
মোঃ আলাউদ্দীন মন্ডল রাজশাহী ব্যুরো: রাজশাহীর পবা উপজেলায় শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল মেধা বিকাশ, বিজ্ঞানভিত্তিক চিন্তা ও উদ্ভাবনী ধারণাকে উৎসাহিত করতে স্টার্টআপ, বিজ্ঞান প্রকল্প ও ইনোভেশন আইডিয়া প্রদর্শন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।শুক্রবার (১২ জুন) সকালে উপজেলা পরিষদ হলরুমে দিনব্যাপী এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতিহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অধীন ‘এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিম’-এর উদ্যোগে এই কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সেকেন্ডারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের আওতাভুক্ত এই কর্মসূচিতে পবা উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। ‘মেধা-বিজ্ঞান উদ্ভাবনে দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ফিতা কেটে ও বেলুন-ফেস্টুন উড়িয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে একটি জনবান্ধব ও কর্মমুখী বাজেট উপস্থাপন করেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখতে কর, শুল্ক ও ভ্যাট কমানোসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হবে। দেশের মেধাবী প্রজন্ম যেন বিদেশে মেধা পাচারের শিকার না হয়ে নিজ দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে, সে জন্য বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা ও উদ্ভাবনী চিন্তার বিকাশ জরুরি। পবা উপজেলার শিক্ষার্থীরা জাতীয় নিরাপত্তা, স্বল্প খরচে বিদ্যুৎ উৎপাদন, মহাকাশ বিজ্ঞান ও স্থানীয় সমস্যা সমাধানে যে উদ্ভাবনী প্রকল্প উপস্থাপন করেছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও আশাব্যঞ্জক। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিক নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও জ্ঞানচর্চার উপযুক্ত পরিবেশ দিতে পারলে শান্তিপূর্ণ, উন্নত ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইবনুল আবেদীন। তিনি বলেন, এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শ্রেণিকক্ষের শিক্ষাকে বাস্তব জীবনের সঙ্গে যুক্ত করাই এই কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য। শিক্ষার্থীরা যে উদ্ভাবনী ধারণা উপস্থাপন করেছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এসব প্রকল্পের মধ্য থেকে ভবিষ্যতে অনেক কার্যকর উদ্যোগ তৈরি হতে পারে। উপজেলা প্রশাসন শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সবসময় পাশে থাকবে।
প্রদর্শনীতে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা মোট ১২টি স্টল উপস্থাপন করে। স্টলগুলোতে শিক্ষার্থীরা স্থানীয় সম্পদ ব্যবহার করে ব্যবসায়িক উদ্যোগ, পাঠ্যবইয়ের বিজ্ঞানভিত্তিক তত্ত্বের ব্যবহারিক প্রয়োগ এবং মানুষের দৈনন্দিন সমস্যা সমাধানে বাস্তবসম্মত উদ্ভাবনী ধারণা তুলে ধরে। আয়োজনটি ঘিরে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও দর্শনার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়।
‘স্টার্টআপ’ ক্যাটাগরিতে শিক্ষার্থীরা স্থানীয় সম্পদ ব্যবহার করে লাভজনক ও সমাজ-সহায়ক ব্যবসায়িক মডেল প্রদর্শন করে। এর মধ্যে নওহাটা ছালেহিয়া দারুচ্ছুন্নাত ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা মাটি ও বাঁশের তৈরি মাথাল, ঝাঁকা, মাটির থালা, গ্লাস, কাপ-ফ্রিজ, বন্ধু চুলাসহ বিভিন্ন পণ্য উপস্থাপন করে। এসব প্রদর্শনীর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা স্থানীয় কাঁচামাল দিয়ে পরিবেশবান্ধব ও ব্যবহারযোগ্য পণ্য তৈরির ধারণা তুলে ধরে। ‘বিজ্ঞান প্রকল্প’ ক্যাটাগরিতে শিক্ষার্থীরা পাঠ্যবইয়ের তত্ত্বকে ব্যবহারিক প্রয়োগের মাধ্যমে প্রদর্শন করে। বাগধানী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রদর্শন করে উপস্থিত দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। শিক্ষার্থীরা তাদের প্রকল্পের কার্যকারিতা, ব্যবহারিক দিক এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ব্যাখ্যা করে। অন্যদিকে ‘ইনোভেশন আইডিয়া’ ক্যাটাগরিতে মানুষের কষ্ট ও শ্রম কমাতে সক্ষম সহজ, সৃজনশীল ও বাস্তবায়নযোগ্য ধারণা উপস্থাপন করা হয়। মল্লিকপুর রণহাট কুখন্ডি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শুষ্ক মৌসুমে কৃষি জমিতে জমে থাকা পানির ব্যবহার নিয়ে উদ্ভাবনী ধারণা প্রদর্শন করে। স্থানীয় কৃষি সমস্যা সমাধানে তাদের এ ধারণা দর্শনার্থীদের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি করে।
অন্যদিকে মোহনপুর উপজেলায় একই অনুষ্ঠানে যোগ দেন সংসদ সদস্য মিলন।এছাড়াও সেখানে উপস্থিত ছিলেন মোহনপুর উপজেলা নিবার্হী অফিসার ফাহিমা বিনতে আখতার।মোহনপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর অর রশীদ।পবা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এস এম মাহমুদ হাসান, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার আয়েশা নাজনীন, পবা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুর রাজ্জাক, যুগ্ম আহ্বায়ক সুলতান আহমেদসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।
প্রতিবেদকের নাম 


















