
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি : চাকরির প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় বিতর্ক ও সমালোচনার মুখে পড়া সিরাজগঞ্জ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা হারুন অর-রশিদকে খাদ্য অধিদপ্তরে বদলি করা হয়েছে। গত রবিবার (২৫ অক্টোবর) খাদ্য অধিদপ্তরের উপসচিব (সংস্থা প্রশাসন-১) মাহাবুর রহমান শেখ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই বদলির আদেশ জারি করা হয়।
সিরাজগঞ্জ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের দায়িত্বে থাকাকালীন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে। এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে ছিলেন।
এদিকে, একই প্রজ্ঞাপনে জামালপুর জেলার খাদ্য কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান খানকে সিরাজগঞ্জ জেলার নতুন ভারপ্রাপ্ত খাদ্য নিয়ন্ত্রক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনের নির্দেশনা অনুযায়ী, সোমবারের (২৬ অক্টোবর) মধ্যে তাকে বর্তমান কর্মস্থল সিরাজগঞ্জ থেকে অবমুক্ত হয়ে নতুন কর্মস্থল খাদ্য অধিদপ্তরে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় আগামী মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) তাকে তাৎক্ষণিকভাবে স্ট্যান্ড রিলিজ (তাৎক্ষণিক অবমুক্ত) করা হবে। খাদ্য বিভাগের একাধিক সূত্র এই বদলির আদেশ নিশ্চিত করেছে।
উল্লেখ্য, গত ১৯ অক্টোবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে ‘যেভাবে চাকরির প্রশ্নফাঁস নেটওয়ার্ক পরিচালনা করতেন হারুন’ শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে প্রশ্নফাঁসে তার জড়িত থাকার চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী হারুন ও তার সহযোগী বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের সহকারী পরিচালক সোহাগ ফকির দীর্ঘদিন ধরে এই চক্রটি পরিচালনা করে আসছিলেন। এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সোহাগ ফকিরসহ অন্তত আটজনকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করেছে। চক্রের অন্য সদস্যরা হলেন— বিসিএসআইআরের ডাটা এন্ট্রি অপারেটর কাজল আহমেদ, মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির সহকারী পরিচালক রাফিউল ইসলাম এবং ভরতখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক হরি প্রসাদ রায়। এই কেলেঙ্কারির পর থেকেই খাদ্য কর্মকর্তা হারুনকে নিয়ে দেশজুড়ে নানা আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
আরিফুল ইসলাম সুমন, স্টাফ রিপোর্টার,
সিরাজগঞ্জ
তাংঃ ২৬-১০-২০২৬ইং
প্রতিবেদকের নাম 


















