবেক সংসদ সদস্য ও উত্তরবঙ্গের বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ মো. দবিরুল ইসলামের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। আজ শনিবার (৩০ মে) বিকেল চারটার দিকে ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বড়বাড়ী গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। বাবার জানাজায় অংশ নিতে দিনাজপুর কারাগার থেকে বিশেষ প্যারোলে সাত ঘণ্টার জন্য মুক্তি পান তার বড় ছেলে ও ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম সুজন। আজ ​শনিবার দুপুর ১টার দিকে কড়া নিরাপত্তায় সাবেক এমপি মাজহারুল ইসলাম সুজনকে দিনাজপুর কারাগার থেকে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার নিজ বাসভবনে নিয়ে আসা হয়। দীর্ঘদিন পর বাড়ি ফিরলেও পরিবেশ ছিল অত্যন্ত শোকার্ত। সরকারি শহীদ আকবর আলী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কলেজ মাঠে জানাজার আগে বাবার মরদেহের পাশে দাঁড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন সাবেক এমপি সুজন। এ সময় তিনি উপস্থিত সর্বস্তরের মানুষের কাছে তার বাবার আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করে দোয়া চান। এর আগে, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা থেকে সাবেক এই সংসদ সদস্যের মরদেহ এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সযোগে সমির উদ্দিন স্মৃতি ডিগ্রী কলেজ মাঠে এসে পৌঁছায়। সেখান থেকে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় তার নিজ বাসভবনে।

আরও পড়ুনঃ  বাউফলে খালে ভাসমান অবস্থায় হাত বাঁধা মরদেহ উদ্ধার করল পুলিশ

​
​প্রবীণ এই নেতার জানাজার আগে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করা হয়। মুক্তিযুদ্ধে অবদান এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের প্রতি সম্মান জানিয়ে তার জানাজায় অংশ নেন স্থানীয় প্রশাসন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, বীর মুক্তিযোদ্ধা, জনপ্রতিনিধিসহ সর্বস্তরের হাজারো সাধারণ মানুষ। ​গত বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন ৭৮ বছর বয়সী এই প্রবীণ রাজনীতিবিদ। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে ও দুই মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
​উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে টানা সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার এক অনন্য রেকর্ড রয়েছে দবিরুল ইসলামের। ১৯৪৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বড়বাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করা এই নেতার রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয়েছিল বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) হাত ধরে।

আরও পড়ুনঃ  ​গোয়াইনঘাটে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) জরিপ কার্যক্রম পরিচালিত

​১৯৮৬ সিপিবি থেকে ১৫ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত। ১৯৯১ দ্বিতীয়বারের মতো জয়লাভ। ১৯৯৬ আওয়ামী লীগে যোগদান এবং দলের প্রার্থী হিসেবে তৃতীয়বার এমপি নির্বাচিত। ২০০১ ও ২০০৮ আওয়ামী লীগের টিকিটে টানা জয়। ২০১৪ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ষষ্ঠবারের মতো নির্বাচিত। ২০১৮ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীকে পরাজিত করে টানা সপ্তমবারের মতো সংসদ সদস্য হওয়ার রেকর্ড। ​২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রবীণ নেতা দবিরুল ইসলামের পরিবর্তে তার ছেলে মো. মাজহারুল ইসলাম সুজনকে মনোনয়ন দেয় আওয়ামী লীগ। সেই নির্বাচনে জয়ী হয়ে মো. মাজহারুল ইসলাম সুজন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

আরও পড়ুনঃ  লালপুরে ৯০ পিস ইয়াবা, নগদ টাকা ও মোটরসাইকেলসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার

​তবে ২০২৪ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর পিতা-পুত্র উভয়ের বিরুদ্ধেই একাধিক মামলা দায়ের করা হয়। ওই বছরের ৩ অক্টোবর সাবেক এমপি দবিরুল ইসলামকে পুলিশ গ্রেফতার করে। দীর্ঘ কয়েক মাস কারাবন্দি থাকার পর সম্প্রতি তিনি জামিনে মুক্তি পান। তবে শারীরিকভাবে প্রচণ্ড অসুস্থ হয়ে পড়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়েছিল, সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। অন্যদিকে, ছেলে সুজন (সাবেক এমপি) এখনো কারাবন্দি থাকায় আজ কেবল বাবার জানাযা ও দাফন কাজে অংশগ্রহণ করার জন্যই কয়েক ঘণ্টার প্যারোলে মুক্তি পান।