Dhaka ০৪:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
ভাঙ্গুড়ায় অবৈধভাবে সার মজুদের অভিযোগ, গোডাউনের সামনে ছাত্রদলের বিক্ষোভ ও অনশন ফরিদগঞ্জে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা পেয়েছে ৩ শতাধিক নারী- পুরুষ কাশিমপুরে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণে বাধা, ২৪ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ নগরকান্দায় পূজা মণ্ডপে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের সচেতনতামূলক সভা সিলেট সীমান্তে ২২ লাখ টাকার চোরাচালান জব্দ মেহেন্দিগঞ্জের ধুলিয়ার মধ্যচরে মাদকবিরোধী উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত কারাবন্দি বিএনপি নেতার পরিবারের পাশে রাসিক প্রশাসক বিজয়া দশমী: অশ্রুসিক্ত ভালোবাসায় বুড়িগঙ্গায় প্রতিমা বিসর্জন শহীদ ওসমান বিন হাদীকে হত্যার পর দেশি-বিদেশী চক্র এটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করে যাচ্ছে: জাবের জয়পুরহাটের কালাই থানায় ঢুকে তিন পুলিশ সদস্যকে পোটানোর অভিযোগ,গ্রোপ্তার এক যুবক….

সুন্দরবনে বাঘের চেয়েও বনদস্যুর ভয় বেশি

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সুন্দরবন আমরা ১২ জন এট্টা নৌকাতে মধু কাটতি যাচ্ছিলাম বনের মধ্যি। সাতক্ষীরা রেঞ্জের তক্তাখালির দিকি ঢুকতিই রহমত বাহিনীর দলের চ্যালা-ব্যালা আমারগা তুলে নেয়। অস্ত্রপাতি নে আমারগা জিম্মি করে রাখে। আমারগা কাছ এক লাক টাকা নেয়, তারপরে তাই আমারগা ছ্যাড়ে দেয়। টাকাদে যে আবার জঙ্গলে যাব, তারও কোনো গতিক নাই। সেরকম আর সাহসও নাই।কারণ আবার আরেক দল যদি আক্রমণ করে, তালি কী করব? আর বনে গেলি আবার ধরবে। তাই এবার এখনো মধু কাটতি যাইনি। আর এট্টা কোতা কি স্যার, আমারা যতদূর নাহ বাঘের ভয় পাই, তারচেয়ে বেশি এই বনদস্যুরগা ভয় পাই! সুন্দরবনের রহমত বাহিনীকে মুক্তিপণ দিয়ে মুক্তি পাওয়া সাতক্ষীরার শ্যামনগরের হরিনগরের বাসিন্দা আলামিন (ছদ্মনাম) এসব কথা বলেন। চলতি মে মাসের ১৪ তারিখ তিনি মুক্তি পান। তিনি আরও বলেন, আমরা জীবনের মায়া না করে এই জঙ্গলের মধ্যে থেকে মধু কেটে সংসার চালাই। সে পথও এখন বন্ধ। এলাকায় তেমন কোনো কাজও নেই। তাই খেয়ে না খেয়ে দিন যাচ্ছে! একই গ্রামের বাসিন্দা রফিক (ছদ্মনাম) বলেন, ভোটের এক সপ্তাহ আগে চারজন মিলে নৌকায় মাছ ধরতে গিয়েছিলাম সুন্দরবনে। পথে মাইটে ভাঙা এলাকায় ডন বাহিনী আমাদের তুলে নিয়ে যায়। ৪৭ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিয়েছি। তারপরও আমাকে ছাড়েনি। প্রথম দুই-তিন দিন ঠিকঠাক খাবারও দেয়নি। তাদের সব কাজকাম আমার মাধ্যমে করিয়েছে। এখন বনের মধ্যে যেতেই ভয় হয়। বন বিভাগের অনুমতি নিয়ে বনের মধ্যে মাছ-মধু সংগ্রহ করতে গেলেই জনপ্রতি ৫০ হাজার টাকা চাঁদা চায়। যা দেওয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব না।

 

২১ মে সুন্দরবনের কুখ্যাত বনদস্যু রহমত বাহিনীর হাত থেকে মুক্ত হওয়া শ্যামনগরের মুন্সীগঞ্জ এলাকার একজন মৌয়াল জানান, তিন দিন আগে তাদের সুন্দরবনের ফিরিঙ্গি নদীর মোল্লাখালি এলাকা থেকে রহমত বাহিনীর সদস্যরা অস্ত্রের মুখে নৌকা থেকে তুলে নিয়ে যায়। যদিও এই বাহিনীর সদস্যদের চাঁদা দিয়ে বনের মধ্যে মধু সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন ২৫/৩০ জন মৌয়াল। কিন্তু বনের মধ্যে যাওয়ার পর একই বাহিনীর আরেকটি দলও চাঁদার দাবিতে তুলে নিয়ে মারধর করে। পরে তাদেরও টাকা দিয়ে মুক্ত হতে হয়। খুলনার পাইকগাছার গড়ইখালী এলাকার এক জেলে বলেন, আমরা টাকা দিয়েও নিরাপত্তার মধ্যে নাই। আজকে এক গ্রুপকে টাকা দিচ্ছি, আগামীকাল আরেকটা নতুন গ্রুপ আসছে। বড় জাহাঙ্গীর বাহিনী, মামা-ভাগ্নে বাহিনী, করিম-শরীফ বাহিনী, দুলাভাই বাহিনী এদের কাছে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র আছে। একে-৪৭ আছে। হড্ডা, আদাচাকি, নিশানখালি এলাকায় এরা ওৎ পেতে থাকে। তিনি আরও বলেন, এবার মধু সংগ্রহ করতে পারিনি। । প্লিজ আমাদের নাম প্রকাশ করবেন না। কারণ আমাদের তো দস্যুদের মধ্যেই থাকতে হয়। নাম প্রকাশ করলে আমাদের মেরে ফেলবে। ২০ হাজার ৫০০ টাকা দিলে মুক্তি পাওয়া যায়। কিছুদিন আগে মাছ ধরতে গিয়েছিলাম, হড্ডা এলাকা থেকে আমাকে তুলে নিয়ে যায়। ১০ হাজার ২০০ টাকা দিয়ে ফিরে এসেছি। সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল আমার মতো প্রায় সবাই বেকার হয়ে আছি। সংসার চালাতে পারছি না।

