Dhaka ০৫:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সরইয়ের বালু ঘিরে প্রভাবশালীদের আধিপত্য, প্রশ্নবিদ্ধ তদারকি মৌলভীবাজারের রাজনগরে সাজাপ্রাপ্ত দুই আসামিসহ ৭ জন গ্রেফতার বগুড়ায় উন্নয়নের নতুন পরিকল্পনা তুলে ধরলেন প্রতিমন্ত্রী: মীর শাহে আলম হোসেনপুরে বিজ্ঞান মেলায় চ্যাম্পিয়ন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, প্রথম স্থান অর্জন। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিক নিরাপত্তা, জ্ঞানচর্চার উপযুক্ত পরিবেশ দিতে পারলে নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব: এমপি মিলন মাদকবিরোধী অভিযানে বিরামপুরে তিন কারবারি আটক বান্দরবানের রোয়াংছড়িতে পিআইও মিল্টন দস্তিদারের বিরুদ্ধে কোটি টাকার সরকারি বরাদ্দ আত্মসাতের অভিযোগ ভোলা হলি চাইল্ড একাডেমির বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত বাউফলে শিক্ষার্থীদের স্টার্টআপ ও ইনোভেশন আইডিয়া শেয়ারিং সেমিনার অনুষ্ঠিত জামালপুরের সরিষাবাড়িতে, দৈনিক আজকের জনবাণীর নতুন যাত্রা.

শান্তি প্রতিষ্ঠা ও বম শরণার্থীদের পুনর্বাসনের অঙ্গীকার ৫৬ পরিবারে খাদ্য সহায়তা

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৬:৪৮:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
  • ৯৮ সময় দেখুন

লিটন ত্রিপুরারুমা প্রতিনিধি, বান্দরবান: বান্দরবানের রুমা উপজেলায় পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা, ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষা এবং ভারত থেকে ফিরে আসা বম শরণার্থীদের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় পুনর্বাসনের দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। গতকাল রুমা জোনের উদ্যোগে উপজেলার বেথেল পাড়ায় স্থানীয় কারবারি, হেডম্যান, ধর্মীয় নেতা ও সাধারণ জনগণের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় এই আশ্বাস দেওয়া হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রুমা জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী হাসান সরকার, এসবিপি, পিএসসি। সভায় রুমা উপজেলার বিভিন্ন চার্চের পাস্টর, বম সোশ্যাল কাউন্সিল (বিএসসি)-এর প্রতিনিধি এবং বেথেল পাড়ার বাসিন্দাসহ প্রায় ১৫৫ জন অংশ নেন।মতবিনিময় সভা শেষে রুমা জোনের পক্ষ থেকে একটি মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হয়। সম্প্রতি জেল থেকে জামিনে মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং ভারতের মিজোরাম রাজ্য থেকে নিজ দেশে ফিরে আসা বম পরিবারের সদস্যসহ মোট ৫৬টি চরম সংকটাপন্ন পরিবারের মাঝে জরুরি খাদ্য সহায়তা বিতরণ করা হয়। ​সভায় জোন কমান্ডার পাহাড়ের বর্তমান স্থিতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে বলেন, দেশে ধর্মীয় স্বাচ্ছন্দ্য ও আচার-অনুষ্ঠান পালনে কোনো ধরনের বাধা বা সীমাবদ্ধতা নেই। তবে একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী (কেএনএ) এই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিনষ্ট করতে এবং স্থানীয় জনগণের মধ্যে ভয়ভীতি ও বিভ্রান্তি ছড়াতে নানামুখী অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  সাইকেলেই দেশজয়ের মহাকাব্যে রংপুরের মোবাশ্বের এখন ঠাকুরগাঁওয়ে

 

তিনি বম সম্প্রদায়ের পাস্টর ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দকে কেএনএ-এর যেকোনো চাপ বা ভয়ভীতির মুখে নতি স্বীকার না করার এবং তাদের কোনো ধরনের আর্থিক সহায়তা প্রদান না করার আহ্বান জানান। একই সাথে গণমাধ্যমে প্রচারিত যেকোনো ধরণের বিভ্রান্তিকর তথ্য ও গুজব এড়াতে সবাইকে সচেতন থাকার পরামর্শ দেন। শরণার্থী ও পাহাড়ে শান্তি ফিরিয়ে আনার বিষয়ে জোন কমান্ডার দুটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন। তিনি জানান, মিজোরাম থেকে প্রত্যাবর্তনকারী বম শরণার্থী এবং জেল থেকে মুক্ত হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা ব্যক্তিদের জন্য রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় পুনর্বাসন কর্মসূচির ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি, কেএনএ-এর কোনো সদস্য যদি সহিংস পথ পরিহার করে আত্মসমর্পণ করে, তবে তাকে বিশেষ পুরস্কার প্রদানসহ পুনর্বাসনের আওতায় আনা হবে। এই বার্তাগুলো প্রতিটি পাড়ায় ও স্থানীয় জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য তিনি উপস্থিত সবার প্রতি অনুরোধ জানান।অনুষ্ঠানের শেষাংশে, স্থানীয়দের মনোবল বৃদ্ধি করে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী হাসান সরকার দৃঢ়ভাবে বলেন, “বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এ দেশের সাধারণ মানুষের সেনাবাহিনী। পাহাড়ে একটি শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উন্নয়নমুখী জীবন নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনীর প্রতিটি সদস্য সর্বোচ্চ নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে সর্বদা স্থানীয় জনগণের পাশে থাকবে।”

