
মো. জালাল উদ্দিন, দেবিদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি: কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ৪নং সুবিল ইউনিয়নে প্রশাসনের নির্দেশ বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সরকারি রাস্তা দখল করে পাকা ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) দেওয়া কাজ বন্ধের নির্দেশনা অমান্য করে স্থানীয় এক প্রভাবশালী যুবলীগ নেতা বীরদর্পে এই নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। আর এই অবৈধ দখলদারিত্বের নেপথ্যে থেকে ইন্ধন জোগাচ্ছেন সুবিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি আনিসুল হক। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সুবিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকার জনসাধারণের চলাচলের একমাত্র সরকারি রাস্তাটির কিছু অংশ জোরপূর্বক দখল করে পাকা ভবনের কাজ শুরু করেন স্থানীয় যুবলীগ নেতা মো. মোছলেম উদ্দিন। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত এই জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি দখল হয়ে যাওয়ায় তা সংকুচিত হয়ে পড়েছে। ফলে ওই এলাকার কয়েকশ পরিবারের যাতায়াতে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সরকারি কর্মচারী হওয়া সত্ত্বেও দপ্তরি আনিসুল হক ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে অবৈধ দখলদার মোছলেম উদ্দিনকে পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষভাবে সহযোগিতা করছেন। এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুললে বা প্রতিবাদ করলে তাকে দপ্তরি আনিস ও তার লোকজন নানাভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিচ্ছেন বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এটি আমাদের এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের চলাচলের সরকারি পথ। এখন ক্ষমতার দাপটে সেই রাস্তা কেটে ভবন তোলা হচ্ছে। আমরা প্রতিবাদ করলে দপ্তরি আনিস আমাদের হুমকি দেয়।
একজন সরকারি চাকুরিজীবী হয়ে তিনি কীভাবে সরকারি সম্পত্তি গ্রাসে সহযোগিতা করেন, তা আমাদের বোধগম্য নয়।অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২৫ জুন (বৃহস্পতিবার)দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওই এলাকায় একটি সরকারি অভিযানে যান। এ সময় রাস্তা দখল করে ভবন নির্মাণের বিষয়টি তার দৃষ্টিগোচর হলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশ দেন। একই সাথে সরকারি সম্পত্তি ছেড়ে সম্পূর্ণ নিজস্ব সীমানার ভেতরে ভবন তৈরির কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন। কিন্তু প্রশাসনের এই আদেশকে তোয়াক্কাই করেনি দখলদার চক্র। স্থানীয়দের দাবি, ইউএনও এলাকা ত্যাগ করার পরদিনই প্রভাবশালী মহলের আশ্রয় ও দপ্তরি আনিসের প্রত্যক্ষ মদদে পুনরায় পুরোদমে কাজ শুরু করা হয়। এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত দপ্তরি আনিসুল হকের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। এদিকে, প্রশাসনের নির্দেশনা অমান্য করে সরকারি সম্পত্তি দখলের এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তারা অনতিবিলম্বে সরকারি রাস্তাটি পুনরুদ্ধার করতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং সরকারি বিধি লঙ্ঘন করে অপরাধে ইন্ধন জোগানোর দায়ে অভিযুক্ত দপ্তরি আনিসুল হকের বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
প্রতিবেদকের নাম 



















