
তৌহিদ-উল বারী, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম): বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে অংকুর বৃত্তি প্রকল্প-২০২৬। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) চট্টগ্রাম নগরের পাঁচটি কেন্দ্রে একযোগে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে মহানগরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চতুর্থ থেকে দশম শ্রেণির আনুমানিক ১৫ থেকে ২০ হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেয়। চট্টগ্রামের অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি মেধাবৃত্তি আয়োজন হিসেবে পরিচিত অংকুর শিশু-কিশোর সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংসদের চট্টগ্রাম উত্তর জোন এ পরীক্ষার আয়োজন করে। শিক্ষার্থীদের মেধার যথাযথ মূল্যায়ন, সৃজনশীলতার বিকাশ, নৈতিকতা চর্চা ও মেধাবী প্রজন্ম গঠনের লক্ষ্যে প্রতিবছরের মতো এবারও এ উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরীক্ষার বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন অংকুর বৃত্তি প্রকল্পের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নুরুন্নবী, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মীর আবুল কালাম, উপদেষ্টা মুমিনুল হক, আহ্বায়ক খুররম মুরাদ ও সদস্যসচিব আনোয়ার হোসেনসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। এ সময় তাঁরা অভিভাবকদের সন্তানদের সুশিক্ষার পাশাপাশি সৃজনশীল ও মেধাভিত্তিক কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করার আহ্বান জানান।
অংকুরের সদস্যসচিব আনোয়ার হোসেন বলেন, ১৯৮৫ সাল থেকে তরুণ ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে অংকুরের কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। শিক্ষার্থীরা যেন ছোট পরিসর থেকে বৃহত্তর পরিসরে নিজেদের মেধার বিকাশ ঘটাতে পারে এবং প্রতিযোগিতার এ যুগে নিজেদের যোগ্যতা যাচাইয়ের সুযোগ পায়, সেটিই তাঁদের উদ্দেশ্য। তিনি বলেন, অংকুর শুধু বৃত্তি পরীক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; খেলাধুলা, বিতর্ক এবং ইনডোর-আউটডোরসহ বিভিন্ন সৃজনশীল ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজনও করে থাকে। অংকুরের আহ্বায়ক খুররম মুরাদ বলেন, ১৯৮৫ সাল থেকে চট্টগ্রামে স্কুলশিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে কাজ করে যাচ্ছে অংকুর। এরই অংশ হিসেবে ২০০০ সাল থেকে বৃত্তি কার্যক্রম চালু করা হয়। দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে এ কার্যক্রম চলছে। এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া মেধাবীদের একটি অংশ পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছে এবং দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে। এভাবেই অংকুর গণমুখী কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে।
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মীর আবুল কালাম বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধার বিকাশ ঘটিয়ে দেশকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কাজ করছে অংকুর। মেধাবী জনপদ গঠনের পাশাপাশি দেশপ্রেমিক প্রজন্ম তৈরিতেও সংগঠনটি ভূমিকা রাখছে। বর্তমান সমাজে দেশপ্রেমের চর্চা আরও বাড়ানো প্রয়োজন। দেশের মাটি ও মানুষকে রক্ষায় আত্মত্যাগের মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। তিনি অংকুরের অগ্রযাত্রা আরও সমৃদ্ধ হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। অংকুর বৃত্তি প্রকল্পের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নুরুন্নবী বলেন, অত্যন্ত সুন্দর ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অংকুর মেধাবীদের প্রিয় ঠিকানা ও অভিভাবকদের আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছে। প্রচলিত বিভিন্ন বৃত্তি প্রকল্পের মধ্যে এটি একটি ভিন্নধর্মী উদ্যোগ, যা শিক্ষার্থীদের মেধা যাচাই ও বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিনি আরও বলেন, এ আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নিঃস্বার্থভাবে কাজ করেন। বর্তমান সময়ে স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে তরুণদের এমন অংশগ্রহণ প্রশংসনীয়। বৃত্তি পরীক্ষা বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য, কেন্দ্রপ্রধান, হল পরিদর্শক, শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জানান চট্টগ্রাম মহানগর উত্তর জোনের আহ্বায়ক খুররম মুরাদ। এদিকে, উৎসবমুখর পরিবেশে সন্তানদের নিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে পেরে সন্তোষ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন অভিভাবকেরা। তাঁরা শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রেখে অংকুরকে সব সময় তাঁদের পাশে থাকার আহ্বান জানান।
প্রতিবেদকের নাম 



















