
এহসানুল আসিফ মাসুম, লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি: অন্যের মুখে হাসি ফোটানোই যেন ১২ বছর বয়সী শিশু রাহাত হোসেনের আনন্দ।নোয়াখালীর আঞ্চলিক ভাষায় মজার মজার ভিডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিতি পেয়েছে ছোট্ট এই কনটেন্ট ক্রিয়েটর। তার ভিডিও দেখে হাসেন অনেকে।কিন্তু সেই হাসির আড়ালেই লুকিয়ে রয়েছে এক শিশুর কঠিন জীবনসংগ্রাম।
জন্মের পর থেকেই থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত রাহাতকে প্রতিনিয়ত লড়তে হচ্ছে অসুস্থতার সঙ্গে। নিয়মিত চিকিৎসা ও রক্ত সঞ্চালনের প্রয়োজনীয়তা মেটাতে গিয়ে আর্থিক সংকটে পড়েছে তার দিনমজুর বাবা ও পরিবার।রাহাতের এই সংগ্রামী জীবনের গল্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসকের দৃষ্টিগোচর হয়।বিষয়টি নজরে আসার পর ৩ নভেম্বর মঙ্গলবার তাকে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আমন্ত্রণ জানানো হয়।
সেখানে তার পড়ালেখা ও চিকিৎসার সহায়তায় আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়।শুধু আর্থিক সহায়তা দিয়েই নয়, রাহাতের চিকিৎসা ও ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখতে সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে সরকার প্রদত্ত বিভিন্ন অনুদান ও সহায়তা পেতে কীভাবে আবেদন করতে হবে, সে বিষয়ে রাহাত ও তার পরিবারকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সমাজের মেধাবী ও সংগ্রামী শিশুদের পাশাপাশি সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে জেলা প্রশাসন সবসময় রয়েছে।একদিকে অসুস্থতার সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই, অন্যদিকে নিজের প্রতিভা দিয়ে মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা—এভাবেই এগিয়ে চলেছে ছোট্ট রাহাত।তার এই জীবনসংগ্রামে জেলা প্রশাসনের মানবিক সহায়তা পরিবারটির জন্য কিছুটা স্বস্তি ও নতুন আশার আলো হয়ে এসেছে।
প্রতিবেদকের নাম 


















