Dhaka ০২:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
নীলফামারীতে গ্রামপুলিশ মিনহাজুলের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তে প্রশাসন পতেঙ্গায় অবৈধ টমটমের দাপট ও লক্ষ টাকার টোকেন বাণিজ্য ধোপাছড়ি শীলঘাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটিতে সভাপতি হলেন আব্দুল মান্নান রানা অভাবের দেয়ালে বন্দি রিকশাচালকের ৩ হাজার পাতার স্বপ্ন! ক্যান্সারের সঙ্গে জীবনযুদ্ধ: অসহায় নব মুসলিম জাকারিয়ার পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান শনির আখড়া জিয়া সরণি রুটে ময়লার স্তূপ: চরম দুর্ভোগে পথচারী ও এলাকাবাসী সমবায়কে উপেক্ষা করে পল্লী উন্নয়ন নয়: জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস কমিটিতে ইউসিসিএ সভাপতিদের বাদ দেওয়া কেন উদ্বেগজনক কুড়িগ্রামে ল্যাম্পি স্কিন ডিজিজ প্রতিরোধে সচেতনতামূলক সভা ও ভ্যাকসিন কার্যক্রম সাঘাটায় বজ্রপাতে মা-ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যু, ছয় মাসের শিশুকে নিয়ে দিশেহারা পুত্রবধূ বগুড়া শহর বাইপাস করে নতুন রেলপথের উদ্যোগ

অভাবের দেয়ালে বন্দি রিকশাচালকের ৩ হাজার পাতার স্বপ্ন!

স্টাফ রিপোর্টার, আব্দুর রহমান মোল্লা:
রমনা পার্কের কাঠের ব্রিজে বসে প্রতিদিন নিজের স্বপ্নকে কাগজে ফুটিয়ে তোলেন এক সংগ্রামী মানুষ। সারাদিন রিকশা চালিয়ে যা আয় করেন, তার বেশিরভাগই চলে যায় খাবার ও জীবনযাপনের ন্যূনতম খরচে। তবুও স্বপ্ন দেখা থামাননি তিনি। পকেটে যদি মাত্র ২ টাকাও থাকে, সেই টাকাও তিনি খরচ করেন একটি A4 সাইজের কাগজ কেনার জন্য। কারণ, তাঁর কাছে কাগজ মানেই নতুন একটি গল্প, নতুন একটি উপন্যাস, নতুন এক টুকরো স্বপ্ন।তাঁর হাতের লেখা এতটাই সুন্দর ও নিখুঁত যে, প্রথম দেখায় তা কম্পিউটারে টাইপ করা লেখার চেয়েও বেশি পরিপাটি ও আকর্ষণীয় মনে হয়। বছরের পর বছর ধরে এভাবেই নীরবে লিখে চলেছেন তিনি। আজ তাঁর সংগ্রহে জমা হয়েছে তিন হাজারেরও বেশি হাতে লেখা পৃষ্ঠা! প্রতিটি পাতার ভাঁজে ভাঁজে লুকিয়ে আছে তাঁর মেধা, কল্পনা, অনুভূতি আর এক বুক নীরব কান্না।
​সমাজের চোখে তিনি হয়তো একজন সাধারণ রিকশাচালক, কিন্তু বাস্তবে তিনি একজন জাত লেখক, একজন খাঁটি স্বপ্নবাজ ও সৃষ্টিশীল মানুষ।

আরও পড়ুনঃ  গাছে পেরেক মেরে সাইনবোর্ড: বিপন্ন হচ্ছে আমাদের জাতীয় ফল গাছ

 

দুর্ভাগ্যজনকভাবে, চরম আর্থিক সংকটের কারণে তাঁর এই অনন্য প্রতিভা আজও আলোর মুখ দেখেনি। প্রকাশকের দ্বারে দ্বারে যাওয়ার সামর্থ্য নেই, বই ছাপানোর পুঁজি নেই, এমনকি নিজের প্রতিভাকে মানুষের সামনে তুলে ধরার ন্যূনতম সুযোগটুকুও তাঁর নেই।
​আমরা প্রায়ই মানুষের পোশাক, পেশা কিংবা আর্থিক অবস্থান দেখে তাঁকে বিচার করি; অনেক সময় অবহেলা বা হাসি-ঠাট্টাও করি। কিন্তু কখনো কি তাঁদের বুকের ভেতরে লুকিয়ে থাকা খাঁটি স্বপ্নগুলোকে দেখার চেষ্টা করি? কখনো কি জানার চেষ্টা করি—কতটা কষ্ট আর তীব্র সংগ্রাম বুক পেতে নিয়ে তাঁরা বেঁচে আছেন?
​এই মানুষটি যদি সামান্য একটু সহযোগিতা, পৃষ্ঠপোষকতা এবং নিজের লেখাগুলো প্রকাশ করার সুযোগ পেতেন, তবে হয়তো তাঁর বই একদিন বাংলাদেশের পাঠকদের হৃদয় জয় করত। আমরা হয়তো খুঁজে পেতাম এক কালজয়ী ঔপন্যাসিককে, যাঁর প্রতিভা আজ অভাবের নিষ্ঠুর দেয়ালে বন্দি হয়ে আছে।
​প্রতিভা কখনো অর্থের কাছে হার মানতে চায় না, কিন্তু সঠিক সুযোগের অভাবে অনেক সময় হারিয়ে যায়। তাই আসুন, মানুষকে তাঁর পেশা দিয়ে নয়, তাঁর স্বপ্ন ও যোগ্যতা দিয়ে মূল্যায়ন করি। কারণ, কোন সাধারণ মানুষের মাঝেই লুকিয়ে থাকে অসাধারণ এক মহীরুহ, তা আমরা কেউই জানি না।

