Dhaka ০১:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
অনিয়মের অভিযোগে ফুলবাড়ী সমাজসেবা অফিস পরিদর্শনে এমপি ড. আতিক মুজাহিদ পতেঙ্গা প্রাইম এগ্রোতে সুলভে গরু-ছাগল বিক্রয় করা হচ্ছে জামালপুরের মাদারগঞ্জে, নারী সহ ৩ মাদক ব্যবসায়ী আটক পন্ডিত নিরোদ লীলা গীতা বিদ্যাপিঠে গীতা প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত, মোহাম্মদ আলী শাহ রোড এলাকায় মাদক বিরোধী সমাবেশ ও মানববন্ধন নলছিটিতে শ্রমিক দল নেতা মিজানের বিরুদ্ধে গৃহবধূ ধর্ষণের অভিযোগে ট্রাইব্যুনালে মামলা রামিশা হত্যার প্রতিবাদে কুড়িগ্রামে মানববন্ধন, ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জমজমাট জিনজিরা পশুর হাট: শুরু হয়েছে কোরবানির পশু কেনাবেচা রাসিক সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নকর্মীদের ঈদ উপহারের চেক প্রদান করলেন প্রধানমন্ত্রী যৌথ মানবিক সহায়তা পরিকল্পনায় স্থানীয়দের জন্য বরাদ্দ ৫% আর রোহিঙ্গাদের বরাদ্দ  ৯৫% হয়েছে

প্রতিবন্ধী বাবার আইসিইউতে থাকা সেই শিশুর দায়িত্ব নিলেন ঢাকার জেলা প্রশাসক

কাজী আন্নিল তানভীর স্টাফ রিপোর্টার: ​টাকার অভাবে সাত মাস বয়সী শিশু তাজিমের আইসিইউতে (ICU) চিকিৎসা চালিয়ে নিতে হিমশিম খাচ্ছিলেন তার প্রতিবন্ধী বাবা আসলাম। অসহায় এই বাবার কষ্টের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তা দ্রুত নজরে আসে ঢাকার নবনিযুক্ত জেলা প্রশাসক (ডিসি) মিজ ফরিদা খানম–এর। খবর পেয়েই মানবিক উদ্যোগ নিয়ে শিশু তাজিমের চিকিৎসার সম্পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন তিনি।বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকালে রাজধানীর শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা পরিস্থিতি পরিদর্শন করতে যান জেলা প্রশাসক। সেখানে গিয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিশুটির চিকিৎসার জন্য নগদ ৫০ হাজার টাকা অর্থ সহায়তা প্রদান করেন এবং আগামীতেও তাজিমের চিকিৎসার যাবতীয় ব্যয় বহনের ঘোষণা দেন।

আরও পড়ুনঃ  স্বপ্নভঙ্গ এক তরুণ উদ্যোক্তার: রাজনৈতিক পরিচয়ের অভিযোগে ব্যবসা ধ্বংসের আর্তনাদ

 

​একই সময়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নরসিংদী থেকে আসা তামজিদ নামে আইসিইউর আরেক শিশুর চিকিৎসায় অর্থ সহায়তা দেন এবং তারও চিকিৎসার দায়িত্ব নেন ডিসি।একটি শিশুও যেন চিকিৎসার অভাবে মারা না যায়, সেটি নিশ্চিত করতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। আমি ঢাকার জেলা প্রশাসক; তবে দিনশেষে আমি তো একজন মা-ও। প্রতিটি মায়ের আর্তনাদ আমাকে ব্যথিত করে। যেকোনো মূল্যে আমাদের সন্তানদের রক্ষা করতেই হবে।

 

— মিজ ফরিদা খানম, জেলা প্রশাসক, ঢাকা।
​জরুরি স্বাস্থ্য বার্তা ও টিকাদানে জোর
​হাসপাতালের সার্বিক চিকিৎসা সেবা, শয্যা সংখ্যা ও জরুরি ব্যবস্থাপনা পরিদর্শন শেষে ডিসি ফরিদা খানম জানান, হামের সংক্রমণ প্রতিরোধে টিকাদান কার্যক্রমকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। শতভাগ শিশুকে নির্ধারিত সময়ে এমআর/হাম টিকা (MR Vaccine) নিশ্চিত করার জন্য তিনি অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান।তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা সহ্য করা হবে না। এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। হাসপাতালে রোগীর তুলনায় চিকিৎসক সংকট থাকলেও নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা আন্তরিকভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুনঃ  অটো-রিকশার দাপট ও তীব্র যানজট: হাইকোর্ট-শিক্ষা চত্বরে অতিষ্ঠ ঢাকাবাসী

 

​অসহায় পরিবারে ফিরলো স্বস্তি
​জেলা প্রশাসনের এই তাৎক্ষণিক ও মানবিক সহায়তায় নতুন করে বাঁচার আলো দেখছে দুটি পরিবার।
​প্রতিবন্ধী বাবা আসলাম বলেন: “আমি ভ্যান চালিয়ে সংসার চালাই। দিন শেষে যা আয় হয়, তা দিয়ে ঠিকমতো সংসারই চলে না। ছেলের চিকিৎসার খরচ চালাতে গিয়ে একেবারে অসহায় হয়ে পড়েছিলাম। এমন সময়ে ডিসি স্যার আমার বাচ্চার পাশে দাঁড়িয়েছেন। আল্লাহ যেন তাকে ভালো রাখেন। তামজিদের মা শাহিনুর বেগম আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন: “টাকার অভাবে বাচ্চার চিকিৎসা করাতে না পেরে বাড়ি নিয়ে যাবো ভাবছিলাম। কিন্তু জেলা প্রশাসক যেভাবে পাশে দাঁড়ালেন, তাতে আমার বাচ্চাটা হয়তো নতুন করে আলোর মুখ দেখবে।”ঢাকা জেলা প্রশাসন সবসময় অসহায় ও দুস্থ মানুষের পাশে রয়েছে এবং দরিদ্র পরিবারগুলো যেন চিকিৎসা সেবা পেতে কোনো সমস্যায় না পড়ে, তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রশাসক।