দস্যুদের দিতে হয় অগ্রিম চাঁদা
সুন্দরবনের নদী-খাল থেকে মাছ, চিংড়ি, কাঁকড়া এবং বন থেকে মধু, মোম, গোলপাতা ও জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করেন কয়েক লাখ মানুষ। ২০১৮ সালের শেষের দিকে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত’ ঘোষণা করেছিল। এরপর দীর্ঘদিন বনে একধরনের শান্তি বজায় ছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে সুন্দরবন আবারও দস্যুদের নিরাপদ আস্তানায় পরিণত হয়েছে। তাদের অগ্রিম চাঁদা না দিয়ে বনে ঢুকলে বনজীবীদের জিম্মি করে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ আদায় করা হয়। চাঁদা আদায়ের জন্য আটক বনজীবীদের ওপর সীমাহীন নির্যাতন চালানো হয়। গত ১৯ মে গভীর রাতে পূর্ব সুন্দরবনে মুক্তিপণের দাবিতে ট্রলারসহ ১২ জেলেকে অপহরণ করেছে বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনী। সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের ফুসফুসেরচর এলাকার নদী থেকে তাদের অপহরণ করা হয়। অপহৃতরা হলেন—পাথরঘাটার রুহিতা এলাকার ইয়াসিন, মাসুম, সেলিম, জাকির, হোসেন, তৌহিদ, ইয়াসিন, মাহবুব, হানিফ, হৃদয়, ইব্রাহিম ও সুমন। একই দিন রাত ১১টার দিকে সুন্দরবনসংলগ্ন খটকা খাল থেকে আরও ১৭ জেলেকে অপহরণ করা হয়। পাথরঘাটা থেকে পশ্চিমে সুন্দরবনের খটকা খাল এলাকায় এ অপহরণের ঘটনা ঘটে। অপহৃত জেলেদের বাড়ি বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার রুহিতা গ্রামে।

আরও পড়ুনঃ  ভারতে সর্বোচ্চ রাজনৈতিক সংকটে মোদি

বনদস্যুদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া জেলেরা: এর আগে ১৪ মে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জ থেকে অস্ত্রের মুখে আটজন জেলেকে অপহরণ করে বনদস্যু নানাভাই (ওরফে ডন বাহিনী) ও ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্যরা। চুনকুড়ি নদীর বিভিন্ন শাখা খাল, সুবদেব খাল, গুবদেব খাল ও ধান্যখালীর চর এলাকা থেকে তাদের অপহরণ করা হয়। অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তারা জেলেদের ধরে নিয়ে যায় এবং পরে মুক্তিপণ দাবি করে। অপহৃতদের মধ্যে রয়েছেন শ্যামনগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা নজরুল তরফদার (৪৫), আব্দুর রহমান (৩৫), আব্দুল হামিদ মোড়ল (৫০), আব্দুল আলিম গাজী (৪০), হাবিবুর রহমান (৪৮), আনোয়ারুল ইসলাম (৪২) এবং খুলনার কয়রা এলাকার আব্দুস সাত্তার ও শাহিনুর রহমান। সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালরা জীবিকার সন্ধানে গহীন বনে নির্বিঘ্নে যেতে চান। তারা সরকারের কাছে জীবনের নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন।

মুক্তিপণ দিয়ে ফিরে আসছেন যারা: সুন্দরবনে আবারও বনদস্যুরা ব্যাপক বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। প্রায় প্রতিদিনই তারা বনজীবীদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করছে। সম্প্রতি এ চিত্র গাণিতিক হারে বাড়ছে। নতুন করে গড়ে উঠেছে একের পর এক দস্যুবাহিনী। যারা বনের বিভিন্ন এলাকায় অস্ত্রসহ ঘোরাফেরা করে বনজীবীদের অপহরণ করছে। ১১ মে বিকেল থেকে ১৩ মে পর্যন্ত ধাপে ধাপে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপকূলসংলগ্ন সুন্দরবনে জলদস্যুদের হাতে অপহৃত ২০ জেলে ও মৌয়ালের মধ্যে ১৮ জন মুক্তিপণ দিয়ে বাড়ি ফেরেন। ৪ ও ৫ মে ‘আলিফ ওরফে আলিম বাহিনী’ ও ‘নানাভাই ওরফে ডন বাহিনী’ পরিচয়ে অস্ত্রধারী দস্যুরা সুন্দরবনের চুনকুড়ি নদীর গোয়ালবুনিয়া দুনের মুখ, ধানোখালির খাল, মামুন্দো নদীর মাধভাঙা খাল ও মালঞ্চ নদীর চালতে বেড়ের খাল এলাকা থেকে ২০ জন জেলে ও মৌয়ালকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। অভিযোগ রয়েছে, পরে তাদের মহাজন, সহযোগী ও পরিবারের সদস্যদের কাছে মুঠোফোনে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। কয়েক দফা দর-কষাকষির পর দাবিকৃত অর্থ কিছুটা কমিয়ে নির্ধারিত বিকাশ ও নগদ নম্বরে টাকা পাঠানো হয়। এরপর ধাপে ধাপে অপহৃতদের ছেড়ে দেয় দস্যুরা। তাদের মধ্যে মুরশিদ আলম ৭০ হাজার, করিম শেখ ১ লাখ ২০ হাজার, আবু ইসা ৫৫ হাজার, মমিন ফকির ৪৫ হাজার, আল-আমিন ২৫ হাজার, আবুল বাসার বাবু ৩০ হাজার, আবুল কালাম ৩০ হাজার, শাহাজান গাজী ৪০ হাজার, সিরাজ গাজী ৪০ হাজার, রবিউল ইসলাম বাবু ২০ হাজার, সঞ্জয় ২০ হাজার, আল-মামুন ২০ হাজার, হুমায়ুন ২০ হাজার, মনিরুল মোল্লা ২০ হাজার, রবিউল ইসলাম ২০ হাজার, হৃদয় মণ্ডল ২০ হাজার, আব্দুল সালাম ৪০ হাজার এবং ইব্রাহিম গাজী ৫৫ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিয়ে মুক্ত হন। সব মিলিয়ে প্রায় ৭ লাখ টাকা আদায় করেছে দস্যুরা।

