
মোঃরিফাত হোসেন, ঘোড়াঘাট দিনাজপুর প্রতিনিধি:
৮৮২ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রশস্ত ও সংস্কার করা গোবিন্দগঞ্জ-দিনাজপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের ঘোড়াঘাট অংশে বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত ও উঁচু-নিচু ঢেউয়ের সৃষ্টি হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এসব স্থানে কোনো ধরনের সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড বা নির্দেশক না থাকায় প্রতিদিন দুর্ভোগ ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা।
সোমবার (১৩জুলাই) সরেজমিনে দেখা যায়, ঘোড়াঘাট বাস টার্মিনাল থেকে হরিপাড়া হাট পর্যন্ত মহাসড়কের একাধিক স্থানে গর্ত তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক টানা বৃষ্টিতে গর্তগুলো পানিতে তলিয়ে থাকায় চালকদের জন্য ঝুঁকি আরও বেড়েছে। এর মধ্যে রানীগঞ্জ বাজারের ব্র্যাক অফিসসংলগ্ন সড়কের অংশটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কের এমন বেহাল অবস্থা থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড, ব্যারিকেড বা প্রতিফলক না থাকায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
মোটরসাইকেল চালক আব্দুল আলিম বলেন, তিনি প্রতিদিন রানীগঞ্জ বাজারে যাতায়াত করেন। বৃষ্টির সময় গর্তগুলো পানিতে ঢেকে থাকায় কোনটি গর্ত তা বোঝা যায় না। হঠাৎ গর্তে পড়ে মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কা থাকে।
মাইক্রোবাস চালক মেহেদী হাসান বলেন, সড়কের উঁচু-নিচু ঢেউ ও গর্তের কারণে প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালাতে হচ্ছে। বিশেষ করে রাত ও বৃষ্টির সময় পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। দ্রুত সংস্কার না হলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
সড়ক ও জনপদ (সওজ) দিনাজপুর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গোবিন্দগঞ্জ-দিনাজপুর ১০৬ কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়ককে ৪২ ফুট প্রশস্ত ও উন্নয়ন করতে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৮৮২ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। ২০১৮ সালের ১ জুলাই কাজ শুরু হয়ে ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রকল্পের কাজ শেষ হয়।
এ বিষয়ে সড়ক ও জনপদ (সওজ) দিনাজপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান বলেন, বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না। দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলো পরিদর্শন করিয়ে প্রয়োজনীয় সংস্কারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ অংশে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপনেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
প্রতিবেদকের নাম 



















