
মোঃ কামাল হোসেন: স্টাফ রিপোর্টার
রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় জমি নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জেরে বড় ভাই কামাল ও তার স্ত্রী রুমিয়াকে মারধরের ঘটনায় গুরুতর আহত ভাবি রুমিয়ার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ছোট ভাইয়ের পরিবারের দু সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর রমনা থানাধীন আদ্-দ্বীন হাসপাতালের সামনে থেকে তাদের আটক করা হয়। পরে শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আনোয়ার হোসেনের তত্ত্বাবধানে এসআই জামাল উদ্দিন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করেন। এর আগে গত মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে উপজেলার কিশোরপুর কামারপাড়া এলাকায় জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাড়ির জমিজমা নিয়ে দুই ভাইয়ের পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে একাধিকবার সালিশ-বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি। এরই ধারাবাহিকতায় ঘটনার দিন সকালে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ছোট ভাই রেন্টু (৫২), তার ছেলে বিদ্যুৎ (২৮), বিউটি বেগম ও শাবানার বিরুদ্ধে বড় ভাই কামাল ও তাঁর স্ত্রী রুমিয়াকে এলোপাতাড়ি মারধরের অভিযোগ ওঠে। এতে রুমিয়া গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরবর্তী সময়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় (২৬ অক্টোবর) বিকালে তার মৃত্যু হয়। ঘটনার দিন বিউটি বেগম কে আটক করে পুলিশ।
রুমিয়ার মৃত্যুর পর বাঘা থানার ওসি সেরাজুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং নিহতের পরিবারকে এ ঘটনায় জড়িতদের ৭২ ঘন্টার মধ্যে আটকের প্রতিশ্রুতি দেন। পরবর্তীতে (৩০ অক্টোবর) রাতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আনোয়ার হোসেন এর নেতৃত্বে এসআই জামাল উদ্দিন সহ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে রাজধানীর রমনা থানাধীন আদ্-দ্বীন হাসপাতালের সামনে থেকে রেন্টু ও বিদ্যুৎ নামের দুই জনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়। এছাড়াও রুমিয়া বেগমের মৃত্যুর পর আদালতকে অবহিতকরন পত্র দাখিল করেন এসআই আনোয়ার।
এ বিষয়ে বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সেরাজুল হক বলেন, ঘটনার পর থেকেই বাঘা থানা পুলিশ অক্লান্ত পরিশ্রম করে ঢাকার রমনা থানাধীন রুমিয়া হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ২ জন আসামীকে আটক করতে সক্ষম হয় । শনিবার সকালে তাদের বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের স্বজনেরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
প্রতিবেদকের নাম 








