
আব্দুর রাজ্জাক সরকার ,স্টাফ রিপোর্টার;গাইবান্ধা সদর উপজেলার বল্লমঝাড় ইউনিয়ন স্বাস্থ্য উপকেন্দ্রটি বর্তমানে চরম অব্যবস্থাপনা এবং নিরাপত্তাহীনতার মধ্য দিয়ে চলছে। গ্রামীণ জনপদের সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই উপকেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠা করা হলেও, বর্তমানে এটি নিজেই যেন রোগাক্রান্ত। সীমানা প্রাচীর না থাকায় পুরো ক্যাম্পাসটি যেমন অরক্ষিত হয়ে পড়েছে, তেমনি সেবার মান ভেঙে পড়ায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করছেন স্থানীয় সেবাগ্রহীতারা।
অরক্ষিত ক্যাম্পাস: গবাদিপশু ও বহিরাগতদের অভয়ারণ্যসরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই স্বাস্থ্য উপকেন্দ্রটির চারপাশে কোনো সীমানা প্রাচীর (প্রাচীর) নেই। সীমানা প্রাচীর না থাকায় প্রতিনিয়ত এখানে অবাধে ঢুকে পড়ছে গবাদিপশু। শুধু তাই নয়, সন্ধ্যার পর পুরো এলাকাটি অন্ধকার ও অরক্ষিত থাকায় বহিরাগত এবং মাদকসেবীদের আড্ডায় পরিণত হয় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। কোনো নৈশপ্রহরী বা পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা না থাকায় হাসপাতালের ভেতরের সরকারি সম্পত্তিও চুরির ঝুঁকিতে রয়েছে।
সেবার মান নিয়ে ক্ষোভ, মিলছে না ওষুধ
উপকেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন রোগীর সাথে কথা বলে জানা যায়, এখানকার চিকিৎসা ও সেবার মান এখন একদম নিম্ন পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছে। হাসপাতালে পর্যাপ্ত জনবল ও চিকিৎসকের অভাব রয়েছে।
নামেমাত্র খোলা থাকে: স্থানীয়দের অভিযোগ, উপকেন্দ্রটি নিয়মিত সময়ে খোলাই পাওয়া যায় না। সকালের দিকে কিছু সময়ের জন্য খোলা হলেও দুপুরের আগেই বন্ধ হয়ে যায়।ওষুধের সংকট: হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা জানান, সামান্য জ্বরের ওষুধ বা প্রাথমিক কোনো ওষুধও এখান থেকে পাওয়া যায় না। প্রায় সব ধরনের ওষুধই বাইরে থেকে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন গরিব ও দুস্থ রোগীরা।
সেবার মান নিম্নমুখী: প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম ও তদারকির অভাবে সাধারণ মানুষ এসে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকেও কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
স্থানীয়দের দাবি ও কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষের প্রাথমিক চিকিৎসার একমাত্র ভরসা এই উপকেন্দ্রটি। কিন্তু বর্তমানে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে এটি নামমাত্র টিকে আছে।ভুক্তভোগী এলাকাবাসী অনতিবিলম্বে বল্লমঝাড় ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রটির চারপাশে মজবুত সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, জনবল ও ওষুধ সরবরাহ করে সেবার মান আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন
প্রতিবেদকের নাম 



















