Dhaka ১২:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
ধুনটে পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন ও আর্থিক সহায়তা দিল ইউনিয়ন বিএনপি বান্দরবানে সাড়ে ৩ একর জমি জবরদখলের চেষ্টা ও ঘুষ দাবির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন উলিপুরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে বাচ্চু মিয়া হত্যার অভিযোগ অভিযুক্ত গ্রেফতার লালপুরে বসতবাড়ি থেকে ১৬ ফুট উচ্চতার গাঁজাগাছ উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১ পদ্মা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় প্রজাতির মাছ লুটেরা ও চাঁদাবাজদের জন্য জুলাইয়ে রক্ত দেয়নি ছাত্র-জনতা: ডা. শফিকুর রহমান ভাঙ্গুড়ায় বনলতা এক্সপ্রেসের ধাক্কায় প্রাণ গেল ১৩ বছরের সামিউলের ফরিদগঞ্জে কালবেলার ৪র্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন মায়ের স্মৃতি আর শিকড়ের টানে কমলনগরে জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ কুতুবদিয়ার উত্তর কৈয়ারবিলে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ১৫ পরিবারকে জামায়াতের নগদ অর্থ সহায়তা

বিলুপ্তির পথে নিপুণ কারিগর বাবুই পাখি

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৭:৫২:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৮৭৯ সময় দেখুন

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি: বাবুই পাখিরে ডাকি বলিছে চড়াই, কুঁড়ে ঘরে থেকে কর শিল্পের বড়াই” কবি রজনীকান্ত সেনের সেই অমর কবিতার নায়ক, আবহমান গ্রাম বাংলার বাসা তৈরির নিপুণ কারিগর বাবুই পাখি আজ তার অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে পর্যুদস্ত। তাল গাছের সংকট, নির্বিচারে গাছ নিধন এবং প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে চিরচেনা এই শৈল্পিক পাখিটি আজ বিলুপ্তির পথে। ফলে গ্রামবাংলার জনপদে এখন আর আগের মতো শোনা যায় না বাবুই পাখির কিচিরমিচির শব্দ।

মাত্র এক দশক আগেও চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার গ্রামীণ মেঠো পথ কিংবা বাড়ির আঙিনায় তাল গাছে দেখা যেত শত শত বাবুই পাখির শৈল্পিক বাসা। শৈশবে যারা এই দৃশ্য দেখে বড় হয়েছেন, তাদের কাছে এটি এক নস্টালজিয়া। তবে বর্তমান প্রজন্মের কাছে বাবুই পাখি যেন কেবল বইয়ের পাতার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। মেঠোপথ ধরে মাইলের পর মাইল হাঁটলেও এখন আর সেই নিপুণ বুননের বাসা চোখে পড়ে না। স্থানীয় অভিজ্ঞ মহল ও পরিবেশবাদীদের মতে, বেশ কিছু কারণে এই পাখি আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। এর মধ্যে প্রধান কারণগুলো হলো:
১. নির্বিচারে তালগাছ নিধন ও পাখির বসবাসের উপযোগী পরিবেশ নষ্ট হওয়া।
২. ফসলি জমিতে মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক প্রয়োগের ফলে খাদ্যাভাব ও বিষক্রিয়া।
৩. শিকারিদের দৌরাত্ম্য।
৪. জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব।

আরও পড়ুনঃ  বিলুপ্তির পথে ঈশ্বরদীর ঐতিহ্যবাহী কাঠের চাকা শিল্প

বাবুই পাখির বাসা তৈরির প্রক্রিয়া অত্যন্ত চমকপ্রদ। একটি পুরুষ বাবুই মৌসুমে সর্বোচ্চ ৬টি বাসা তৈরি করতে পারে। খড়, ঝাউ, তালপাতা ও লতাপাতা দিয়ে তারা এই দৃষ্টিনন্দন বাসা বোনে। স্ত্রী পাখির সম্মতি পেলে ৪-৫ দিনে বাসা সম্পন্ন হয়। বাসার গঠনও বেশ কৌশলী; এতে যাতায়াত ও ডিম রাখার জন্য আলাদা প্রকোষ্ঠ থাকে। লোককাহিনি ও পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, রাতে ঘর আলোকিত রাখতে বাবুই পাখি জোনাকি পোকা ধরে এনে বাসায় রাখে। বিশ্বে ১১৭ প্রজাতির বাবুই থাকলেও বাংলাদেশে দেশি, দাগি এবং বাংলা—এই তিন প্রজাতির দেখা মিলত। যার মধ্যে দাগি ও বাংলা বাবুই এখন প্রায় বিলুপ্ত।

আরও পড়ুনঃ  পদ্মা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় প্রজাতির মাছ

