
সৈয়দ মিয়া (ব্যুরো চিফ চট্টগ্রাম )
দীর্ঘদিন ভাত ও রুটি খাওয়া না হলে শরীরের যেসব প্রভাব পড়ে। প্রচলিত আছে ‘মাছে-ভাতে বাঙালি।’ বাঙালিরা বিশ্বের যে প্রান্তেই থাকুক না কেন, তাদের ভাত ছাড়া হয় না। কেউ কেউ আবার রুটিও ভীষণ পছন্দ করেন। ফলে ভাত কিংবা রুটি ছাড়া অন্য কিছু ভাবতেই পারেন না কেউ কেউ। এ ধরনের মানুষ ক্ষুধার মুহূর্তে ভাত-রুটিকে বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকেন।
এদিকে বর্তমান সময় কম-কার্বোহাইড্রেট ডায়েট এবং ফিটনেস ট্রেন্ডের কারণে অনেকেই অবশ্য ভালো এনার্জি, দ্রুত ওজন কমানো বা হজমশক্তি উন্নত করতে ভাত ও রুটি খাওয়া ছেড়ে দিচ্ছেন। কারও মতে, শারীরিক ফিটনেসের জন্য ভাত-রুটি বাদ দেয়া শরীরের জন্য উপকারী। আবার কেউ ভাত-রুটি খাওয়ার পক্ষে যুক্তি দেখান। কিন্তু এটি কি সত্যিই উপকারী, নাকি কেবলই একটি ধারণা। তাহলে টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী জেনে নেয়া যাক, ৩০ দিন ভাত-রুটি না খেলে কী ঘটবে শরীরে।
শরীর যদি নিয়মিত কার্বোহাইড্রেটের জোগান না পায়, তাহলে শক্তির জন্য বিকল্প উৎসের খোঁজ করা শুরু করবে। আর এর প্রধান উৎস হচ্ছে চর্বি। প্রক্রিয়াটিকে বলা হয় ‘কিটোসিস’ এবং এটিই অধিকাংশ কম-কার্ব ডায়েটের মূল ভিত্তি। শুরুতে কিছুটা ক্লান্ত বা অলস বোধ হবে, তবে ক’দিনের মধ্যে আগের থেকে বেশি স্থিতিশীল শক্তি এবং খাওয়ার পর আসা ঝিমুনি ভাব কমতে পারে।
দ্রুত স্বাস্থ্য কমা:
প্রথম সপ্তাহের মধ্যে কয়েক কেজি ওজন কমে যেতে পারে। এই ওজন কমার অধিকাংশই মূলত পানির ওজন। কেননা, কার্বোহাইড্রেট শরীরে পানি ধরে রাখে। এরপরও এটি মানসিকভাবে উৎসাহ-উদ্দীপনা জোগায় এবং ডায়েট করতে অনুপ্রাণিত করে।
রক্তে শর্করার মাত্রার উন্নতি:
যারা ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বা প্রি-ডায়াবেটিসের সমস্যায় রয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে উচ্চ জিআই সমৃদ্ধ খাবার যেমন- সাদা ভাত বা রিফাইন করা আটা-ময়দা খাওয়া কমানো রক্তে শর্করা বা ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভূমিকা পালন করতে পারে। ভাত-রুটির পরিবর্তে ওটস, বার্লি বা বাজরার মতো কম জিআই যুক্ত শস্য রাখতে পারেন খাদ্যতালিকায়।
হজম প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন:
নিয়মিত ভাত বা রুটি খাওয়া না হলে, অর্থাৎ- ভারী এবং কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া না হলে শরীর খুব হালকা বোধ করে এবং পেটে গ্যাসের সমস্যা বা পেট ফাঁপা কমে। আবার একটি সমস্যাও রয়েছে, ভাত ও রুটির পরিবর্তে শাক-সবজি বা বীজের মতো ফাইবার বা আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া না হলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যাও হতে পারে। এ জন্য খাবারের ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে।
তীব্র ক্ষুধা ও খাবারের প্রতি অনীহা:
ভাত ও রুটি হচ্ছে বাঙালির এক ধরনের তৃপ্তিদায়ক খাবার। এসব ছাড়া মস্তিষ্ক হয়তো পরিচিত সেই কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ তৃপ্তির খোঁজ করা শুরু করবে। বিশেষ করে মানসিক চাপের সময় বা শীতের সন্ধ্যায় খাবারগুলোর প্রতি বেশি টান অনুভব হবে। এ ক্ষেত্রে মিষ্টি আলু, ডালিয়া বা ফলের মতো স্বাস্থ্যকর কার্বোহাইড্রেট খাবার বেছে নিতে পারেন।
পুষ্টির ঘাটতি হওয়ার সম্ভাবনা:
ভাত ও রুটি, উভয়ই শরীরে ভিটামিন বি, আয়রন ও ম্যাগনেসিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টস বা পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করে থাকে। এ জন্য খাদ্যতালিকা থেকে ভাত-রুটি বাদ দেয়া হলে শরীর একাধিক পুষ্টি উপাদান থেকে বঞ্চিত হবে।
প্রতিবেদকের নাম 

