৮ মে সুন্দরবনে বনদস্যুদের কবলে সাতদিন শিকলবন্দি হয়ে জিম্মি থাকার পর ৭ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১১ জেলে। বাড়ি ফেরা জেলেরা জানান, পূর্ব সুন্দরবনের আলোরকোল এলাকা থেকে বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনী ১১ জেলেকে অপহরণ করে। পরে তাদের পায়ে শিকল বেঁধে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখে। অপহরণের তিনদিনের মাথায় প্রতিদ্বন্দ্বী আরেক দস্যু গ্রুপ শরীফ বাহিনী জাহাঙ্গীর বাহিনীর সঙ্গে গোলাগুলি করে ১১ জেলেকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। পরে শরীফ বাহিনী তাদের সুন্দরবনের অজ্ঞাত একটি স্থানে আটকে রাখে। পরে মুক্তিপণ পেয়ে শরীফ বাহিনী নৌকায় করে ১১ জেলেকে সুন্দরবনের ধানসাগর আড়ুয়াবয়ার নদীর মোহনায় নামিয়ে দিয়ে যায়। সুন্দরবনে বনদস্যু সুমন বাহিনীর আত্মসমর্পণকারী সদস্যরা: খুলনার কয়রা উপজেলা থেকে মধু আহরণে সুন্দরবনে যাওয়া ১৩ জন মৌয়াল বনদস্যুর হাতে জিম্মি হয়ে দুই দিন আটক থাকার পর ৯ মে মুক্তি পান। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ দুলাভাই বাহিনী পরিচয় দেওয়া দস্যুরা তাদের মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং নৌকার সব মালামাল লুট করে নেয়। পরে ৮২ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিয়ে তারা ছাড়া পান। মুক্তিপণ দিয়ে ফিরে আসা ১৩ জন মৌয়াল হলেন কাটাখালী গ্রামের হারুন গাজী ও আবদুল গফুর গাজী, বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের শহিদুল ইসলাম, পরিমল চন্দ্র সরকার, চরণ সরকার, মালেক গাজী, আফতাব আলী, খোকন মণ্ডল, মহানন্দ মণ্ডল, কালাম গাজী, পিরআলী গাজী, খোদাবক্স গাজী ও হান্নান গাজী।

আরও পড়ুনঃ  নিজ সন্তানের জন্য হলেও ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন রাখুন: প্রধানমন্ত্রী

মুক্তিপাওয়া মৌয়ালরা জানান, ৭ মে বন বিভাগের বানিয়াখালী ফরেস্ট স্টেশন থেকে পাস-পারমিট নিয়ে তারা সুন্দরবনে যান। সন্ধ্যায় শিবসা নদী পেরিয়ে বনের কুমড়োকাঠি খাল এলাকায় পৌঁছালে অস্ত্রধারী দস্যুরা তাদের দুই নৌকা ঘিরে ফেলে। জঙ্গলের ভেতর থেকে অস্ত্র তাক করে নৌকা থামানো হয়। পরে দস্যুরা নিজেদের ‘দুলাভাই বাহিনী’ প্রথমে নৌকার সব টাকাপয়সা নিয়ে নেয় এবং পরে দেড় লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। দস্যুরা তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে বাধ্য করে। দস্যুরা চলে যাওয়ার সময় তাদের দলের একটি ভিজিটিং কার্ড দেয়। সেখানে থাকা ফোন নম্বরে ভবিষ্যতে সুন্দরবনে ঢোকার আগে যোগাযোগ করতে বলেছে। গত ২২ মে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের জাহাজ বিসিজিএস সোনার বাংলার নির্বাহী কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট শেখ সাদমান বিন মাহমুদ জানান, সুন্দরবনের দস্যু দয়াল বাহিনী ও বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর কাছে জিম্মি থাকা ২১ জেলেকে উদ্ধার করেছে কোস্টগার্ড পশ্চিম জোন। সুন্দরবন পূর্ব বনসংলগ্ন আন্দারমানিকের টোটা, কেওড়াতলা খাল ও শিবসা নদীর বড় দুদমুখ খালসংলগ্ন এলাকায় পৃথক দুটি অভিযান চালিয়ে এই জেলেদের উদ্ধার করা হয়। অভিযানের সময় একটি একনলা বন্দুক, ৫ রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও ১ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। মুক্তিপণ দিয়ে ফিরে আসা ব্যক্তিরা বলেন, মুক্তিপণের টাকার জন্য অপহৃতদের ওপর নির্মম নির্যাতন চালানো হয়। কাউকে কাউকে মেরে নদীতে ভাসিয়ে দিতেও দ্বিধা করে না তারা।

