Dhaka ০৯:০২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
তারাগঞ্জে মানসিক ভারসাম্যহীন নারীকে উদ্ধার করে ‘গ্লোরি’র আশ্রয়ে পাঠালেন যুবদল নেতারা ফরিদগঞ্জে সুবিদপুর ওল্ড স্কীম দাখিল মাদ্রাসা অভিভাবক সমাবেশ ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত বিদ্যুৎ গেলেই অন্ধকারে কুলাউড়া৫০ শয্যা হাসপাতাল ফরিদগঞ্জে ইউএনও সেটু কুমার বড়ুয়ার বদলি জনিত বিদায় সংবর্ধনা উলিপুর সরকারি কলেজে নবীন বরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত নবগঠিত সিলেট জেলা যুবদল কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে জৈন্তাপুরে আনন্দ মিছিল শরীয়তপুর জেলা যুবদলের নবগঠিত কমিটির বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আনন্দ মিছিল চৌরাট শিবপুর বরেন্দ্র ডিগ্রী কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে নবীন বরণ সুবর্ণচরে ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরামের বিক্ষোভ সমাবেশ ৬ দফা দাবিতে গ্রাহকদের বিক্ষোভ লালপুর ডিগ্রি কলেজে এইচএসসি ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের উদ্বোধনী ক্লাস অনুষ্ঠিত

টিকিটবিহীন যাত্রীদের উপদ্রবে এসি বগিও যেন গোয়ালঘর: পঞ্চগড় থেকে ঢাকাগামী ‘একতা এক্সপ্রেস’-এর করুণ চিত্র।

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ১১:৩৬:১৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫২ সময় দেখুন

মোঃ রমজান আলী আটোয়ারী উপজেলা (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি: রেলপথকে সাধারণ মানুষের সবচেয়ে নিরাপদ ও আরামদায়ক মাধ্যম হিসেবে ধরা হলেও, বর্তমান চিত্র যেন সম্পূর্ণ উল্টো। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের লাইফলাইন খ্যাত পঞ্চগড় থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা আন্তঃনগর ট্রেনগুলোতে যাত্রীদের দুর্ভোগ এখন চরমে। আজ ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ইং তারিখে সম্প্রতি পঞ্চগড় থেকে ঢাকাগামী জনপ্রিয় ‘একতা এক্সপ্রেস’ ট্রেনের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) বগির অভ্যন্তরীণ যে দৃশ্য দেখা গেছে, তা দেখে সাধারণ যাত্রীদের মনে প্রশ্ন উঠেছে—এটি কি কোনো যাত্রীবাহী ট্রেন, নাকি গাদাগাদি করে গবাদিপশু বহনের কোনো গোয়ালঘর?

এসি বগিতে উপচে পড়া ভিড় ও বিশৃঙ্খলা:
রেলের নিয়ম অনুযায়ী, এসি বগির টিকিট পাওয়া অত্যন্ত কঠিন এবং এর মূল্যও সাধারণ চেয়ার কোচের তুলনায় যথেষ্ট বেশি। উদ্দেশ্য থাকে যাত্রীরা যেন একটু শান্তিতে, স্বাচ্ছন্দ্যে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে পারেন। কিন্তু একতা এক্সপ্রেসের এসি বগিগুলোর বর্তমান অবস্থা যাত্রীদের সেই স্বস্তি কেড়ে নিয়েছে। দেখা যায়, ট্রেনটি পঞ্চগড় স্টেশন ছাড়ার পর থেকেই বিভিন্ন স্টেশন থেকে টিকিটবিহীন যাত্রীদের অবৈধ প্রবেশ শুরু হয়। একটা সময় পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় যে, এসি বগির করিডোর, গেটের সামন এবং দুই সিটের মাঝের ফাঁকা জায়গায় তিল ধারণের ঠাঁই থাকে না। অবাক করা বিষয় হলো, মেঝেতে গাদাগাদি করে মানুষ বসে থাকে, যার ফলে পা ফেলারও উপায় থাকে না। অনেক সময় অবৈধ যাত্রীদের ভিড়ে প্রকৃত টিকিটধারী যাত্রীরা নিজেদের নির্দিষ্ট আসনে বসতে কিংবা শৌচাগারে যেতে পর্যন্ত চরম বিপাকে পড়েন।

আরও পড়ুনঃ  মেম্বার পদে প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ নেজাম উদ্দীনের, চাইলেন এলাকাবাসীর মতামত