স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করেন, গ্রামবাংলার এই ঐতিহ্যবাহী নিশানটি টিকিয়ে রাখতে দ্রুত সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন। তারা তালগাছ রোপণ বাড়ানো এবং পাখি শিকারিদের কঠোর আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল-আমীন বলেন, “সচেতনতা ছাড়া বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ করা অসম্ভব। আমাদের প্রত্যেকের উচিত নিজ নিজ অবস্থান থেকে পাখির বসবাস উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি করা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করা। প্রকৃতির এই ক্ষুদ্র প্রকৌশলীকে রক্ষা করতে না পারলে আগামী প্রজন্ম কেবল ছবির মাধ্যমেই জানবে—কে ছিল সেই শিল্পের বড়াই’ করা বাবুই পাখি।

আরও পড়ুনঃ  পদ্মা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় প্রজাতির মাছ
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

ধুনটে পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন ও আর্থিক সহায়তা দিল ইউনিয়ন বিএনপি

বিলুপ্তির পথে নিপুণ কারিগর বাবুই পাখি

আপডেটের সময়: ০৭:৫২:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি: বাবুই পাখিরে ডাকি বলিছে চড়াই, কুঁড়ে ঘরে থেকে কর শিল্পের বড়াই” কবি রজনীকান্ত সেনের সেই অমর কবিতার নায়ক, আবহমান গ্রাম বাংলার বাসা তৈরির নিপুণ কারিগর বাবুই পাখি আজ তার অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে পর্যুদস্ত। তাল গাছের সংকট, নির্বিচারে গাছ নিধন এবং প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে চিরচেনা এই শৈল্পিক পাখিটি আজ বিলুপ্তির পথে। ফলে গ্রামবাংলার জনপদে এখন আর আগের মতো শোনা যায় না বাবুই পাখির কিচিরমিচির শব্দ।

মাত্র এক দশক আগেও চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার গ্রামীণ মেঠো পথ কিংবা বাড়ির আঙিনায় তাল গাছে দেখা যেত শত শত বাবুই পাখির শৈল্পিক বাসা। শৈশবে যারা এই দৃশ্য দেখে বড় হয়েছেন, তাদের কাছে এটি এক নস্টালজিয়া। তবে বর্তমান প্রজন্মের কাছে বাবুই পাখি যেন কেবল বইয়ের পাতার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। মেঠোপথ ধরে মাইলের পর মাইল হাঁটলেও এখন আর সেই নিপুণ বুননের বাসা চোখে পড়ে না। স্থানীয় অভিজ্ঞ মহল ও পরিবেশবাদীদের মতে, বেশ কিছু কারণে এই পাখি আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। এর মধ্যে প্রধান কারণগুলো হলো:
১. নির্বিচারে তালগাছ নিধন ও পাখির বসবাসের উপযোগী পরিবেশ নষ্ট হওয়া।
২. ফসলি জমিতে মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক প্রয়োগের ফলে খাদ্যাভাব ও বিষক্রিয়া।
৩. শিকারিদের দৌরাত্ম্য।
৪. জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব।

আরও পড়ুনঃ  পদ্মা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় প্রজাতির মাছ

বাবুই পাখির বাসা তৈরির প্রক্রিয়া অত্যন্ত চমকপ্রদ। একটি পুরুষ বাবুই মৌসুমে সর্বোচ্চ ৬টি বাসা তৈরি করতে পারে। খড়, ঝাউ, তালপাতা ও লতাপাতা দিয়ে তারা এই দৃষ্টিনন্দন বাসা বোনে। স্ত্রী পাখির সম্মতি পেলে ৪-৫ দিনে বাসা সম্পন্ন হয়। বাসার গঠনও বেশ কৌশলী; এতে যাতায়াত ও ডিম রাখার জন্য আলাদা প্রকোষ্ঠ থাকে। লোককাহিনি ও পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, রাতে ঘর আলোকিত রাখতে বাবুই পাখি জোনাকি পোকা ধরে এনে বাসায় রাখে। বিশ্বে ১১৭ প্রজাতির বাবুই থাকলেও বাংলাদেশে দেশি, দাগি এবং বাংলা—এই তিন প্রজাতির দেখা মিলত। যার মধ্যে দাগি ও বাংলা বাবুই এখন প্রায় বিলুপ্ত।

আরও পড়ুনঃ  বিলুপ্তির পথে ঈশ্বরদীর ঐতিহ্যবাহী কাঠের চাকা শিল্প

স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করেন, গ্রামবাংলার এই ঐতিহ্যবাহী নিশানটি টিকিয়ে রাখতে দ্রুত সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন। তারা তালগাছ রোপণ বাড়ানো এবং পাখি শিকারিদের কঠোর আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল-আমীন বলেন, “সচেতনতা ছাড়া বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ করা অসম্ভব। আমাদের প্রত্যেকের উচিত নিজ নিজ অবস্থান থেকে পাখির বসবাস উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি করা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করা। প্রকৃতির এই ক্ষুদ্র প্রকৌশলীকে রক্ষা করতে না পারলে আগামী প্রজন্ম কেবল ছবির মাধ্যমেই জানবে—কে ছিল সেই শিল্পের বড়াই’ করা বাবুই পাখি।

আরও পড়ুনঃ  পদ্মা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় প্রজাতির মাছ