Dhaka ১০:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
জীবিকার সন্ধানে ঢাকায় গিয়ে ফিরলেন লাশ হয়ে, কাঁদছে নবাবগঞ্জ ১০৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট সহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা ডিবি দক্ষিণ পুলিশ ভেদরগঞ্জে সচেতন মা, আপনি সেরা মা—শ্রেষ্ঠ অভিভাবক পুরস্কার ২০২৬ ধামইরহাটে মিথ্যা অপপ্রচারের বিরুদ্ধে চেয়ারম্যান প্রার্থীর সংবাদ সম্মেলন গণতন্ত্রের ভিত্তিতে রচিত আল-কুরআনবিরোধী সংবিধানই সমাজ ও রাষ্ট্রের মূল সমস্যা: ইসলামী সমাজ লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত ভয়ে থমকে আছে গাজীপুরে বন উদ্ধার পত্নীতলায় মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে পুলিশ পলাশবাড়ীতে পুকুরে বিষ প্রয়োগে ৩ লক্ষ টাকার মাছ নিধনের অভিযোগ বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার ভারতের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে

কোনাবাড়ী সড়কে স্টিকার বাণিজ্যে’ মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৭:২৭:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
  • ১৫৪ সময় দেখুন

এস কে শুভ, স্টাফ রিপোর্টার গাজীপুর: ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা থেকে কোনাবাড়ী অংশে চলাচলকারী অটোরিকশা চালকদের কাছ থেকে ‘স্টিকার’ দেওয়ার নামে মাসিক চাঁদা আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। একটি সংঘবদ্ধ দালালচক্রের মাধ্যমে প্রতিটি অটোরিকশা থেকে মাসে তিন হাজার টাকা করে চাঁদা নেওয়া হচ্ছে বলে দাবি ভুক্তভোগী চালকদের। অভিযোগ অনুযায়ী, এই রুটে চলাচলকারী প্রায় ৩০০টি অটোরিকশা থেকে প্রতি মাসে অন্তত ১০ লাখ টাকা অবৈধভাবে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, চাঁদাবাজির এই কৌশল হিসেবে প্রতি মাসেই স্টিকারের নাম, রং ও নকশা পরিবর্তন করা হয়। কখনো “ফি-আমানিল্লাহ”, আবার কখনো “আলহামদুলিল্লাহ” লেখা স্টিকার বিতরণ করা হয় চালকদের মাঝে। এক মাসের স্টিকার পরের মাসে অকার্যকর হয়ে যাওয়ায় চালকরা প্রতি মাসেই নতুন করে টাকা দিয়ে স্টিকার নিতে বাধ্য হন। ভুক্তভোগী চালকদের অভিযোগ, এই মাসিক চাঁদা দুই কিস্তিতে আদায় করা হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা পরিশোধ না করলে সংশ্লিষ্ট অটোরিকশাকে মূল মহাসড়কে চলাচল করতে দেওয়া হয় না। ফলে অনেক চালক বাধ্য হয়ে সময়সাপেক্ষ এবং ঝুঁকিপূর্ণ সার্ভিস লেন ব্যবহার করছেন।

আরও পড়ুনঃ  ধামইরহাটে ৫৩তম গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ


‎নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অটোরিকশা চালক বলেন, “গত দুই মাসে হাবিবপুর এলাকার আরমান ও পল্লী বিদ্যুতের তারিকুলের মাধ্যমে স্টিকার নিয়েছিলাম। তখন হাইওয়ে পুলিশের সামনে পড়লেও স্টিকার দেখানোর পর আর কোনো সমস্যা হয়নি। কিন্তু এ মাসে টাকা না থাকায় স্টিকার নিতে পারিনি। এখন মূল সড়কে উঠতে পারছি না, বাধ্য হয়ে সার্ভিস লেন ব্যবহার করছি। আরও কয়েকজন চালক অভিযোগ করেন, আরমান ও তারিকুলসহ কয়েকজন ব্যক্তি দালাল হিসেবে মাঠে থেকে এই স্টিকার বিতরণ ও টাকা সংগ্রহের কাজ করেন। আদায়কৃত অর্থ থেকে তারা নির্দিষ্ট হারে কমিশন পান বলেও জানা গেছে। চালকদের দাবি—আদায়কৃত এই বিপুল অর্থের একটি অংশ স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তি, কয়েকজন সংবাদকর্মী এবং হাইওয়ে পুলিশের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে নাওজোড় হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাফর আলী খান বলেন, “কোনো রাজনৈতিক নেতা অটোরিকশার এই কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত নন। আগে আরমান নামে একজন এ কাজ করতেন। তবে আমি এই থানায় যোগদানের পরই সেই কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছি। বর্তমানে এ ধরনের কোনো অবৈধ কার্যক্রম চলছে না।

আরও পড়ুনঃ  ‎নারীকে বাঁচাতে গিয়ে খাদে প্রতিমন্ত্রীর গাড়ি, পরে হাসপাতালে নারীর মৃত্যু



‎ওসির এই দাবির বিপরীতে চালকদের অভিযোগ, বাস্তবে এখনও মহাসড়কে এই স্টিকার বাণিজ্য অব্যাহত রয়েছে। তারা বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে হাইওয়ে পুলিশ, জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করা প্রয়োজন। তদন্তে চাঁদাবাজির প্রমাণ মিললে এই দালালচক্রের মূল হোতাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা উচিত। অর্থনৈতিক ও আইন বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি কোনো অনুমোদন বা লিখিত নীতিমালা ছাড়া মহাসড়কে চলাচলের শর্ত হিসেবে স্টিকার ব্যবহার করে অর্থ আদায় করা ক্ষমতার অপব্যবহার ও সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজির শামিল। তাই জনস্বার্থে এই চক্রটির বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