আরও পড়ুনঃ  চুনকুটিয়া চৌরাস্তায় ঢাকা জেলা প্রশাসকের বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

অনিয়মের অভিযোগে ফুলবাড়ী সমাজসেবা অফিস পরিদর্শনে এমপি ড. আতিক মুজাহিদ

প্রতিবন্ধী বাবার আইসিইউতে থাকা সেই শিশুর দায়িত্ব নিলেন ঢাকার জেলা প্রশাসক

আপডেটের সময়: ১২:৪১:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

কাজী আন্নিল তানভীর স্টাফ রিপোর্টার: ​টাকার অভাবে সাত মাস বয়সী শিশু তাজিমের আইসিইউতে (ICU) চিকিৎসা চালিয়ে নিতে হিমশিম খাচ্ছিলেন তার প্রতিবন্ধী বাবা আসলাম। অসহায় এই বাবার কষ্টের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তা দ্রুত নজরে আসে ঢাকার নবনিযুক্ত জেলা প্রশাসক (ডিসি) মিজ ফরিদা খানম–এর। খবর পেয়েই মানবিক উদ্যোগ নিয়ে শিশু তাজিমের চিকিৎসার সম্পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন তিনি।বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকালে রাজধানীর শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা পরিস্থিতি পরিদর্শন করতে যান জেলা প্রশাসক। সেখানে গিয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিশুটির চিকিৎসার জন্য নগদ ৫০ হাজার টাকা অর্থ সহায়তা প্রদান করেন এবং আগামীতেও তাজিমের চিকিৎসার যাবতীয় ব্যয় বহনের ঘোষণা দেন।

আরও পড়ুনঃ  গরুর গাড়ি নিয়ে হাটে টানাটানি করলে ইজারাদারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা: ডিএমপি কমিশনার

 

​একই সময়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নরসিংদী থেকে আসা তামজিদ নামে আইসিইউর আরেক শিশুর চিকিৎসায় অর্থ সহায়তা দেন এবং তারও চিকিৎসার দায়িত্ব নেন ডিসি।একটি শিশুও যেন চিকিৎসার অভাবে মারা না যায়, সেটি নিশ্চিত করতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। আমি ঢাকার জেলা প্রশাসক; তবে দিনশেষে আমি তো একজন মা-ও। প্রতিটি মায়ের আর্তনাদ আমাকে ব্যথিত করে। যেকোনো মূল্যে আমাদের সন্তানদের রক্ষা করতেই হবে।

 

— মিজ ফরিদা খানম, জেলা প্রশাসক, ঢাকা।
​জরুরি স্বাস্থ্য বার্তা ও টিকাদানে জোর
​হাসপাতালের সার্বিক চিকিৎসা সেবা, শয্যা সংখ্যা ও জরুরি ব্যবস্থাপনা পরিদর্শন শেষে ডিসি ফরিদা খানম জানান, হামের সংক্রমণ প্রতিরোধে টিকাদান কার্যক্রমকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। শতভাগ শিশুকে নির্ধারিত সময়ে এমআর/হাম টিকা (MR Vaccine) নিশ্চিত করার জন্য তিনি অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান।তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা সহ্য করা হবে না। এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। হাসপাতালে রোগীর তুলনায় চিকিৎসক সংকট থাকলেও নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা আন্তরিকভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুনঃ  স্বপ্নভঙ্গ এক তরুণ উদ্যোক্তার: রাজনৈতিক পরিচয়ের অভিযোগে ব্যবসা ধ্বংসের আর্তনাদ

 

​অসহায় পরিবারে ফিরলো স্বস্তি
​জেলা প্রশাসনের এই তাৎক্ষণিক ও মানবিক সহায়তায় নতুন করে বাঁচার আলো দেখছে দুটি পরিবার।
​প্রতিবন্ধী বাবা আসলাম বলেন: “আমি ভ্যান চালিয়ে সংসার চালাই। দিন শেষে যা আয় হয়, তা দিয়ে ঠিকমতো সংসারই চলে না। ছেলের চিকিৎসার খরচ চালাতে গিয়ে একেবারে অসহায় হয়ে পড়েছিলাম। এমন সময়ে ডিসি স্যার আমার বাচ্চার পাশে দাঁড়িয়েছেন। আল্লাহ যেন তাকে ভালো রাখেন। তামজিদের মা শাহিনুর বেগম আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন: “টাকার অভাবে বাচ্চার চিকিৎসা করাতে না পেরে বাড়ি নিয়ে যাবো ভাবছিলাম। কিন্তু জেলা প্রশাসক যেভাবে পাশে দাঁড়ালেন, তাতে আমার বাচ্চাটা হয়তো নতুন করে আলোর মুখ দেখবে।”ঢাকা জেলা প্রশাসন সবসময় অসহায় ও দুস্থ মানুষের পাশে রয়েছে এবং দরিদ্র পরিবারগুলো যেন চিকিৎসা সেবা পেতে কোনো সমস্যায় না পড়ে, তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রশাসক।

আরও পড়ুনঃ  অটো-রিকশার দাপট ও তীব্র যানজট: হাইকোর্ট-শিক্ষা চত্বরে অতিষ্ঠ ঢাকাবাসী