সুন্দরবনে যেসব বনদস্যুবাহিনী সক্রিয়
পূর্ব ও পশ্চিম সুন্দরবনে আবারও বেশ কয়েকটি বনদস্যু বাহিনী বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এসব বাহিনীর সদস্যরা অস্ত্রের মুখে নিরীহ বনজীবীদের জিম্মি করে লাখ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বনদস্যুরা বিভিন্ন নামে দল (বাহিনী) গঠন করে অপরাধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। এসব বাহিনীর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো জাহাঙ্গীর বাহিনী, ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনী, মানজুর বাহিনী, দাদাভাই বাহিনী, করিম-শরীফ বাহিনী, আসাবুর বাহিনী, দয়াল বাহিনী, রবি বাহিনী, দুলাভাই বাহিনী, রাঙ্গা বাহিনী, সুমন বাহিনী, ছোট সুমন বাহিনী, আনারুল বাহিনী, হান্নান বাহিনী, আলিফ বাহিনী ও নানাভাই/ডন বাহিনী। অনুসন্ধানে জানা যায়, এসব বনদস্যুরা বাগেরহাটের শরণখোলা, রামপাল, মোংলার জয়মনি, খুলনার দাকোপের কালাবগি, সাতক্ষীরার আশাশুনি ও শ্যামনগরের বাসিন্দা দস্যুবাহিনীর মধ্যে সুন্দরবনের কুখ্যাত বনদস্যু সুমন বাহিনীর প্রধানসহ সাত সদস্য বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের কাছে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আত্মসমর্পণ করেছে। ২১ মে মোংলার দিগরাজস্থ কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের প্রধান কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তারা আত্মসমর্পণ করেন। তাদের কাছ থেকে ৩টি দেশীয় একনলা বন্দুক, ২টি দেশীয় পাইপগান, ২৫ রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও ৩ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ জব্দ করা হয়। আত্মসমর্পণকারীরা হলেন—ডাকাত সুমন হাওলাদার (৩২), রবিউল মল্লিক (২৫), রফিক শেখ (২৯), সিদ্দিক হাওলাদার (৪০), গোলাম মল্লিক (৩৮), ইসমাইল খান (৩১) বাগেরহাট জেলার মোংলা থানার এবং মাহফুজ মল্লিক (৩৪) বাগেরহাট জেলার রামপাল থানার বাসিন্দা।

আরও পড়ুনঃ  ময়লার ভাগাড়ে সবুজের সমারোহ ডিসি ফরিদার উদ্যোগের প্রশংসায় প্রধানমন্ত্রী

বনবিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাষ্য
খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ বলেন, সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত রাখতে বন বিভাগের কর্মীরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দস্যু দমনে নিয়মিত কোস্টগার্ডের সঙ্গে বন বিভাগের স্মার্ট পেট্রোলিং টিম যৌথ অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযানও চালানো হচ্ছে। র‍্যাব-৬ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নিস্তার আহমেদ বলেন, দস্যুমুক্ত করার লক্ষ্যে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ড ও র‍্যাবের সমন্বয়ে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হয়। যখনই আমরা কোনো অপরাধের সন্ধান পাই, তখন কোস্টগার্ডকে অবহিত করি। আবার কোস্টগার্ড কখনো খবর পেলে আমাদেরও অবহিত করে। আমরা সমন্বিত পদ্ধতিতে অপরাধ দমনে কাজ করি। ২০১৮ সালের ১ নভেম্বর সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত’ ঘোষণা করার ক্ষেত্রে তৎকালীন সময়ে র‍্যাবের যে ভূমিকা ছিল, এখন তেমন নেই কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে র‍্যাবের এই অধিনায়ক বলেন, কম জনবলের কারণে বর্তমানে আগের মতো সুন্দরবনে অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হয় না। র‍্যাব-৬ এর সাড়ে চারশ জনবল আটটি জেলায় দায়িত্ব পালন করে থাকে, যা চাহিদার তুলনায় খুবই কম।

বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড কর্তৃক গত পাঁচ মাসে সুন্দরবনে কতটি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে, কতজন জলদস্যু/বনদস্যু গ্রেপ্তার হয়েছে, কতটি অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে এবং কতজন জিম্মিদশা থেকে মুক্ত হয়েছে, এমন প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার বিএন সাব্বির আলম সুজন বাংলানিউজকে বলেন, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দেশের উপকূলীয় ও নদীতীরবর্তী এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের দিকনির্দেশনায় সুন্দরবন অঞ্চলে সক্রিয় সব বনদস্যু বাহিনী নির্মূলের লক্ষ্যে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে ২১ মে পর্যন্ত সুন্দরবন এলাকায় ধারাবাহিকভাবে ২৪টি সফল অভিযান পরিচালনা করে ৩২ জন বনদস্যুকে আটক করা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া দস্যুদের হাতে জিম্মি থাকা মোট ৩০ জন জেলে, ২ জন পর্যটক এবং ১ জন রিসোর্ট মালিককে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও চিকিৎসাসহায়তা প্রদান শেষে নিরাপদে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

একই সময়ে দস্যুদের কাছ থেকে ৩১টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ১০ রাউন্ড তাজা গুলি, ১৯৪ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ২৯ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ এবং ১৮৭ রাউন্ড এয়ারগানের গুলি উদ্ধার করা হয়। তিনি আরও বলেন, সুন্দরবন এলাকার জনগণের নিরাপত্তা, জানমাল রক্ষা ও বনজ সম্পদ সংরক্ষণে কোস্ট গার্ড সর্বদা সচেষ্ট রয়েছে এবং দস্যুচক্রকে সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের কতটি টিম কাজ করে জানতে চাইলে সাব্বির আলম সুজন বলেন, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের অধীন সুন্দরবনে মোট ১৪টি স্টেশন/আউটপোস্ট রয়েছে। এসব স্টেশন/আউটপোস্ট থেকে সুন্দরবনে দস্যু দমন, বন্যপ্রাণী ও বনজ সম্পদ রক্ষা, চোরাচালান প্রতিরোধ, মাদক ও মানবপাচার রোধে নিয়মিত টহল পরিচালনা করা হয়। এছাড়াও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ধারাবাহিকভাবে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

