Dhaka ০৫:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সরইয়ের বালু ঘিরে প্রভাবশালীদের আধিপত্য, প্রশ্নবিদ্ধ তদারকি মৌলভীবাজারের রাজনগরে সাজাপ্রাপ্ত দুই আসামিসহ ৭ জন গ্রেফতার বগুড়ায় উন্নয়নের নতুন পরিকল্পনা তুলে ধরলেন প্রতিমন্ত্রী: মীর শাহে আলম হোসেনপুরে বিজ্ঞান মেলায় চ্যাম্পিয়ন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, প্রথম স্থান অর্জন। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিক নিরাপত্তা, জ্ঞানচর্চার উপযুক্ত পরিবেশ দিতে পারলে নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব: এমপি মিলন মাদকবিরোধী অভিযানে বিরামপুরে তিন কারবারি আটক বান্দরবানের রোয়াংছড়িতে পিআইও মিল্টন দস্তিদারের বিরুদ্ধে কোটি টাকার সরকারি বরাদ্দ আত্মসাতের অভিযোগ ভোলা হলি চাইল্ড একাডেমির বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত বাউফলে শিক্ষার্থীদের স্টার্টআপ ও ইনোভেশন আইডিয়া শেয়ারিং সেমিনার অনুষ্ঠিত জামালপুরের সরিষাবাড়িতে, দৈনিক আজকের জনবাণীর নতুন যাত্রা.

স্বস্তির বৃষ্টিতে ভিজল কেরানীগঞ্জ: জনজীবনে প্রশান্তি, জনপদে স্বস্তি

স্টাফ রিপোর্টার: তপ্ত রোদে পুড়ছিল তামাটে আকাশ, আর ভ্যাপসা গরমে ওষ্ঠাগত ছিল প্রাণ। অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আকাশ ভেঙে নামল কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি। আজ বিকেলে কেরানীগঞ্জের আকাশ কালো মেঘে ঢেকে যাওয়ার পর শুরু হয় ঝুম বৃষ্টি। ধূসর ধুলিকণা মাখা জনপদে এই বৃষ্টি যেন আশীর্বাদ হয়ে ধরা দিয়েছে, যা কেরানীগঞ্জবাসীকে দিয়েছে দীর্ঘশ্বাস ফেলার সুযোগ এবং এক চিলতে প্রশান্তি।

​গত কয়েকদিন ধরে কেরানীগঞ্জের তাপমাত্রা ছিল অসহনীয়। বিশেষ করে চুনকুটিয়া, কদমতলী, জিনজিরা এবং রুহিতপুরের মতো জনবহুল এলাকাগুলোতে গরমে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছিল। আজ দুপুরের পর থেকেই আকাশের মেজাজ বদলাতে শুরু করে। এরপর শুরু হয় কাঙ্ক্ষিত সেই রিমঝিম শব্দ। বৃষ্টির পরশ পেয়ে মুহূর্তেই পাল্টে যায় দৃশ্যপট। তপ্ত পিচঢালা পথ থেকে ওঠা গরম ভাপ নিমিষেই উধাও হয়ে এক শীতল হাওয়া বইতে শুরু করে।

​বৃষ্টি নামার সাথে সাথেই ঘরের কোণে বন্দি থাকা মানুষগুলো স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন। কাউকে কাউকে দেখা গেছে ছাদে বা খোলা জায়গায় দাঁড়িয়ে বৃষ্টির ঝাপটা গায়ে মেখে নিতে। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের আনন্দ ছিল বাঁধভাঙ্গা। জিনজিরা এলাকার এক বাসিন্দা হাসিমুখে বলেন, “ভাই, গরমে জানটা কয়লা হয়ে যাচ্ছিল। এই বৃষ্টি যেন আল্লাহর রহমত হয়ে নামল। এখন শান্তিতে একটু ঘুমানো যাবে।”

​এই বৃষ্টি কেবল সাধারণ মানুষের জন্যই নয়, বরং স্থানীয় কৃষকদের জন্যও বয়ে এনেছে সুখবর। খরাপ্রবণ ক্ষেতগুলো বৃষ্টির পানি পেয়ে সতেজ হয়ে উঠেছে। কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই বৃষ্টি ফসলের জন্য সঞ্জীবনীর মতো কাজ করবে।

