Dhaka ০৯:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
কেরানীগঞ্জে নজরুলবর্ষ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক আসিফ সিরাজ রব্বানীর আর্থিক সহযোগিতায় হুইলচেয়ার বিতরণ টঙ্গীর কুখ্যাত মাদক স্পট ‘হাজির মাজার বস্তি’ গুঁড়িয়ে দিল রাজউক মানুষের কল্যাণে সাংবাদিকদের ভূমিকা অপরিসীম: মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা কুলাউড়ায় যানজট নিরসনে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের যৌথ উচ্ছেদ অভিযান মোহনপুরে নজরুল বর্ষের দেশব্যাপী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন মৌলভীবাজারে উত্ত্যক্তের শিকার হয়ে চলন্ত টমটম থেকে লাফ, কলেজছাত্রীর ২ দাঁত ভাঙল খাগড়াছড়িতে গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে নবাগত জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও সদস্যবৃন্দের মতবিনিময় সভা নাটোরের গুরুদাসপুরে অ্যাম্বুলেন্স ও কাভার্ডভ্যানের সংঘর্ষে আহত ৮ ট্রাক চাপায় প্রাণ গেল জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীর

লক্ষ্মীপুরে জমি নিয়ে বিরোধ আদালতে পাল্টাপাল্টি মামলা

কামরুল হাসান সদর লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার দালাল বাজার ইউনিয়নের মহাদেবপুর গ্রামে জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে আদালতে পাল্টাপাল্টি মামলা ও অভিযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় তাজুল ইসলামের ছেলে মো. সোহেল লক্ষ্মীপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে সিআর মামলা নং ১৩৭১/২০২৬ আজ রবিবার, ৩০ আগস্ট মামলা দায়ের করেছেন বলে জানা গেছে। মামলার নথি ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মহাদেবপুর এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে রফিকুল আলম স্বপন ও মো. সোহেলের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত। এর আগে গত ২৭ জুলাই ২০২৬ রফিকুল আলম স্বপন আদালতে ওই জমিতে ১৪৪ ধারা জারি ও নিষেধাজ্ঞার আবেদন করেন। আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করে সংশ্লিষ্টদের নোটিশ জারি করেন বলে দাবি করেছেন রফিকুল আলমের পক্ষ। রফিকুল আলমের অভিযোগ, আদালতের নোটিশ জারির পরও সোহেল ওই স্থানে নির্মাণকাজ অব্যাহত রাখেন। স্থানীয়ভাবে কাজ বন্ধ রাখার অনুরোধ করেও কোনো ফল হয়নি।

আরও পড়ুনঃ  ‎শিবগঞ্জে পৈতৃক জমি দখল করে বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ, প্রাণনাশের হুমকির দাবি

 

পরে বিষয়টি আদালতের নজরে আনা হলে সংশ্লিষ্ট থানাকে কাজ বন্ধ রাখার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে রফিকুল আলমের দাবি, আদালতের নির্দেশের পরও রাতের বেলায় সেখানে কাজ চালানো হয়েছে। অন্যদিকে, এ ঘটনায় সোহেল পাল্টা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় রফিকুল আলম, তার ছেলে মো. কাউছার এবং আত্মীয় শাকিল চৌধুরীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, লুটপাট ও শ্লীলতাহানিসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগকে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক বলে দাবি করেছেন অভিযুক্তরা। রফিকুল আলম বলেন, “জায়গা-জমি নিয়ে আমাদের সঙ্গে সোহেলের বিরোধ রয়েছে। আমরা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি। আদালতের রায় যা হবে, আমরা তা মেনে নেব।” অভিযুক্ত পক্ষের দাবি, সোহেলের সঙ্গে জমি সংক্রান্ত বিরোধ ছাড়া তাদের আর কোনো বিরোধ বা যোগাযোগ নেই। তারা আদালতে দায়ের করা মামলাকে বিরোধের জের হিসেবে দেখছেন।

আরও পড়ুনঃ  মাদক ঢুকিয়ে দেশকে মেধাশূন্য করার চক্রান্ত চলছে: পানিসম্পদ মন্ত্রী

 

এলাকাবাসীর কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জমি নিয়ে বিরোধের কারণে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেন, সোহেল দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন এবং বর্তমানে তার শ্বশুরবাড়ির এলাকায় বসবাস করছেন। তারা আরও অভিযোগ করেন, তিনি জমি কিনে সেখানে বাড়ির নির্মাণকাজ করছেন। একই সঙ্গে বাড়ির সামনের সরকারি জায়গা ভরাট করে রাস্তা তৈরিরও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবে সরকারি জায়গা দখল বা ভরাট এবং এ কাজে বিভিন্ন মহলে অর্থ দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া গেছে কি না, তা প্রতিবেদনের সময় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এসব অভিযোগের বিষয়ে সোহেলের বক্তব্যও জানা সম্ভব হয়নি। এদিকে, সংশ্লিষ্টরা জানান, এর আগেও একটি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে অভিযোগ ও মামলা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়েছিল। রফিকুল আলমের পক্ষের দাবি, ওই ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে করা অভিযোগ তদন্তে সত্য প্রমাণিত হয়নি।