ভাঙ্গুড়ায় অবৈধভাবে সার মজুদের অভিযোগ, গোডাউনের সামনে ছাত্রদলের বিক্ষোভ ও অনশন

সুন্দরবনে বাঘের চেয়েও বনদস্যুর ভয় বেশি

আপডেটের সময়: ০৫:১০:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সুন্দরবন আমরা ১২ জন এট্টা নৌকাতে মধু কাটতি যাচ্ছিলাম বনের মধ্যি। সাতক্ষীরা রেঞ্জের তক্তাখালির দিকি ঢুকতিই রহমত বাহিনীর দলের চ্যালা-ব্যালা আমারগা তুলে নেয়। অস্ত্রপাতি নে আমারগা জিম্মি করে রাখে। আমারগা কাছ এক লাক টাকা নেয়, তারপরে তাই আমারগা ছ্যাড়ে দেয়। টাকাদে যে আবার জঙ্গলে যাব, তারও কোনো গতিক নাই। সেরকম আর সাহসও নাই।কারণ আবার আরেক দল যদি আক্রমণ করে, তালি কী করব? আর বনে গেলি আবার ধরবে। তাই এবার এখনো মধু কাটতি যাইনি। আর এট্টা কোতা কি স্যার, আমারা যতদূর নাহ বাঘের ভয় পাই, তারচেয়ে বেশি এই বনদস্যুরগা ভয় পাই! সুন্দরবনের রহমত বাহিনীকে মুক্তিপণ দিয়ে মুক্তি পাওয়া সাতক্ষীরার শ্যামনগরের হরিনগরের বাসিন্দা আলামিন (ছদ্মনাম) এসব কথা বলেন। চলতি মে মাসের ১৪ তারিখ তিনি মুক্তি পান। তিনি আরও বলেন, আমরা জীবনের মায়া না করে এই জঙ্গলের মধ্যে থেকে মধু কেটে সংসার চালাই। সে পথও এখন বন্ধ। এলাকায় তেমন কোনো কাজও নেই। তাই খেয়ে না খেয়ে দিন যাচ্ছে! একই গ্রামের বাসিন্দা রফিক (ছদ্মনাম) বলেন, ভোটের এক সপ্তাহ আগে চারজন মিলে নৌকায় মাছ ধরতে গিয়েছিলাম সুন্দরবনে। পথে মাইটে ভাঙা এলাকায় ডন বাহিনী আমাদের তুলে নিয়ে যায়। ৪৭ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিয়েছি। তারপরও আমাকে ছাড়েনি। প্রথম দুই-তিন দিন ঠিকঠাক খাবারও দেয়নি। তাদের সব কাজকাম আমার মাধ্যমে করিয়েছে। এখন বনের মধ্যে যেতেই ভয় হয়। বন বিভাগের অনুমতি নিয়ে বনের মধ্যে মাছ-মধু সংগ্রহ করতে গেলেই জনপ্রতি ৫০ হাজার টাকা চাঁদা চায়। যা দেওয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব না।

 

২১ মে সুন্দরবনের কুখ্যাত বনদস্যু রহমত বাহিনীর হাত থেকে মুক্ত হওয়া শ্যামনগরের মুন্সীগঞ্জ এলাকার একজন মৌয়াল জানান, তিন দিন আগে তাদের সুন্দরবনের ফিরিঙ্গি নদীর মোল্লাখালি এলাকা থেকে রহমত বাহিনীর সদস্যরা অস্ত্রের মুখে নৌকা থেকে তুলে নিয়ে যায়। যদিও এই বাহিনীর সদস্যদের চাঁদা দিয়ে বনের মধ্যে মধু সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন ২৫/৩০ জন মৌয়াল। কিন্তু বনের মধ্যে যাওয়ার পর একই বাহিনীর আরেকটি দলও চাঁদার দাবিতে তুলে নিয়ে মারধর করে। পরে তাদেরও টাকা দিয়ে মুক্ত হতে হয়। খুলনার পাইকগাছার গড়ইখালী এলাকার এক জেলে বলেন, আমরা টাকা দিয়েও নিরাপত্তার মধ্যে নাই। আজকে এক গ্রুপকে টাকা দিচ্ছি, আগামীকাল আরেকটা নতুন গ্রুপ আসছে। বড় জাহাঙ্গীর বাহিনী, মামা-ভাগ্নে বাহিনী, করিম-শরীফ বাহিনী, দুলাভাই বাহিনী এদের কাছে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র আছে। একে-৪৭ আছে। হড্ডা, আদাচাকি, নিশানখালি এলাকায় এরা ওৎ পেতে থাকে। তিনি আরও বলেন, এবার মধু সংগ্রহ করতে পারিনি। । প্লিজ আমাদের নাম প্রকাশ করবেন না। কারণ আমাদের তো দস্যুদের মধ্যেই থাকতে হয়। নাম প্রকাশ করলে আমাদের মেরে ফেলবে। ২০ হাজার ৫০০ টাকা দিলে মুক্তি পাওয়া যায়। কিছুদিন আগে মাছ ধরতে গিয়েছিলাম, হড্ডা এলাকা থেকে আমাকে তুলে নিয়ে যায়। ১০ হাজার ২০০ টাকা দিয়ে ফিরে এসেছি। সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল আমার মতো প্রায় সবাই বেকার হয়ে আছি। সংসার চালাতে পারছি না।