আরও পড়ুনঃ  নাটোর পুলিশ লাইন্সের পুকুরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

জীবিকার সন্ধানে ঢাকায় গিয়ে ফিরলেন লাশ হয়ে, কাঁদছে নবাবগঞ্জ

কোনাবাড়ী সড়কে স্টিকার বাণিজ্যে’ মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ

আপডেটের সময়: ০৭:২৭:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

এস কে শুভ, স্টাফ রিপোর্টার গাজীপুর: ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা থেকে কোনাবাড়ী অংশে চলাচলকারী অটোরিকশা চালকদের কাছ থেকে ‘স্টিকার’ দেওয়ার নামে মাসিক চাঁদা আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। একটি সংঘবদ্ধ দালালচক্রের মাধ্যমে প্রতিটি অটোরিকশা থেকে মাসে তিন হাজার টাকা করে চাঁদা নেওয়া হচ্ছে বলে দাবি ভুক্তভোগী চালকদের। অভিযোগ অনুযায়ী, এই রুটে চলাচলকারী প্রায় ৩০০টি অটোরিকশা থেকে প্রতি মাসে অন্তত ১০ লাখ টাকা অবৈধভাবে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, চাঁদাবাজির এই কৌশল হিসেবে প্রতি মাসেই স্টিকারের নাম, রং ও নকশা পরিবর্তন করা হয়। কখনো “ফি-আমানিল্লাহ”, আবার কখনো “আলহামদুলিল্লাহ” লেখা স্টিকার বিতরণ করা হয় চালকদের মাঝে। এক মাসের স্টিকার পরের মাসে অকার্যকর হয়ে যাওয়ায় চালকরা প্রতি মাসেই নতুন করে টাকা দিয়ে স্টিকার নিতে বাধ্য হন। ভুক্তভোগী চালকদের অভিযোগ, এই মাসিক চাঁদা দুই কিস্তিতে আদায় করা হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা পরিশোধ না করলে সংশ্লিষ্ট অটোরিকশাকে মূল মহাসড়কে চলাচল করতে দেওয়া হয় না। ফলে অনেক চালক বাধ্য হয়ে সময়সাপেক্ষ এবং ঝুঁকিপূর্ণ সার্ভিস লেন ব্যবহার করছেন।

আরও পড়ুনঃ  ‎নারীকে বাঁচাতে গিয়ে খাদে প্রতিমন্ত্রীর গাড়ি, পরে হাসপাতালে নারীর মৃত্যু


‎নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অটোরিকশা চালক বলেন, “গত দুই মাসে হাবিবপুর এলাকার আরমান ও পল্লী বিদ্যুতের তারিকুলের মাধ্যমে স্টিকার নিয়েছিলাম। তখন হাইওয়ে পুলিশের সামনে পড়লেও স্টিকার দেখানোর পর আর কোনো সমস্যা হয়নি। কিন্তু এ মাসে টাকা না থাকায় স্টিকার নিতে পারিনি। এখন মূল সড়কে উঠতে পারছি না, বাধ্য হয়ে সার্ভিস লেন ব্যবহার করছি। আরও কয়েকজন চালক অভিযোগ করেন, আরমান ও তারিকুলসহ কয়েকজন ব্যক্তি দালাল হিসেবে মাঠে থেকে এই স্টিকার বিতরণ ও টাকা সংগ্রহের কাজ করেন। আদায়কৃত অর্থ থেকে তারা নির্দিষ্ট হারে কমিশন পান বলেও জানা গেছে। চালকদের দাবি—আদায়কৃত এই বিপুল অর্থের একটি অংশ স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তি, কয়েকজন সংবাদকর্মী এবং হাইওয়ে পুলিশের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে নাওজোড় হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাফর আলী খান বলেন, “কোনো রাজনৈতিক নেতা অটোরিকশার এই কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত নন। আগে আরমান নামে একজন এ কাজ করতেন। তবে আমি এই থানায় যোগদানের পরই সেই কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছি। বর্তমানে এ ধরনের কোনো অবৈধ কার্যক্রম চলছে না।

আরও পড়ুনঃ  রাঙ্গুনিয়ায় প্রবাসীর স্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু



‎ওসির এই দাবির বিপরীতে চালকদের অভিযোগ, বাস্তবে এখনও মহাসড়কে এই স্টিকার বাণিজ্য অব্যাহত রয়েছে। তারা বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে হাইওয়ে পুলিশ, জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করা প্রয়োজন। তদন্তে চাঁদাবাজির প্রমাণ মিললে এই দালালচক্রের মূল হোতাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা উচিত। অর্থনৈতিক ও আইন বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি কোনো অনুমোদন বা লিখিত নীতিমালা ছাড়া মহাসড়কে চলাচলের শর্ত হিসেবে স্টিকার ব্যবহার করে অর্থ আদায় করা ক্ষমতার অপব্যবহার ও সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজির শামিল। তাই জনস্বার্থে এই চক্রটির বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

আরও পড়ুনঃ  ধামইরহাটে ৫৩তম গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