
মাসুদ রানা মাসুম, পার্বত্য ব্যুরো
বান্দরবান সদর হাসপাতালের নির্মাণাধীন ইউটিলিটি (সার্ভিস) ভবনে কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই নির্মাণ শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল পৌনে ১১টার দিকে হাসপাতাল চত্বরে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এ সময় সহকর্মীদের মৃত্যুর দৃশ্য দেখে মঈন উদ্দিন নামের আরেক শ্রমিক জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। তাকে একই হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
নিহত শ্রমিকরা হলেন—ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার উত্তর চরমঙ্গল এলাকার হজরত আলীর ছেলে মো. সাকিব (২২) এবং একই উপজেলার মোহাম্মদ আলী মাতব্বরের ছেলে মোহাম্মদ কামরুল হাসান (৩৫)। দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালের পাশে নির্মাণাধীন ভবনের তৃতীয় তলায় দুই শ্রমিকের মরদেহ পড়ে আছে।
বিদ্যুতের তীব্র তাপে তাদের শরীর ঝলসে গেছে এবং পুরো ভবনজুড়ে পোড়া গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী শ্রমিক মোহাম্মদ সালামত উল্লাহ ও মো. তুহীন জানান, কামরুল ও সাকিব মাচার ওপর দাঁড়িয়ে ভবনের নিচের ছাদে পলেস্তারার (প্লাস্টার) কাজ করছিলেন। এ সময় একটি অ্যালুমিনিয়ামের পাত্রে করে পলেস্তারার উপকরণ (মশলা) ওপরে তোলা হচ্ছিল। একপর্যায়ে পাত্রটি ভবনের পাশ দিয়ে যাওয়া উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বৈদ্যুতিক লাইনের সংস্পর্শে এলে পুরো মাচা বিদ্যুতায়িত হয়ে যায়। এতে দুজন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নিচে পড়ে যান এবং পরে বিদ্যুতায়িত পাত্রটিও তাদের ওপর পড়ে। ফলে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে বান্দরবান ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেন। এ বিষয়ে বান্দরবান ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল মান্নান আনসারী বলেন, বান্দরবান সদর হাসপাতালের সার্ভিস ভবনে কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই শ্রমিক নিহত হয়েছেন। খবর পেয়ে আমাদের টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। ভবনের পাশ দিয়ে যাওয়া বৈদ্যুতিক লাইনের অসাবধানতাবশত সংস্পর্শে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। পরিদর্শন শেষে বিস্তারিত কারণ জানা যাবে।”
দুর্ঘটনার বিষয়ে বান্দরবানের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ শাহীন হোসাইন চৌধুরী বলেন, ”নির্মাণাধীন ভবনে কাজ করার সময় দুই শ্রমিক কারেন্ট শট খেয়ে ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন। তাদের মৃত্যুর এই ভয়াবহ দৃশ্যটি কাছ থেকে দেখে মঈন উদ্দিন নামের আরেক সহকর্মী শ্রমিক সংজ্ঞা হারান। তাকে তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পুরো বিষয়টি পুলিশ তদন্ত করে দেখছে।” বান্দরবান সদর থানা পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের মরদেহ বর্তমানে হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া ও ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ দুটি তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের জন্য ভোলায় পাঠানো হবে। নির্মাণকাজে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কোনো ঘাটতি বা অবহেলা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনার পর হাসপাতাল এলাকা এবং নির্মাণাধীন ভবনের অন্য শ্রমিকদের মাঝে গভীর শোক ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
প্রতিবেদকের নাম 



















