
নিজস্ব প্রতিবেদক: বরগুনা জেলার বেতাগী থানার ১৩ নং গ্রেদলক্ষীপুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের স্কুল ইউনিফর্ম তৈরিতে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, সরকারি নিয়মনীতি লঙ্ঘন করে প্রাইভেট বাণিজ্য এবং নৈতিক স্খলনসহ নানা ধরনের দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী অভিভাবকরা ও স্থানীয় জনগণ এই বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের ইউনিফর্ম বানিয়ে দেওয়ার নাম করে প্রধান শিক্ষক প্রতি ছাত্রের কাছ থেকে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং ছাত্রীদের কাছ থেকে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত হাতিয়ে নিয়েছেন। উদাহরণস্বরূপ, শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী একজনের ইউনিফর্ম তৈরিতে প্রকৃত খরচ হয়েছে ৮৭০ টাকা, অথচ প্রধান শিক্ষক অভিভাবকের কাছ থেকে জোরপূর্বক ১২৩০ টাকা আদায় করেছেন। টেইলার্সের মজুরি ৫০০ টাকার স্থলে ৬৫০ টাকা, ১০ টাকার স্কুল ব্যাচ ৩০ টাকা, ৬০ টাকার টাই ১০০ টাকা এবং কাপড়ের গজপ্রতি মূল্যে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রায় ১২০ জন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে এভাবে আনুমানিক ৩৬,০০০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। প্রমাণ হিসেবে প্রধান শিক্ষক ও দর্জির কথোপকথনের অডিও রেকর্ড রয়েছে বলে জানা গেছে।
সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ২০২৫ সালে ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ১০০০ টাকা নিয়ে বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে (সকাল ৯:০০ টা থেকে ১১:৩০ টা পর্যন্ত) প্রাইভেট পড়ানোর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এই অবৈধ কার্যক্রমকে আড়াল করতে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একে “নিরাময় ক্লাস” বলে প্রচার করতেন। নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থীর অভিভাবক সরাসরি এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন। দরিদ্র ও শ্রমজীবী অভিভাবকরা জানান, এই অতিরিক্ত অর্থ প্রদান তাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর ছিল। এছাড়া উক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারি ও নৈতিক স্খলনেরও অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসী এবং অভিভাবক মহল বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। এ সংশ্লিষ্ট সকল বক্তব্যের অডিও ফোন রেকর্ডসহ তথ্য উপাত্ত সংগৃহীত রয়েছে প্রতিবেদকের হাতে। অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান সকল বিষয় অস্বীকার করলেও এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে জানতে চেয়েছে প্রতিবেদক।
প্রতিবেদকের নাম 


















