
জাহেদ কায়সার , চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি :
বন্দর রক্ষা কমিটি, স্কপসহ বিভিন্ন শ্রমিকসংগঠনের বিরোধিতার মুখে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) এবং এর সঙ্গে যুক্ত ওভারফ্লো কনটেইনার ইয়ার্ড ১৫ বছরের জন্য পরিচালনার দায়িত্ব পাচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ‘ডিপি ওয়ার্ল্ড’। এ লক্ষ্যে
৮ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে রেয়াতি (কনসেশন) চুক্তি সই হতে যাচ্ছে।
গত ১ অক্টোবর নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের ‘অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স অব সিপিএস নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল, ইনক্লুডিং ওভারফ্লো কনটেইনার ইয়ার্ড’ শীর্ষক পিপিপি প্রকল্পের আওতায় এই চুক্তির খসড়া নীতিগতভাবে অনুমোদন করা হয়।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় চুক্তির দর-কষাকষি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছালেও শ্রমিক আন্দোলন ও আলোচনা কমিটির আপত্তির মুখে গত ফেব্রুয়ারিতে এটি স্থগিত করা হয়। তবে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত জুনে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় পুনরায় ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে দর-কষাকষির নির্দেশ দিলে প্রক্রিয়াটি আবার গতি পায়।
চট্টগ্রাম বন্দরের চারটি প্রধান টার্মিনালের মধ্যে এনসিটি হলো সবচেয়ে বড়। বিদায়ী অর্থবছরে এই টার্মিনাল দিয়ে প্রায় ১৩ লাখ ৮৫ হাজার একক কনটেইনার ওঠানো-নামানো হয়েছে, যা বন্দরের মোট কনটেইনার পরিবহনের প্রায় ৪৪ শতাংশ। বর্তমানে টার্মিনালটি বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিচালিত চিটাগং ড্রাই ডক লিমিটেডের অধীনে রয়েছে এবং বিদেশি অপারেটরের কাছে সম্পূর্ণ হস্তান্তর না হওয়া পর্যন্ত তারাই এর পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে।
ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে এ চুক্তি স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনালগুলোতে আন্তর্জাতিক অপারেটর যুক্ত করার উদ্যোগ আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়ে। এর আগে পতেঙ্গা কন্টেনার টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সৌদি আরবভিত্তিক রেড সি গেটওয়ে টার্মিনালকে (আরএসজিটি)। পাশাপাশি চিটাগাং কন্টেনার টার্মিনাল (সিসিটি) পরিচালনার জন্যও আরএসজিটিকে নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করেছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়।
এদিকে এনসিটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে চট্টগ্রামে শ্রমিক-কর্মচারী ও বিভিন্ন সংগঠনের মধ্যে বিরোধিতা রয়েছে। গত ৫ অক্টোবর বন্দর ভবনের সামনে এনসিটি ও ওসিওয়াই ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়ার চুক্তির খসড়া বাতিলের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি ও ৭ অক্টোবর মশাল মিছিল কর্মসুচি পালন করা হয় এবং আগামী ১৩ অক্টোবর বন্দর চেয়ারম্যানের কার্যালয় ঘেরাওয়ের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদকের নাম 



