দস্যুদের দিতে হয় অগ্রিম চাঁদা
সুন্দরবনের নদী-খাল থেকে মাছ, চিংড়ি, কাঁকড়া এবং বন থেকে মধু, মোম, গোলপাতা ও জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করেন কয়েক লাখ মানুষ। ২০১৮ সালের শেষের দিকে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত’ ঘোষণা করেছিল। এরপর দীর্ঘদিন বনে একধরনের শান্তি বজায় ছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে সুন্দরবন আবারও দস্যুদের নিরাপদ আস্তানায় পরিণত হয়েছে। তাদের অগ্রিম চাঁদা না দিয়ে বনে ঢুকলে বনজীবীদের জিম্মি করে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ আদায় করা হয়। চাঁদা আদায়ের জন্য আটক বনজীবীদের ওপর সীমাহীন নির্যাতন চালানো হয়। গত ১৯ মে গভীর রাতে পূর্ব সুন্দরবনে মুক্তিপণের দাবিতে ট্রলারসহ ১২ জেলেকে অপহরণ করেছে বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনী। সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের ফুসফুসেরচর এলাকার নদী থেকে তাদের অপহরণ করা হয়। অপহৃতরা হলেন—পাথরঘাটার রুহিতা এলাকার ইয়াসিন, মাসুম, সেলিম, জাকির, হোসেন, তৌহিদ, ইয়াসিন, মাহবুব, হানিফ, হৃদয়, ইব্রাহিম ও সুমন। একই দিন রাত ১১টার দিকে সুন্দরবনসংলগ্ন খটকা খাল থেকে আরও ১৭ জেলেকে অপহরণ করা হয়। পাথরঘাটা থেকে পশ্চিমে সুন্দরবনের খটকা খাল এলাকায় এ অপহরণের ঘটনা ঘটে। অপহৃত জেলেদের বাড়ি বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার রুহিতা গ্রামে।

আরও পড়ুনঃ  পদ্মা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় প্রজাতির মাছ

বনদস্যুদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া জেলেরা: এর আগে ১৪ মে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জ থেকে অস্ত্রের মুখে আটজন জেলেকে অপহরণ করে বনদস্যু নানাভাই (ওরফে ডন বাহিনী) ও ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্যরা। চুনকুড়ি নদীর বিভিন্ন শাখা খাল, সুবদেব খাল, গুবদেব খাল ও ধান্যখালীর চর এলাকা থেকে তাদের অপহরণ করা হয়। অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তারা জেলেদের ধরে নিয়ে যায় এবং পরে মুক্তিপণ দাবি করে। অপহৃতদের মধ্যে রয়েছেন শ্যামনগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা নজরুল তরফদার (৪৫), আব্দুর রহমান (৩৫), আব্দুল হামিদ মোড়ল (৫০), আব্দুল আলিম গাজী (৪০), হাবিবুর রহমান (৪৮), আনোয়ারুল ইসলাম (৪২) এবং খুলনার কয়রা এলাকার আব্দুস সাত্তার ও শাহিনুর রহমান। সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালরা জীবিকার সন্ধানে গহীন বনে নির্বিঘ্নে যেতে চান। তারা সরকারের কাছে জীবনের নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন।

মুক্তিপণ দিয়ে ফিরে আসছেন যারা: সুন্দরবনে আবারও বনদস্যুরা ব্যাপক বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। প্রায় প্রতিদিনই তারা বনজীবীদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করছে। সম্প্রতি এ চিত্র গাণিতিক হারে বাড়ছে। নতুন করে গড়ে উঠেছে একের পর এক দস্যুবাহিনী। যারা বনের বিভিন্ন এলাকায় অস্ত্রসহ ঘোরাফেরা করে বনজীবীদের অপহরণ করছে। ১১ মে বিকেল থেকে ১৩ মে পর্যন্ত ধাপে ধাপে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপকূলসংলগ্ন সুন্দরবনে জলদস্যুদের হাতে অপহৃত ২০ জেলে ও মৌয়ালের মধ্যে ১৮ জন মুক্তিপণ দিয়ে বাড়ি ফেরেন। ৪ ও ৫ মে ‘আলিফ ওরফে আলিম বাহিনী’ ও ‘নানাভাই ওরফে ডন বাহিনী’ পরিচয়ে অস্ত্রধারী দস্যুরা সুন্দরবনের চুনকুড়ি নদীর গোয়ালবুনিয়া দুনের মুখ, ধানোখালির খাল, মামুন্দো নদীর মাধভাঙা খাল ও মালঞ্চ নদীর চালতে বেড়ের খাল এলাকা থেকে ২০ জন জেলে ও মৌয়ালকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। অভিযোগ রয়েছে, পরে তাদের মহাজন, সহযোগী ও পরিবারের সদস্যদের কাছে মুঠোফোনে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। কয়েক দফা দর-কষাকষির পর দাবিকৃত অর্থ কিছুটা কমিয়ে নির্ধারিত বিকাশ ও নগদ নম্বরে টাকা পাঠানো হয়। এরপর ধাপে ধাপে অপহৃতদের ছেড়ে দেয় দস্যুরা। তাদের মধ্যে মুরশিদ আলম ৭০ হাজার, করিম শেখ ১ লাখ ২০ হাজার, আবু ইসা ৫৫ হাজার, মমিন ফকির ৪৫ হাজার, আল-আমিন ২৫ হাজার, আবুল বাসার বাবু ৩০ হাজার, আবুল কালাম ৩০ হাজার, শাহাজান গাজী ৪০ হাজার, সিরাজ গাজী ৪০ হাজার, রবিউল ইসলাম বাবু ২০ হাজার, সঞ্জয় ২০ হাজার, আল-মামুন ২০ হাজার, হুমায়ুন ২০ হাজার, মনিরুল মোল্লা ২০ হাজার, রবিউল ইসলাম ২০ হাজার, হৃদয় মণ্ডল ২০ হাজার, আব্দুল সালাম ৪০ হাজার এবং ইব্রাহিম গাজী ৫৫ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিয়ে মুক্ত হন। সব মিলিয়ে প্রায় ৭ লাখ টাকা আদায় করেছে দস্যুরা।