আরও পড়ুনঃ  শনির আখড়া জিয়া সরণি রুটে ময়লার স্তূপ: চরম দুর্ভোগে পথচারী ও এলাকাবাসী
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

নীলফামারীতে গ্রামপুলিশ মিনহাজুলের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তে প্রশাসন

অভাবের দেয়ালে বন্দি রিকশাচালকের ৩ হাজার পাতার স্বপ্ন!

আপডেটের সময়: ১২:২৩:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার, আব্দুর রহমান মোল্লা:
রমনা পার্কের কাঠের ব্রিজে বসে প্রতিদিন নিজের স্বপ্নকে কাগজে ফুটিয়ে তোলেন এক সংগ্রামী মানুষ। সারাদিন রিকশা চালিয়ে যা আয় করেন, তার বেশিরভাগই চলে যায় খাবার ও জীবনযাপনের ন্যূনতম খরচে। তবুও স্বপ্ন দেখা থামাননি তিনি। পকেটে যদি মাত্র ২ টাকাও থাকে, সেই টাকাও তিনি খরচ করেন একটি A4 সাইজের কাগজ কেনার জন্য। কারণ, তাঁর কাছে কাগজ মানেই নতুন একটি গল্প, নতুন একটি উপন্যাস, নতুন এক টুকরো স্বপ্ন।তাঁর হাতের লেখা এতটাই সুন্দর ও নিখুঁত যে, প্রথম দেখায় তা কম্পিউটারে টাইপ করা লেখার চেয়েও বেশি পরিপাটি ও আকর্ষণীয় মনে হয়। বছরের পর বছর ধরে এভাবেই নীরবে লিখে চলেছেন তিনি। আজ তাঁর সংগ্রহে জমা হয়েছে তিন হাজারেরও বেশি হাতে লেখা পৃষ্ঠা! প্রতিটি পাতার ভাঁজে ভাঁজে লুকিয়ে আছে তাঁর মেধা, কল্পনা, অনুভূতি আর এক বুক নীরব কান্না।
​সমাজের চোখে তিনি হয়তো একজন সাধারণ রিকশাচালক, কিন্তু বাস্তবে তিনি একজন জাত লেখক, একজন খাঁটি স্বপ্নবাজ ও সৃষ্টিশীল মানুষ।

আরও পড়ুনঃ  ​১০ম বছরে ‘বিডি ক্লিন’: হাইকোর্টের সামনে ব্যতিক্রমী মানববন্ধনে স্বপ্নের বাংলাদেশের ডাক

 

দুর্ভাগ্যজনকভাবে, চরম আর্থিক সংকটের কারণে তাঁর এই অনন্য প্রতিভা আজও আলোর মুখ দেখেনি। প্রকাশকের দ্বারে দ্বারে যাওয়ার সামর্থ্য নেই, বই ছাপানোর পুঁজি নেই, এমনকি নিজের প্রতিভাকে মানুষের সামনে তুলে ধরার ন্যূনতম সুযোগটুকুও তাঁর নেই।
​আমরা প্রায়ই মানুষের পোশাক, পেশা কিংবা আর্থিক অবস্থান দেখে তাঁকে বিচার করি; অনেক সময় অবহেলা বা হাসি-ঠাট্টাও করি। কিন্তু কখনো কি তাঁদের বুকের ভেতরে লুকিয়ে থাকা খাঁটি স্বপ্নগুলোকে দেখার চেষ্টা করি? কখনো কি জানার চেষ্টা করি—কতটা কষ্ট আর তীব্র সংগ্রাম বুক পেতে নিয়ে তাঁরা বেঁচে আছেন?
​এই মানুষটি যদি সামান্য একটু সহযোগিতা, পৃষ্ঠপোষকতা এবং নিজের লেখাগুলো প্রকাশ করার সুযোগ পেতেন, তবে হয়তো তাঁর বই একদিন বাংলাদেশের পাঠকদের হৃদয় জয় করত। আমরা হয়তো খুঁজে পেতাম এক কালজয়ী ঔপন্যাসিককে, যাঁর প্রতিভা আজ অভাবের নিষ্ঠুর দেয়ালে বন্দি হয়ে আছে।
​প্রতিভা কখনো অর্থের কাছে হার মানতে চায় না, কিন্তু সঠিক সুযোগের অভাবে অনেক সময় হারিয়ে যায়। তাই আসুন, মানুষকে তাঁর পেশা দিয়ে নয়, তাঁর স্বপ্ন ও যোগ্যতা দিয়ে মূল্যায়ন করি। কারণ, কোন সাধারণ মানুষের মাঝেই লুকিয়ে থাকে অসাধারণ এক মহীরুহ, তা আমরা কেউই জানি না।

আরও পড়ুনঃ  শনির আখড়া জিয়া সরণি রুটে ময়লার স্তূপ: চরম দুর্ভোগে পথচারী ও এলাকাবাসী