অব্যবস্থাপনা ও তদারকির অভাব: দীর্ঘ ১২ ঘন্টাও একবারও ট্রেনের টিকেট টিটিই (TTE – Travelling Ticket Examiner) বা ভ্রাম্যমাণ টিকেট পরীক্ষক চেক করার জন্য প্রবেশ করেনি। প্রশ্ন উঠছে, কঠোর নিরাপত্তার কথা বলা হলেও কীভাবে টিকিটবিহীন এত মানুষ এসি বগিতে প্রবেশ করে? অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসাধু ট্রেন পরিদর্শক (টিটিই) ও রেলের কতিপয় কর্মীর সাথে সমঝোতা কিংবা আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমেই এই অনিয়ম নিয়মিত চলছে। স্টেশনের গেট ফাঁকি দিয়ে অথবা চলন্ত ট্রেন থেকে অতিরিক্ত যাত্রীরা এভাবে উঠে এসি বগির পরিবেশ নষ্ট করছে। অথচ প্রতিবাদ করলে অনেক সময় উল্টো হেনস্থার শিকার হতে হয় বৈধ যাত্রীদের।

আরও পড়ুনঃ  ধামইরহাট ঐতিহ্যবাহী জগদল আদিবাসী স্কুল ও কলেজে একাদশ শ্রেণীর অরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত

যাত্রীদের ক্ষোভ ও আকুতি:
এসি বগির ভেতরে এমন গাদাগাদি অবস্থা দেখে এক ক্ষুব্ধ যাত্রী আক্ষেপ করে বলেন, “অতিরিক্ত টিকিটের দাম দিয়ে এসি বগির টিকিট কেটেছি শান্তিতে যাওয়ার জন্য, অথচ এখানে এসে দেখি লোকাল বাসের চেয়েও খারাপ অবস্থা। মানুষ এমনভাবে গাদাগাদি করে দাঁড়িয়ে আছে যে বগিগুলোকে গোয়ালঘর ছাড়া আর কিছু মনে হচ্ছে না।”

আরও পড়ুনঃ  কুবিতে অপ্রতিম হত্যার বিচার ও চার দফা দাবিতে শিক্ষার্থীদের মৌন মিছিল

দ্রুত প্রতিকার প্রয়োজন:
রেলওয়ে খাতের এই অব্যবস্থাপনা দেশের সাধারণ যাত্রীদের চরম হতাশ করছে। সরকারের পক্ষ থেকে বারবার রেলকে লাভজনক ও যাত্রীসেবামূলক করার কথা বলা হলেও মাঠপর্যায়ে এর সঠিক প্রয়োগ দেখা যাচ্ছে না। পঞ্চগড়-ঢাকা রুটের ট্রেনগুলোতে এ ধরনের বিশৃঙ্খলা ও টিকিটবিহীন ভ্রমণ রোধে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর কড়া নজরদারি অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায়, সাধারণ যাত্রীদের এই পুঞ্জীভূত ক্ষোভ যেকোনো সময় বড় আন্দোলনে রূপ নিতে পারে।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

তারাগঞ্জে মানসিক ভারসাম্যহীন নারীকে উদ্ধার করে ‘গ্লোরি’র আশ্রয়ে পাঠালেন যুবদল নেতারা

টিকিটবিহীন যাত্রীদের উপদ্রবে এসি বগিও যেন গোয়ালঘর: পঞ্চগড় থেকে ঢাকাগামী ‘একতা এক্সপ্রেস’-এর করুণ চিত্র।

আপডেটের সময়: ১১:৩৬:১৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মোঃ রমজান আলী আটোয়ারী উপজেলা (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি: রেলপথকে সাধারণ মানুষের সবচেয়ে নিরাপদ ও আরামদায়ক মাধ্যম হিসেবে ধরা হলেও, বর্তমান চিত্র যেন সম্পূর্ণ উল্টো। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের লাইফলাইন খ্যাত পঞ্চগড় থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা আন্তঃনগর ট্রেনগুলোতে যাত্রীদের দুর্ভোগ এখন চরমে। আজ ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ইং তারিখে সম্প্রতি পঞ্চগড় থেকে ঢাকাগামী জনপ্রিয় ‘একতা এক্সপ্রেস’ ট্রেনের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) বগির অভ্যন্তরীণ যে দৃশ্য দেখা গেছে, তা দেখে সাধারণ যাত্রীদের মনে প্রশ্ন উঠেছে—এটি কি কোনো যাত্রীবাহী ট্রেন, নাকি গাদাগাদি করে গবাদিপশু বহনের কোনো গোয়ালঘর?

