
কামরুল হাসান সদর প্রতিনিধি, লক্ষ্মীপুর: লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার পৌরসভার বাঞ্ছানগর ৩ নম্বর ওয়ার্ডে পূর্ববিরোধের জেরে এক প্রবাসী ও তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে মারধর এবং প্রবাসীকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে একই বাড়ির কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আসমা আক্তার বাদী হয়ে আজ মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) লক্ষ্মীপুর মডেল থানায় মামলা করেছেন। মামলায় মাকছুদুর রহমানের তিন ছেলে বেলাল হোসেন (৪৮), মুরাদ হোসেন (৪০) ও জাকির হোসেন (৪২), দেলোয়ার হোসেনের ছেলে জিহাদ (২৪) এবং বিল্লাল হোসেনের স্ত্রী আনিকা বেগম (৪০)–কে আসামি করা হয়েছে। মামলাটি দণ্ডবিধির ১৪৩/৩২৩/৩০৭/৩২৬/৫০৬/৩৪ ধারায় করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাদী আসমা আক্তার, তাঁর স্বামী প্রবাসী জহির হোসেন এবং আসামিরা একই বাড়ির বাসিন্দা। জায়গা-জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এর জেরে এর আগেও মারধরের ঘটনা ঘটেছে বলে বাদীর দাবি। এজাহারে আরও বলা হয়, গত ১১ আগস্ট সন্ধ্যার দিকে বাদীর জা সাজু বেগমের ছোট ছেলে মারুপকে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আসমা আক্তারকে সাজু বেগমের ঘরের সামনে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে আসামিরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে উপস্থিত হয়ে তাঁকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় আনিকা বেগম তাঁকে ধাক্কা দিলে তিনি দেয়ালের সঙ্গে আঘাত পান বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
পরে আসমা আক্তার মোবাইল ফোনে তাঁর স্বামী জহির হোসেনকে খবর দিলে তিনি ঘটনাস্থলে আসেন। এজাহার অনুযায়ী, জহির হোসেন আসামিদের কাছে স্ত্রীকে মারধরের কারণ জানতে চাইলে বেলাল হোসেন ধারালো দা দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করেন। এতে তাঁর মাথায় গুরুতর কাটা জখম হয় এবং পাঁচটি সেলাই দিতে হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া জিহাদ জহির হোসেনের গলা চেপে ধরেন, মুরাদ হোসেন লাঠি দিয়ে তাঁর বাম কাঁধে এবং জাকির হোসেন পিঠের বাম পাশে আঘাত করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় বাদীকেও মারধর করা হয় বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে।
মামলার বাদী আরও অভিযোগ করেন, তাঁর স্বামী একজন প্রবাসী এবং ২৪ আগস্ট তাঁর বিদেশ যাওয়ার কথা ছিল। বিদেশযাত্রা বানচাল করার উদ্দেশ্যে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে বলে তিনি এজাহারে উল্লেখ করেন। তাঁদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে এসে তাঁদের উদ্ধার করেন বলে মামলায় বলা হয়েছে।
পরে আহত আসমা আক্তার ও জহির হোসেনকে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করেন। মামলার এজাহারে হাসপাতালের ভর্তি রেজিস্ট্রেশন নম্বর উল্লেখ করে জহির হোসেন ২১ আগস্ট থেকে ২২ আগস্ট পর্যন্ত চিকিৎসাধীন ছিলেন বলে জানানো হয়েছে। এ সময়ের চিকিৎসা-সংক্রান্ত কাগজপত্র ও জখমের স্থিরচিত্র মামলার সঙ্গে দাখিল করা হয়েছে বলেও বাদী দাবি করেছেন।
এদিকে, বর্তমানে আসামিরা তাঁদেরকে হত্যার হুমকি দিচ্ছেন বলেও মামলার বাদী অভিযোগ করেছেন।
লক্ষ্মীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, “আসমা আক্তার বাদী হয়ে থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন। মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব সাব-ইন্সপেক্টর মো. মহসিনকে দেওয়া হয়েছে। আসামিদের আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে।”
ঘটনার বিষয়ে সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জহির হোসেন দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে থাকেন এবং দুই পক্ষের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ রয়েছে। তবে মামলার বিষয়ে আসামিপক্ষের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাঁরা এলাকায় না থাকায় তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার অভিযোগ তদন্ত করে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিবেদকের নাম 


