৮ মে সুন্দরবনে বনদস্যুদের কবলে সাতদিন শিকলবন্দি হয়ে জিম্মি থাকার পর ৭ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১১ জেলে। বাড়ি ফেরা জেলেরা জানান, পূর্ব সুন্দরবনের আলোরকোল এলাকা থেকে বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনী ১১ জেলেকে অপহরণ করে। পরে তাদের পায়ে শিকল বেঁধে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখে। অপহরণের তিনদিনের মাথায় প্রতিদ্বন্দ্বী আরেক দস্যু গ্রুপ শরীফ বাহিনী জাহাঙ্গীর বাহিনীর সঙ্গে গোলাগুলি করে ১১ জেলেকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। পরে শরীফ বাহিনী তাদের সুন্দরবনের অজ্ঞাত একটি স্থানে আটকে রাখে। পরে মুক্তিপণ পেয়ে শরীফ বাহিনী নৌকায় করে ১১ জেলেকে সুন্দরবনের ধানসাগর আড়ুয়াবয়ার নদীর মোহনায় নামিয়ে দিয়ে যায়। সুন্দরবনে বনদস্যু সুমন বাহিনীর আত্মসমর্পণকারী সদস্যরা: খুলনার কয়রা উপজেলা থেকে মধু আহরণে সুন্দরবনে যাওয়া ১৩ জন মৌয়াল বনদস্যুর হাতে জিম্মি হয়ে দুই দিন আটক থাকার পর ৯ মে মুক্তি পান। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ দুলাভাই বাহিনী পরিচয় দেওয়া দস্যুরা তাদের মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং নৌকার সব মালামাল লুট করে নেয়। পরে ৮২ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিয়ে তারা ছাড়া পান। মুক্তিপণ দিয়ে ফিরে আসা ১৩ জন মৌয়াল হলেন কাটাখালী গ্রামের হারুন গাজী ও আবদুল গফুর গাজী, বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের শহিদুল ইসলাম, পরিমল চন্দ্র সরকার, চরণ সরকার, মালেক গাজী, আফতাব আলী, খোকন মণ্ডল, মহানন্দ মণ্ডল, কালাম গাজী, পিরআলী গাজী, খোদাবক্স গাজী ও হান্নান গাজী।

আরও পড়ুনঃ  জাতীয় পতাকার মান রক্ষা করা সব সৈনিকের পবিত্র দায়িত্ব: প্রধানমন্ত্রী

মুক্তিপাওয়া মৌয়ালরা জানান, ৭ মে বন বিভাগের বানিয়াখালী ফরেস্ট স্টেশন থেকে পাস-পারমিট নিয়ে তারা সুন্দরবনে যান। সন্ধ্যায় শিবসা নদী পেরিয়ে বনের কুমড়োকাঠি খাল এলাকায় পৌঁছালে অস্ত্রধারী দস্যুরা তাদের দুই নৌকা ঘিরে ফেলে। জঙ্গলের ভেতর থেকে অস্ত্র তাক করে নৌকা থামানো হয়। পরে দস্যুরা নিজেদের ‘দুলাভাই বাহিনী’ প্রথমে নৌকার সব টাকাপয়সা নিয়ে নেয় এবং পরে দেড় লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। দস্যুরা তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে বাধ্য করে। দস্যুরা চলে যাওয়ার সময় তাদের দলের একটি ভিজিটিং কার্ড দেয়। সেখানে থাকা ফোন নম্বরে ভবিষ্যতে সুন্দরবনে ঢোকার আগে যোগাযোগ করতে বলেছে। গত ২২ মে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের জাহাজ বিসিজিএস সোনার বাংলার নির্বাহী কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট শেখ সাদমান বিন মাহমুদ জানান, সুন্দরবনের দস্যু দয়াল বাহিনী ও বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর কাছে জিম্মি থাকা ২১ জেলেকে উদ্ধার করেছে কোস্টগার্ড পশ্চিম জোন। সুন্দরবন পূর্ব বনসংলগ্ন আন্দারমানিকের টোটা, কেওড়াতলা খাল ও শিবসা নদীর বড় দুদমুখ খালসংলগ্ন এলাকায় পৃথক দুটি অভিযান চালিয়ে এই জেলেদের উদ্ধার করা হয়। অভিযানের সময় একটি একনলা বন্দুক, ৫ রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও ১ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। মুক্তিপণ দিয়ে ফিরে আসা ব্যক্তিরা বলেন, মুক্তিপণের টাকার জন্য অপহৃতদের ওপর নির্মম নির্যাতন চালানো হয়। কাউকে কাউকে মেরে নদীতে ভাসিয়ে দিতেও দ্বিধা করে না তারা।