দীর্ঘ দাবদাহের পর কেরানীগঞ্জে এক পশলা বৃষ্টি জনজীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে। ধুলোবালি কমে পরিবেশ হয়েছে নির্মল, আর মানুষের মনে ফিরেছে প্রশান্তি। প্রকৃতির এই শীতল উপহারে কেরানীগঞ্জবাসী এখন কেবলই বৃষ্টির ছন্দে মেতে আছে।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

সরইয়ের বালু ঘিরে প্রভাবশালীদের আধিপত্য, প্রশ্নবিদ্ধ তদারকি

স্বস্তির বৃষ্টিতে ভিজল কেরানীগঞ্জ: জনজীবনে প্রশান্তি, জনপদে স্বস্তি

আপডেটের সময়: ০৫:৫৮:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার: তপ্ত রোদে পুড়ছিল তামাটে আকাশ, আর ভ্যাপসা গরমে ওষ্ঠাগত ছিল প্রাণ। অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আকাশ ভেঙে নামল কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি। আজ বিকেলে কেরানীগঞ্জের আকাশ কালো মেঘে ঢেকে যাওয়ার পর শুরু হয় ঝুম বৃষ্টি। ধূসর ধুলিকণা মাখা জনপদে এই বৃষ্টি যেন আশীর্বাদ হয়ে ধরা দিয়েছে, যা কেরানীগঞ্জবাসীকে দিয়েছে দীর্ঘশ্বাস ফেলার সুযোগ এবং এক চিলতে প্রশান্তি।

​গত কয়েকদিন ধরে কেরানীগঞ্জের তাপমাত্রা ছিল অসহনীয়। বিশেষ করে চুনকুটিয়া, কদমতলী, জিনজিরা এবং রুহিতপুরের মতো জনবহুল এলাকাগুলোতে গরমে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছিল। আজ দুপুরের পর থেকেই আকাশের মেজাজ বদলাতে শুরু করে। এরপর শুরু হয় কাঙ্ক্ষিত সেই রিমঝিম শব্দ। বৃষ্টির পরশ পেয়ে মুহূর্তেই পাল্টে যায় দৃশ্যপট। তপ্ত পিচঢালা পথ থেকে ওঠা গরম ভাপ নিমিষেই উধাও হয়ে এক শীতল হাওয়া বইতে শুরু করে।

​বৃষ্টি নামার সাথে সাথেই ঘরের কোণে বন্দি থাকা মানুষগুলো স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন। কাউকে কাউকে দেখা গেছে ছাদে বা খোলা জায়গায় দাঁড়িয়ে বৃষ্টির ঝাপটা গায়ে মেখে নিতে। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের আনন্দ ছিল বাঁধভাঙ্গা। জিনজিরা এলাকার এক বাসিন্দা হাসিমুখে বলেন, “ভাই, গরমে জানটা কয়লা হয়ে যাচ্ছিল। এই বৃষ্টি যেন আল্লাহর রহমত হয়ে নামল। এখন শান্তিতে একটু ঘুমানো যাবে।”

​এই বৃষ্টি কেবল সাধারণ মানুষের জন্যই নয়, বরং স্থানীয় কৃষকদের জন্যও বয়ে এনেছে সুখবর। খরাপ্রবণ ক্ষেতগুলো বৃষ্টির পানি পেয়ে সতেজ হয়ে উঠেছে। কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই বৃষ্টি ফসলের জন্য সঞ্জীবনীর মতো কাজ করবে।

দীর্ঘ দাবদাহের পর কেরানীগঞ্জে এক পশলা বৃষ্টি জনজীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে। ধুলোবালি কমে পরিবেশ হয়েছে নির্মল, আর মানুষের মনে ফিরেছে প্রশান্তি। প্রকৃতির এই শীতল উপহারে কেরানীগঞ্জবাসী এখন কেবলই বৃষ্টির ছন্দে মেতে আছে।