আরও পড়ুনঃ  সিএমপিতে ‘সাইবার সাপোর্ট অ্যান্ড রেসপন্স সেন্টার’ এর যাত্রা শুরু
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

সরইয়ের বালু ঘিরে প্রভাবশালীদের আধিপত্য, প্রশ্নবিদ্ধ তদারকি

শান্তি প্রতিষ্ঠা ও বম শরণার্থীদের পুনর্বাসনের অঙ্গীকার ৫৬ পরিবারে খাদ্য সহায়তা

আপডেটের সময়: ০৬:৪৮:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

লিটন ত্রিপুরারুমা প্রতিনিধি, বান্দরবান: বান্দরবানের রুমা উপজেলায় পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা, ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষা এবং ভারত থেকে ফিরে আসা বম শরণার্থীদের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় পুনর্বাসনের দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। গতকাল রুমা জোনের উদ্যোগে উপজেলার বেথেল পাড়ায় স্থানীয় কারবারি, হেডম্যান, ধর্মীয় নেতা ও সাধারণ জনগণের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় এই আশ্বাস দেওয়া হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রুমা জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী হাসান সরকার, এসবিপি, পিএসসি। সভায় রুমা উপজেলার বিভিন্ন চার্চের পাস্টর, বম সোশ্যাল কাউন্সিল (বিএসসি)-এর প্রতিনিধি এবং বেথেল পাড়ার বাসিন্দাসহ প্রায় ১৫৫ জন অংশ নেন।মতবিনিময় সভা শেষে রুমা জোনের পক্ষ থেকে একটি মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হয়। সম্প্রতি জেল থেকে জামিনে মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং ভারতের মিজোরাম রাজ্য থেকে নিজ দেশে ফিরে আসা বম পরিবারের সদস্যসহ মোট ৫৬টি চরম সংকটাপন্ন পরিবারের মাঝে জরুরি খাদ্য সহায়তা বিতরণ করা হয়। ​সভায় জোন কমান্ডার পাহাড়ের বর্তমান স্থিতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে বলেন, দেশে ধর্মীয় স্বাচ্ছন্দ্য ও আচার-অনুষ্ঠান পালনে কোনো ধরনের বাধা বা সীমাবদ্ধতা নেই। তবে একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী (কেএনএ) এই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিনষ্ট করতে এবং স্থানীয় জনগণের মধ্যে ভয়ভীতি ও বিভ্রান্তি ছড়াতে নানামুখী অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  ঈদগাঁওয়ে ইসলামাবাদ রেলওয়ে স্টেশনে অচলাবস্থা: চরম ঝুঁকিতে যাত্রীরা

 

তিনি বম সম্প্রদায়ের পাস্টর ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দকে কেএনএ-এর যেকোনো চাপ বা ভয়ভীতির মুখে নতি স্বীকার না করার এবং তাদের কোনো ধরনের আর্থিক সহায়তা প্রদান না করার আহ্বান জানান। একই সাথে গণমাধ্যমে প্রচারিত যেকোনো ধরণের বিভ্রান্তিকর তথ্য ও গুজব এড়াতে সবাইকে সচেতন থাকার পরামর্শ দেন। শরণার্থী ও পাহাড়ে শান্তি ফিরিয়ে আনার বিষয়ে জোন কমান্ডার দুটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন। তিনি জানান, মিজোরাম থেকে প্রত্যাবর্তনকারী বম শরণার্থী এবং জেল থেকে মুক্ত হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা ব্যক্তিদের জন্য রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় পুনর্বাসন কর্মসূচির ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি, কেএনএ-এর কোনো সদস্য যদি সহিংস পথ পরিহার করে আত্মসমর্পণ করে, তবে তাকে বিশেষ পুরস্কার প্রদানসহ পুনর্বাসনের আওতায় আনা হবে। এই বার্তাগুলো প্রতিটি পাড়ায় ও স্থানীয় জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য তিনি উপস্থিত সবার প্রতি অনুরোধ জানান।অনুষ্ঠানের শেষাংশে, স্থানীয়দের মনোবল বৃদ্ধি করে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী হাসান সরকার দৃঢ়ভাবে বলেন, “বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এ দেশের সাধারণ মানুষের সেনাবাহিনী। পাহাড়ে একটি শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উন্নয়নমুখী জীবন নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনীর প্রতিটি সদস্য সর্বোচ্চ নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে সর্বদা স্থানীয় জনগণের পাশে থাকবে।”

আরও পড়ুনঃ  ফুলবাড়ী সীমান্তে ভারতের পুশইন ঠেকাতে বিজিবির কড়া নজরদারী