সুন্দরবনে যেসব বনদস্যুবাহিনী সক্রিয়
পূর্ব ও পশ্চিম সুন্দরবনে আবারও বেশ কয়েকটি বনদস্যু বাহিনী বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এসব বাহিনীর সদস্যরা অস্ত্রের মুখে নিরীহ বনজীবীদের জিম্মি করে লাখ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বনদস্যুরা বিভিন্ন নামে দল (বাহিনী) গঠন করে অপরাধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। এসব বাহিনীর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো জাহাঙ্গীর বাহিনী, ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনী, মানজুর বাহিনী, দাদাভাই বাহিনী, করিম-শরীফ বাহিনী, আসাবুর বাহিনী, দয়াল বাহিনী, রবি বাহিনী, দুলাভাই বাহিনী, রাঙ্গা বাহিনী, সুমন বাহিনী, ছোট সুমন বাহিনী, আনারুল বাহিনী, হান্নান বাহিনী, আলিফ বাহিনী ও নানাভাই/ডন বাহিনী। অনুসন্ধানে জানা যায়, এসব বনদস্যুরা বাগেরহাটের শরণখোলা, রামপাল, মোংলার জয়মনি, খুলনার দাকোপের কালাবগি, সাতক্ষীরার আশাশুনি ও শ্যামনগরের বাসিন্দা দস্যুবাহিনীর মধ্যে সুন্দরবনের কুখ্যাত বনদস্যু সুমন বাহিনীর প্রধানসহ সাত সদস্য বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের কাছে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আত্মসমর্পণ করেছে। ২১ মে মোংলার দিগরাজস্থ কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের প্রধান কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তারা আত্মসমর্পণ করেন। তাদের কাছ থেকে ৩টি দেশীয় একনলা বন্দুক, ২টি দেশীয় পাইপগান, ২৫ রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও ৩ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ জব্দ করা হয়। আত্মসমর্পণকারীরা হলেন—ডাকাত সুমন হাওলাদার (৩২), রবিউল মল্লিক (২৫), রফিক শেখ (২৯), সিদ্দিক হাওলাদার (৪০), গোলাম মল্লিক (৩৮), ইসমাইল খান (৩১) বাগেরহাট জেলার মোংলা থানার এবং মাহফুজ মল্লিক (৩৪) বাগেরহাট জেলার রামপাল থানার বাসিন্দা।

আরও পড়ুনঃ  ময়লার ভাগাড়ে সবুজের সমারোহ ডিসি ফরিদার উদ্যোগের প্রশংসায় প্রধানমন্ত্রী

বনবিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাষ্য
খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ বলেন, সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত রাখতে বন বিভাগের কর্মীরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দস্যু দমনে নিয়মিত কোস্টগার্ডের সঙ্গে বন বিভাগের স্মার্ট পেট্রোলিং টিম যৌথ অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযানও চালানো হচ্ছে। র‍্যাব-৬ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নিস্তার আহমেদ বলেন, দস্যুমুক্ত করার লক্ষ্যে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ড ও র‍্যাবের সমন্বয়ে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হয়। যখনই আমরা কোনো অপরাধের সন্ধান পাই, তখন কোস্টগার্ডকে অবহিত করি। আবার কোস্টগার্ড কখনো খবর পেলে আমাদেরও অবহিত করে। আমরা সমন্বিত পদ্ধতিতে অপরাধ দমনে কাজ করি। ২০১৮ সালের ১ নভেম্বর সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত’ ঘোষণা করার ক্ষেত্রে তৎকালীন সময়ে র‍্যাবের যে ভূমিকা ছিল, এখন তেমন নেই কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে র‍্যাবের এই অধিনায়ক বলেন, কম জনবলের কারণে বর্তমানে আগের মতো সুন্দরবনে অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হয় না। র‍্যাব-৬ এর সাড়ে চারশ জনবল আটটি জেলায় দায়িত্ব পালন করে থাকে, যা চাহিদার তুলনায় খুবই কম।

বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড কর্তৃক গত পাঁচ মাসে সুন্দরবনে কতটি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে, কতজন জলদস্যু/বনদস্যু গ্রেপ্তার হয়েছে, কতটি অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে এবং কতজন জিম্মিদশা থেকে মুক্ত হয়েছে, এমন প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার বিএন সাব্বির আলম সুজন বাংলানিউজকে বলেন, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দেশের উপকূলীয় ও নদীতীরবর্তী এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের দিকনির্দেশনায় সুন্দরবন অঞ্চলে সক্রিয় সব বনদস্যু বাহিনী নির্মূলের লক্ষ্যে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে ২১ মে পর্যন্ত সুন্দরবন এলাকায় ধারাবাহিকভাবে ২৪টি সফল অভিযান পরিচালনা করে ৩২ জন বনদস্যুকে আটক করা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া দস্যুদের হাতে জিম্মি থাকা মোট ৩০ জন জেলে, ২ জন পর্যটক এবং ১ জন রিসোর্ট মালিককে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও চিকিৎসাসহায়তা প্রদান শেষে নিরাপদে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

একই সময়ে দস্যুদের কাছ থেকে ৩১টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ১০ রাউন্ড তাজা গুলি, ১৯৪ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ২৯ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ এবং ১৮৭ রাউন্ড এয়ারগানের গুলি উদ্ধার করা হয়। তিনি আরও বলেন, সুন্দরবন এলাকার জনগণের নিরাপত্তা, জানমাল রক্ষা ও বনজ সম্পদ সংরক্ষণে কোস্ট গার্ড সর্বদা সচেষ্ট রয়েছে এবং দস্যুচক্রকে সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের কতটি টিম কাজ করে জানতে চাইলে সাব্বির আলম সুজন বলেন, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের অধীন সুন্দরবনে মোট ১৪টি স্টেশন/আউটপোস্ট রয়েছে। এসব স্টেশন/আউটপোস্ট থেকে সুন্দরবনে দস্যু দমন, বন্যপ্রাণী ও বনজ সম্পদ রক্ষা, চোরাচালান প্রতিরোধ, মাদক ও মানবপাচার রোধে নিয়মিত টহল পরিচালনা করা হয়। এছাড়াও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ধারাবাহিকভাবে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।