আরও পড়ুনঃ  চিলমারীতে হেলথ কেয়ার এন্ড রিসার্চ সেন্টার উদ্ধোধন

 

তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট তদন্ত প্রতিবেদন বা আদালতের নথি যাচাই ছাড়া অভিযোগটির চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। জমি সংক্রান্ত বিরোধ এবং পাল্টাপাল্টি মামলার ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে এবং জমির প্রকৃত মালিকানা ও আইনগত অধিকার আদালতের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। ফলে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত কোনো পক্ষের অভিযোগকেই প্রমাণিত সত্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

 

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

কেরানীগঞ্জে নজরুলবর্ষ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

লক্ষ্মীপুরে জমি নিয়ে বিরোধ আদালতে পাল্টাপাল্টি মামলা

আপডেটের সময়: ০৬:৫৫:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

কামরুল হাসান সদর লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার দালাল বাজার ইউনিয়নের মহাদেবপুর গ্রামে জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে আদালতে পাল্টাপাল্টি মামলা ও অভিযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় তাজুল ইসলামের ছেলে মো. সোহেল লক্ষ্মীপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে সিআর মামলা নং ১৩৭১/২০২৬ আজ রবিবার, ৩০ আগস্ট মামলা দায়ের করেছেন বলে জানা গেছে। মামলার নথি ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মহাদেবপুর এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে রফিকুল আলম স্বপন ও মো. সোহেলের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত। এর আগে গত ২৭ জুলাই ২০২৬ রফিকুল আলম স্বপন আদালতে ওই জমিতে ১৪৪ ধারা জারি ও নিষেধাজ্ঞার আবেদন করেন। আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করে সংশ্লিষ্টদের নোটিশ জারি করেন বলে দাবি করেছেন রফিকুল আলমের পক্ষ। রফিকুল আলমের অভিযোগ, আদালতের নোটিশ জারির পরও সোহেল ওই স্থানে নির্মাণকাজ অব্যাহত রাখেন। স্থানীয়ভাবে কাজ বন্ধ রাখার অনুরোধ করেও কোনো ফল হয়নি।

আরও পড়ুনঃ  হবিগঞ্জ-মৌলভীবাজারে প্লাবনের শঙ্কা

 

পরে বিষয়টি আদালতের নজরে আনা হলে সংশ্লিষ্ট থানাকে কাজ বন্ধ রাখার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে রফিকুল আলমের দাবি, আদালতের নির্দেশের পরও রাতের বেলায় সেখানে কাজ চালানো হয়েছে। অন্যদিকে, এ ঘটনায় সোহেল পাল্টা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় রফিকুল আলম, তার ছেলে মো. কাউছার এবং আত্মীয় শাকিল চৌধুরীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, লুটপাট ও শ্লীলতাহানিসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগকে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক বলে দাবি করেছেন অভিযুক্তরা। রফিকুল আলম বলেন, “জায়গা-জমি নিয়ে আমাদের সঙ্গে সোহেলের বিরোধ রয়েছে। আমরা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি। আদালতের রায় যা হবে, আমরা তা মেনে নেব।” অভিযুক্ত পক্ষের দাবি, সোহেলের সঙ্গে জমি সংক্রান্ত বিরোধ ছাড়া তাদের আর কোনো বিরোধ বা যোগাযোগ নেই। তারা আদালতে দায়ের করা মামলাকে বিরোধের জের হিসেবে দেখছেন।

আরও পড়ুনঃ  গাজীপুরে পুলিশি অভিযানে আসামি ধরতে গিয়ে স্বর্ণ-টাকা উধাও?

 

এলাকাবাসীর কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জমি নিয়ে বিরোধের কারণে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেন, সোহেল দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন এবং বর্তমানে তার শ্বশুরবাড়ির এলাকায় বসবাস করছেন। তারা আরও অভিযোগ করেন, তিনি জমি কিনে সেখানে বাড়ির নির্মাণকাজ করছেন। একই সঙ্গে বাড়ির সামনের সরকারি জায়গা ভরাট করে রাস্তা তৈরিরও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবে সরকারি জায়গা দখল বা ভরাট এবং এ কাজে বিভিন্ন মহলে অর্থ দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া গেছে কি না, তা প্রতিবেদনের সময় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এসব অভিযোগের বিষয়ে সোহেলের বক্তব্যও জানা সম্ভব হয়নি। এদিকে, সংশ্লিষ্টরা জানান, এর আগেও একটি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে অভিযোগ ও মামলা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়েছিল। রফিকুল আলমের পক্ষের দাবি, ওই ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে করা অভিযোগ তদন্তে সত্য প্রমাণিত হয়নি।

আরও পড়ুনঃ  পত্নীতলায় ৮৯৭ পিস ট্যাপেন্টাডল সহ স্বামী-স্ত্রী আটক, মাদক নির্মূলে পুলিশের কঠোর বার্তা

 

তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট তদন্ত প্রতিবেদন বা আদালতের নথি যাচাই ছাড়া অভিযোগটির চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। জমি সংক্রান্ত বিরোধ এবং পাল্টাপাল্টি মামলার ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে এবং জমির প্রকৃত মালিকানা ও আইনগত অধিকার আদালতের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। ফলে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত কোনো পক্ষের অভিযোগকেই প্রমাণিত সত্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।