এসি বগিতে উপচে পড়া ভিড় ও বিশৃঙ্খলা:
রেলের নিয়ম অনুযায়ী, এসি বগির টিকিট পাওয়া অত্যন্ত কঠিন এবং এর মূল্যও সাধারণ চেয়ার কোচের তুলনায় যথেষ্ট বেশি। উদ্দেশ্য থাকে যাত্রীরা যেন একটু শান্তিতে, স্বাচ্ছন্দ্যে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে পারেন। কিন্তু একতা এক্সপ্রেসের এসি বগিগুলোর বর্তমান অবস্থা যাত্রীদের সেই স্বস্তি কেড়ে নিয়েছে। দেখা যায়, ট্রেনটি পঞ্চগড় স্টেশন ছাড়ার পর থেকেই বিভিন্ন স্টেশন থেকে টিকিটবিহীন যাত্রীদের অবৈধ প্রবেশ শুরু হয়। একটা সময় পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় যে, এসি বগির করিডোর, গেটের সামন এবং দুই সিটের মাঝের ফাঁকা জায়গায় তিল ধারণের ঠাঁই থাকে না। অবাক করা বিষয় হলো, মেঝেতে গাদাগাদি করে মানুষ বসে থাকে, যার ফলে পা ফেলারও উপায় থাকে না। অনেক সময় অবৈধ যাত্রীদের ভিড়ে প্রকৃত টিকিটধারী যাত্রীরা নিজেদের নির্দিষ্ট আসনে বসতে কিংবা শৌচাগারে যেতে পর্যন্ত চরম বিপাকে পড়েন।

আরও পড়ুনঃ  হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে পাঁচ গুণ রোগী তীব্র সংকটে ওষুধ-সরঞ্জাম

অব্যবস্থাপনা ও তদারকির অভাব: দীর্ঘ ১২ ঘন্টাও একবারও ট্রেনের টিকেট টিটিই (TTE – Travelling Ticket Examiner) বা ভ্রাম্যমাণ টিকেট পরীক্ষক চেক করার জন্য প্রবেশ করেনি। প্রশ্ন উঠছে, কঠোর নিরাপত্তার কথা বলা হলেও কীভাবে টিকিটবিহীন এত মানুষ এসি বগিতে প্রবেশ করে? অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসাধু ট্রেন পরিদর্শক (টিটিই) ও রেলের কতিপয় কর্মীর সাথে সমঝোতা কিংবা আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমেই এই অনিয়ম নিয়মিত চলছে। স্টেশনের গেট ফাঁকি দিয়ে অথবা চলন্ত ট্রেন থেকে অতিরিক্ত যাত্রীরা এভাবে উঠে এসি বগির পরিবেশ নষ্ট করছে। অথচ প্রতিবাদ করলে অনেক সময় উল্টো হেনস্থার শিকার হতে হয় বৈধ যাত্রীদের।

আরও পড়ুনঃ  ভাঙনে বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব মিয়ারচরের বাসিন্দারা

যাত্রীদের ক্ষোভ ও আকুতি:
এসি বগির ভেতরে এমন গাদাগাদি অবস্থা দেখে এক ক্ষুব্ধ যাত্রী আক্ষেপ করে বলেন, “অতিরিক্ত টিকিটের দাম দিয়ে এসি বগির টিকিট কেটেছি শান্তিতে যাওয়ার জন্য, অথচ এখানে এসে দেখি লোকাল বাসের চেয়েও খারাপ অবস্থা। মানুষ এমনভাবে গাদাগাদি করে দাঁড়িয়ে আছে যে বগিগুলোকে গোয়ালঘর ছাড়া আর কিছু মনে হচ্ছে না।”

আরও পড়ুনঃ  ফেনী সাংবাদিক ইউনিটির কার্যকরি কমিটির মতবিনিময় সভা

দ্রুত প্রতিকার প্রয়োজন:
রেলওয়ে খাতের এই অব্যবস্থাপনা দেশের সাধারণ যাত্রীদের চরম হতাশ করছে। সরকারের পক্ষ থেকে বারবার রেলকে লাভজনক ও যাত্রীসেবামূলক করার কথা বলা হলেও মাঠপর্যায়ে এর সঠিক প্রয়োগ দেখা যাচ্ছে না। পঞ্চগড়-ঢাকা রুটের ট্রেনগুলোতে এ ধরনের বিশৃঙ্খলা ও টিকিটবিহীন ভ্রমণ রোধে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর কড়া নজরদারি অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায়, সাধারণ যাত্রীদের এই পুঞ্জীভূত ক্ষোভ যেকোনো সময় বড় আন্দোলনে রূপ নিতে পারে।